ব্রেকিং নিউজ

মিন্নিরাই কিশোর তরুণদের ধ্বংসের মূল


জুঁই জেসমিন :: প্রেম করা পাপ নয়, কাউকে ঠকানোই মূলত পাপ। কেউ মানুক আর নাইবা মানুক,  দেশ ও সমাজ প্রান্তরে যা কিছু ঘটছে ভয়ংকর,  তা এই সমাজে মিন্নির মতো মেয়েদের জন্যই ঘটছে। নেশা থেকে পেশা শুরু করে কিশোর  তরুণদের পঙ্গু করার মূল অস্ত্র মিন্নী জাতীয় নারীরা। নারীরা যেমন জন্ম দিতে পারে তেমনি প্রলয়ও ঘটাতে পারে, কিছু কিছু নারী পারমাণবিক বোমার চেয়ে ভয়ংকর হয়ে সমাজকে নষ্ট ধ্বংস করে যাচ্ছে  যা আমরা কোনো ক্রমই টের পাচ্ছিনা। কিশোর গ্যাং কালচার কাদের জন্য আজ গড়ে উঠছে মূলত বহুরুপী মেয়েদের জন্যই। একজন কিশোরের মুখে মাদকের গন্ধ কার বা কাদের জন্য?  সমাজে দুষ্ট লোভাতুর নারীদের জন্য। এ জগতে যত নারী ধর্ষণ হয়েছে বা হচ্ছে এর পিছনে কোনো না কোনো সম্পর্কের যোগ সূত্রতো  আছেই ধর্ষকের সাথে। যা আমরা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করিনা।

নারীরা -নারী, পুতুল তো নয়, যে পুরুষেরা যা খুশি তা করবে?  একজন পুরুষের যেমন কামনা বাসনা আবেগী মন  আছে,  তেমনি কিন্তু নারীদেরও আছে।  আমি নারী, আমার চেয়ে নারীদের রূপ নির্ভয়ে প্রকাশ করার মতো সাহস কার কতটুকু আছে  জানিনা- কখনো সখনো কিছু কিছু মেয়ে দেখলে মনে হয়,  নারী নয় যেন আগ্নেয় শিখা বাহিরের কারুকাজ সুবাসিত পুষ্পে গাঁথা। এত রূপ যার একনাম বহুরূপী, এতো বেশি সুন্দর স্বপ্নিল জীবন জ্বেলে পুড়ে পঙ্গু করে চলে, একটার পর একটা ভাবা মুশকিল। আনন্দ উল্লাস আর ব্যক্তিস্বার্থের দৌড়ে এরা  কতসংখ্যক সম্পর্ক গড়ে তোলে তারা নিজেও জানেনা।

বাংলাদেশের বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় দিয়েছে আদালত৷ রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে৷ বেকসুর খালাস পেয়েছেন চার আসামি৷ ১৪ জন আসামী বা অপরাধীরই বয়স আঠারোর নীচে। শুধু মাত্র একটি নারীর কারণে এতো গুলো কিশোর তরুণের জীবন নষ্ট, এতো গুলো পরিবার অসহায় অশান্তি লণ্ডভণ্ড!  বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ৷

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে৷ ওই ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়৷ দুই জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন৷

রায়ে আদালত বলেছে, মিন্নি যে তার স্বামীকে হত্যার ‘ষড়যন্ত্রে’ যুক্ত ছিলেন, প্রসিকিউশন তা ‘প্রমাণ করতে পেরেছে’৷

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমার মেয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার৷ আমরা আপিল করবো। উচ্চ আদালতে যাবো!” অপরাধী বা অপরাধীর পরিবার এতো অপরাধ জানার পরও সাজা বা রায় মেনে না নিয়ে কোন বিবেকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার নাম মূখে আনে নির্লজ্জের মতো -? বুঝিনা!

মেয়েদের কারণেই ছেলেরা সন্ত্রাসী হচ্ছে হ্যাঁ একদম তাই, রিফাত হত্যার ঘটনাতে অসংখ্য যুবকের ভারী ভাবনা, বর্তমান সমাজে মেয়েদের একাধিক বয় ফ্রেন্ড। যেই মেয়েটিকে আজ বা কাল বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসবে। রিফাতের মতো তারও যে মৃত্যু ঘটবে না তার কি নিশ্চয়তা?

এখন প্রশ্ন একজন ছেলে সন্ত্রাসী কেন হয়, কেন সে খুনি হয় ? ভাবা জরুরী। খারাপ কিন্তু কেউই হতে চায় না, পাপীরাও পাপকে ঘৃণা করে, তা জানা সত্তেও কেন কি কারণে ভয়ংকর হয়ে উঠে সন্ত্রাসী নামে ওরা । একটি ছোট্ট ঘটনা বলি, চার বছর পূর্বে পরিবার পরিকল্পনার এক প্রজেক্টে জীবন যাত্রার মান নির্ণয়ের জন্য সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার সহ বান্দরবন পর্যন্ত যাই সাতজন মিলে আমরা । আমাদের দলের মধ্যে দুজন পুরুষ ছিলেন, তার মধ্যে একজন সুপারভাইজার। বাকি পাঁচজন মেয়ে, তিনজন ছিলো খুব স্মার্ট ও খুব সুন্দরী, তার মধ্যে লাকি বেশ পর্দানশীন, শত ব্যস্ততার মাঝেও নামাজ আদায় করতো।

লাকির চলাফেরা কথাবার্তা সবাইকে মুগ্ধ করে। সিলেটের ‘পাঁচভাই’ নামক হোটেল থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে যখন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বের হই, লাকি চাপা জিন্স পেন্ট আর ফতোয়া পরে বের হয়। আমরা অবাক হই, তার পোশাক দেখে। সুপারভাইজারকে মিষ্টি মিষ্টি সুরে বলতে থাকে, ভাইয়া আমার খুব সুন্দর করে সব ছবি তুলবেন কিন্তু। ক্রমশ, গুটি কয়েক দিনের মধ্যে সুপারভাইজার তার প্রেমে পড়ে ফাগুন ফুলে ভাসে। প্রেমে পড়াই স্বাভাবিক এতো সুন্দর দেখতে লাকিটা। যা হোক এক সাথে খাওয়া, একসাথে সমুদ্র সৈকতে গোসল করা, গাড়িতে এক সিটে লম্বা জার্নিতে যাতায়াত, সব মিলে তাদের দেখে মনে হচ্ছিল যেন হানিমুনে আসা হয়েছে। যেই লাকির মাথায় হিজাব দেখি ট্রেনিং সেমিনারের দিন গুলোতে, বান্দরবন, নীলগিরি, নীলাচলে তার গলায় ওড়না পেঁচানো আর পুরো বুক উদম আকডুম বাকডুম।

বাড়ি ফেরার সময় আবার বোরকার মধ্যে নিজেকে ঢেকে ফেলে। মেয়েটা যাবেদ ভাইয়ের কাছে এতো বেশি কেনাকাটা করে নেয় ভাবার বাইরে। এক মাসের টুর থেকে যখন ঢাকায় আসি, দুদিন বাদেই জাবেদ ভাই আমায় ফোন দেয় লাকির ব্যাপারে। লাকি নাকি ভাল করে কথা বলে না, ফোন ধরেনা, ব্যস্ততা ভাব দেখায়। এক বস্তা অভিমান মিশ্রিত অভিযোগ । লাকির সাথে আমি এক বিছানায় ঘুমিয়েছি সে রোজ রাতে তার কোন এক স্যারের সাথে দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলতো। যা হোক শেষ মেশ লাকিকে ফোনেও পর্যন্ত পায়নি জাবেদ ভাই, তার মানে লাকি অন্য সিম ব্যবহার করে। জাবেদ ভাই এক রকম পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে। লাকির স্মৃতি তার দুচোখ জুড়ে হৃদয় ঘিরে, এতোটা লাকিকে ভালবেসে ফেলেছিল। বেচারা আর অনার্স ফাইনাল দিতে পারেননি, সেই থেকে জাবেদ আর জাবেদ নেই! গ্রাস করে নিয়েছে লাকি তার সোনালি স্বপ্নিল জীবন। এখন আপনারাই বলুন এমন জাবেদরা সন্ত্রাস হবে, নাকি মানুষ হবে ? নাকি বলবেন কাউকে ভালোবাসা পাপ বা অন্যায়- কোনটি ?

রিফাত হত্যাকারী নয়ন ‘সন্ত্রাসী’, নয়ন বন্ড মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ী, অনেক মেয়েকে উত্তপ্ত করে, মানলাম। আমার প্রশ্ন এতো মেয়ে বাদে এক বিবাহিতা নারী মিন্নির পিছনে কেন লাগলো ? একজন মানুষের মধ্যে কতটা রাগ কতটা ক্ষোভ থাকলে ভয়ংকর হয়ে উঠে? প্রকাশ্যে দিবালোকে খুন করতে পারে? ভিডিও চিত্রে যে এলোপাথাড়ি ভাবে রিফাতকে কোপ মারা হয় এর মধ্যে মিন্নি কেন ক্ষত হয়নি বিন্দু মাত্র ?

পুরোটা সাজানো পরিকল্পনা ছিলো না তো শুধু মাত্র রিফাতকে শেষ করার ? একমাত্র আসল রহস্য মিন্নিই বলতে পারে… শেষমেশ আসল রহস্য বেড়িয়ে এলো সতের মাসের গর্ভে। পুরোটাই ছিলো সাজানো পরিকল্পনা রিফাতকে শেষ করার। যার স্বামী রক্তে রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত শরীর, আর সে আসে খুব স্বাভাবিক ভাবে। স্বামীকে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে মিন্নি ব্যাগ আর জুতো খোঁজ করে নিজের, ঘটনাস্থলে। ভিডিও ফুটেজ একাধিকবার মন দিয়ে দেখলেই স্পষ্ট বুঝা যাবে সত্যিকার অপরাধী কে বা কারা?
ভাবছেন  আমি কার পক্ষ নিয়ে কথা বলছি  নারী হয়ে ? পক্ষ, মোটেও না, সবাই যা ভাবছেন আমিও তাই ভাবছি, কতটা অমানবিক হলে এমন কাজ করতে পারে -? তাও আবার প্রকাশ্যে–!

নারীরা যেমন জন্ম দিতে পারে তেমনি প্রলয়ও ঘটাতে পারে, কিছু কিছু নারী পারমাণবিক বোমার চেয়ে ভয়ংকর হয়ে সমাজকে নষ্ট ধ্বংস করে যাচ্ছে  যা আমরা কোনো ক্রমই টের পাচ্ছিনা।

সমাজে এমন কিছু নারী তাদের বিলাসিতা এবং সোসাইটি মেইন্টেইনের জন্য, কেরিয়ারের জন্য চায় অঢেল অর্থ  আর এসবের জন্য প্রয়োজন একগুচ্ছ টাকাওয়ালা পুরুষ ক্ষমতাধারী পুরুষ। আবার ভাল সুন্দর স্বামীও লাগে। এতো মিষ্টতা এতো মধুরতা এতো ঠান্ডা,  দেখে মনেই হবেনা এই নারীরা এতো আগুন,  ছলনাময়ী। কেন এমন করে বুঝিনা! আজ এই রমণীদের জন্যই জাবেদের মতো পুরুষরা ধর্ষক হয়ে জন্ম নিচ্ছে বাংলার মানচিত্রে। শুধু তাই নয় পরিবারে দেখছে কলহ, বাবা মায়ের মাঝে দেখছে বিচ্ছিন্নতা দেখছে তাদের পরকীয়া । কি করে সন্তান ভাল হবে? সন্ত্রাস কারা বানাচ্ছে ? কাদের জন্য হচ্ছে খুনি ধর্ষক অপরাধী ? ভাবুন তবে। পুরুষেরা সব কিছুর বিনিময়ে চায় নারীর সেবা সোহাগ আর দেহ। আর নারীরা চায় অর্থ। তা না হলে ভাবুন একজন সত্তর বা আশি বছর বয়সী পয়সাওয়ালার ঘরে কিশোরী বউ কেন ? বুড়োকে দেখে বিয়ে করে কি ? নাকি বিয়ে করে তার সম্পদ দেখে? নিশ্চয় সম্পদ দেখে।

সমাজে শত বেকার যুবক বউ পায়না, বিয়ে করতে পারেনা, আর পয়সাওয়ালা বুড়োরা কচি প্রেমিকা,কচি বউ নিয়ে নন্দনপার্কে নাগর দোলায় দোলে। আমি বলতে পারি মেয়েদের কারণে ছেলেরা আজ সন্ত্রাসী পথ বেছে নিচ্ছে অনেকটা।

বিচার নাই দেশে। এ ব্যাপারে জনগণের বেশ হুলিয়া, শ্লোগান। কোন বিচার হবে, কিসের বিচার হবে ? বাপের সম্পত্তি ডিস্কো নারীদের পেছনে শেষ করে দুভাগ, আর খুন খারাপি করে ধরা পরে প্রশাসন তথা নেতাফেতাদের খাওয়ায় অবশিষ্ট। বিচার করা আর কী লাগে? কেন দিন দিন অপকর্ম চলছে কেন খুন হচ্ছে কেন ধর্ষণ হচ্ছে, কেন হচ্ছে সন্ত্রাসী – কাদের জন্য হচ্ছে, কারা বানাচ্ছে ? মাদকদ্রব্য ব্যবসার বড় হাত কাদের, সমাজের ক্ষমতাবান সাহেবরা না সাধারণ মানুষ? এর গোড়া জানা দরকার। এবং সচেতন মূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সমাজে যা কিছু ঘটছে, ফাটছে ফুটছে, জ্বলছে পুড়ছে সব কিছুর মূলে নারী। নারীদের যা অধিকার দেওয়া হয়েছে তা সঠিক ভাবে তারা কাজে না লাগিয়ে পুরুষদের ইচ্ছে মতো ব্যবহার করে পুরুষদেরকেই অপরাধী বানিয়ে সমাজে কলংকিত করে চলছে। একজন স্কুল পড়ুয়া কলেজ পড়ুয়া ছাত্র কেন নেশায় আসক্ত, কী কারণ ? একটু ফিল্ডে নামে দেখুন।

ফাঁসি সাজাটাও আমার কাছে খুব একটা স্বস্তিকর নয় কেননা কেননা ফাঁসিতে কতটুকু বেদনা জ্বালা যন্ত্রণার স্বাদ পাবে? চরম যন্ত্রণা দিয়ে মৃত্যু দেওয়া উত্তম। ভয়ংকর খুনি বা অপরাধীদের জন্য জেল জরিমানা বা ফাঁসি নয়, তাদের জন্য জানোয়ারখানা প্রয়োজন।

হ্যাঁ, আর নয় খুনি ও ধর্ষকদের রিমান্ড বা যাবৎজীবন ফাঁসি। তাদের জন্য জানোয়ারখানা গড়ে তোলা হোক। কত কাল ধরে তো অপরাধীদের ফাঁসি, রিমান্ড, যাবৎজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে ? বন্ধ হয়েছে কি ধর্ষণ ? খুন, লুটপাট হাঙ্গামা ? বন্ধ হয়নি । সব শেষ নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ এলাকায় ধর্ষণ  থেকে বাচঁতে মসজিদে আশ্রয় নিতে হয় এক কিশোরীকে। তাহলে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কোথায় যাচ্ছে। এখন বলতে পারেন ‘জানোয়ারখানা’ কেন? জেলখানা তো আছেই? হ্যাঁ আছে। তবে তা জেলখানা নয়, আরামখানা। একজন অপরাধী অপরাধ করার আগে গর্ব করে বলে ” শালার যা হবে হোক, খুন করে জেলে বসে খাবো। জেলখানা শব্দটা কারো কারো মাঝে ভীতির কাজ করে না, করবে কেন? সকাল বিকাল ব্যায়াম, সময় মত খাওয়া আর বাগানে জল দেওয়া- এটা অপরাধীদের আরাম না সাজা আপনারাই বলুন? ক’জন মানুষ অপরাধীকে দেখে আসতে পারি ? দেখার সুযোগ ও আইন উন্মুক্ত ভাবে নেই।

একজন খুনি, ধর্ষক, কেন পর্দার আড়ালে থাকবে? কেন উন্মুক্ত ভাবে খুনিদের দেখে আসতে পারিনা কেউ ? দিনে দিনে দশজন করে কেউ খুনি বা ধর্ষককে দেখতে যান,দেখবেন লজ্জায় চোখ তুলে তাকাতে পারবেনা কোনো অপরাধী নিজ অপকর্মের জন্য। এতে তাদের বিবেকের জন্ম হবে লজ্জায়,আর নতজানু হবে ভুলের জন্য। আর ফাঁসি দেওয়া মানেই মুক্তি। ফাঁসিতে কয়েক সেকেণ্ডে, অপরাধী কি করে বুঝবে যন্ত্রণার ভয়াবহ স্বাদ? বুঝবেনা! তিলে তিলে যন্ত্রণা দেওয়া উত্তম বিচার। আর এই জন্য চিড়িয়াখানার মতো জানোয়ার খানার প্রয়োজন। শিশু কিশোর সহ সকল শ্রেনীর মানুষ জানোয়ারখানা গিয়ে দেখুক রোজ; জঘন্য কাজ করলে- কেমন সাজা হতে পারে ! এমনটি করলে আজকের মানব শ্রেণীর কেউই অপরাধী ও ধর্ষক হয়ে উঠবে না।

মানুষ রূপী জানোয়ারদের পোষাক হবে কালো আর প্রত্যেকের পোষাক তথা গেঞ্জির বুকে লেখা থাকবে খুনি বা ধর্ষক শব্দটা সহ তাদের নাম- যেমন-:  যেমন অপরাধী মিন্নি, খুনি সিরাজউদ্দোল্লা বা ধর্ষক সিরাজউদ্দোল্লা। আর তাদের খাদ্য হবে পশুদের আহার, চায়ের চুমুকের বদল রোজ চাবুক। এসব দেখে বাকি কেউই ভুল পথে যাবে না। প্রত্যেক শিশু কিশোরদের বছরে দু বার আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘জানোয়ারমেলা’ গিয়ে অপরাধীদের দেখে নিয়ে আসা ও তাদের কু’কর্মের ইতিহাস জানানো এমন আইন পাশ হলে আগামীর কোন শিশু, কিশোর, তরুণ ভুল পথে যাবেনা। কেউই হবেনা ধর্ষক, হবেনা খুনি, হবেনা কোনো অপরাধী তাদের খাদ্য ও অবস্থান দেখে। জানোয়ারখানার পাশে বিজ্ঞান মেলা বা ‘সৃষ্টির আসর’ নামে প্রতিদিনের মেলা করার ব্যবস্থা হলে আরও ভাল হবে -কারণ শিশু কিশোর নতুন নতুন আবিষ্কার দেখে নিজেকে আবিষ্কার করার স্বপ্ন দেখতে পারবে।

জুঁই জেসমিন

আমরা দৈনন্দিন যা ব্যবহার করি বা উপভোগ করি, ক’জন বলতে পারবো, টেলিভিশন কার আবিষ্কার, বিমান কার আবিষ্কার বা মোবাইল ফোন কার আবিষ্কার – বৈদ্যুতিক বাতি কে আবিষ্কার করেছেন? বেশির ভাগই বলতে পারবোনা! দিনের পর দিন ধর্ষণ খুন এসব থেকে পরিত্রানের বড় সমাধান হলো জানোয়ার খানার ব্যবস্থা। আর শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে নিজেকে বিকশিত করার আয়না হলো ‘সৃষ্টির আসর’। জানোয়ারখানা, আর সৃষ্টির আসর- দলে দলে মানুষ দেখে আসবে। জান্নাত আর জাহান্নাম আমরা মুখে শুনেছি মাত্র! এবার দুনিয়ার ‘জানোয়ারখানা’ আর সৃষ্টির আসর’ বলে দেবে জান্নাত কী আর জাহান্নাম কী—? এতে প্রমাণ হবে কবি শেখ ফজলল করিমের সেই আলোচিত কবিতা – কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর ? মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর।”

 

লেখক: মানবাধিকার কর্মী। ইমেইল: [email protected]

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রিয় শিক্ষকের মৃত্যুতে ঢাবি শিক্ষার্থীর আবেগঘন চিঠি

আরিফ চৌধুরী শুভ :: হারিয়েছি না হেরে গেছি আমরা? আ্যাম্বুলেন্স চলছে সারেইন ...