ডেস্ক নিউজ :: মার্কিন সাংবাদিক জেমস ফলিকে শিরশ্ছেদ করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্টিভেন সটলফ নামের আরেক মার্কিন সাংবাদিকের শিরশ্ছেদের ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে ইরাকের সুন্নি বিদ্রোহী গ্রুপ ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

৩১ বছর বয়স্ক  সটলফকে ২০১৩ সালে সিরিয়া থেকে অপহরণ করা হয়।

একই সঙ্গে আইএস বলেছে, তাদের হাতে ডেভিড ক্যাথর্ন হাইনেস নামের এক বৃটিশ নাগরিক বন্দী আছেন। মার্কিন প্রশাসন আইএস বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত না হলে হাইনেসকেও একইভাবে হত্যা করা হবে।

মঙ্গলবার সটলফের শিরশ্ছেদের ভিডিওদৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাড়া হয়। ভিডিওচিত্রটি আসল বলে নিশ্চিত হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত মাসে আইএসের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, কাপড় পেঁচিয়ে মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি জেমস ফলির শিরশ্ছেদ করেন। ফলির শিরশ্ছেদের পর ওই ব্যক্তি স্টিভেন সটলফের মাথার চুল ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে উদ্দেশ করে বলেন, আইএস ও ইরাকের ব্যাপারে ওবামা তার নীতি না বদলালে সটলফকেও হত্যা করা হবে। এর পরই সটলফের মা শ্যারলি সটলফ আইএসপ্রধান আবু বকর আল বাগদাদির কাছে ছেলের প্রাণভিক্ষা চান। তবে শেষ পর্যন্ত জঙ্গিরা শ্যারলির অনুরোধ শোনেনি।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন সাকি এই বীভৎস হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ এবং ঘৃণা প্রকাশ করেন।

২০১৩ সালের আগস্টে সিরিয়া থেকে ৩১ বছর বয়সী সটলফ অপহৃত হন। তিনি টাইম ম্যাগাজিনসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের হয়ে কাজ করতেন। আরবি ভাষায় দক্ষ এই সাংবাদিক সিরিয়া, মিসর ও লিবিয়া থেকে সংবাদ পাঠাতেন।

গতকাল প্রকাশ করা ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, মুখোশ পরা এক ব্যক্তি সটলফকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে সম্বোধন করে বলেন, ‘ওবামা, আমি ফিরে এসেছি। ফিরে এসেছি, কারণ গুরুতর হুঁশিয়ারি দেয়ার পরও তুমি ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে রগচটা নীতি অব্যাহত রেখেছ।’

মুখোশধারী ব্যক্তি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার বিদ্যমান আরব নীতি থেকে সরে না আসে, তাহলে বৃটিশ নাগরিক ডেভিড ক্যাথর্ন হাইনেসকেও মেরে ফেলা হবে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভিডিওচিত্রটির বিশ্বস্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তাদের গোয়েন্দারা কাজ করছেন।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here