মানিকগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সেলিমের আহ্বান

বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী কামরুল হুদা সেলিম

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
গত পৌরসভা নির্বাচনে আপনারা আমার সততা, চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, কর্ম এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে লোভ-মোহ, ভয়ভীতিকে জয় করে আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ধর্ম-বর্ণ সম্প্রদায় নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ভোট দিয়ে মেয়র পদে নির্বাচিত করেছিলেন।

আমি সেই নির্বাচনে সকল পর্যায়ের শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এবং আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে পৌর নাগরিকদের সংকট-সমস্যা সমাধানকল্পে পৌরসভার উন্নয়ন ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা করেছিলাম। অঙ্গীকার করেছিলাম, মেয়র পদে নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা-সংকট দূর করে নির্বাচনী ইস্তেহার বাস্তবায়ন করে একটি আদর্শ পৌরসভা গড়ে তুলবো।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আমার চোখে তখন স্বপ্ন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণ সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে। আমি আজও সেই স্বপ্ন বুকে লালন করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে গোটা বাংলাদেশ যে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে চলছে সেই নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থেকে পৌরসভাকে উন্নয়নের গতিধারায় এগিয়ে নেব। আমার সততা ও সাহস আছে এবং আমি নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী। আমি বিগত ৫ বছরে সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলহাজ্ব জাহিদ মালেক স্বপন, মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ.এম. নাঈমুর রহমান দূর্জয়, মাননীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. গোলাম মহীউদ্দীন ও জেলা আওয়ামীলীগ সহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় পৌরসভার দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাসমূহ সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি।

১. পৌরসভার প্রায় প্রতিটি গ্রামে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাকী এলাকাগুলোতেও পানি সমস্যার সমাধান করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে একটি ওয়াটার ট্রীটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। আরো একটি ওয়াটার ট্রীটমেন্টে প্লান্টের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

২. পৌর নাগরিকদের রাতের বেলায় নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচলে জন্য রাস্তায় সড়ক বাতির (স্ট্রীট লাইট) ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

৩. পৌর নাগরিকদের গৃহস্থলি কাজে ব্যবহার্য গ্যাসের সমস্যা জাতীয় সমস্যা হলেও এ সমস্যা সমাধানকল্পে পৌরসভার বিভিন্ন স্তরে জনগণকে নিয়ে সর্র্বাত্মক চেষ্ট করেছি। সফলতা না পেয়ে বাধ্য হয়ে নাগরিকদের পক্ষ হয়ে নিজে বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে মোকদ্দমা করেছি। যার ফলে গ্যাস সমস্যা অধিকাংশে লাঘব হয়েছে। আশা করি আগামীতে এ সমস্যা সমাধানে সফল হতে সক্ষম হবো।

৪. পৌরবাসীর যাতায়াত ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্নে করার জন্য সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২৪টি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে নাগরিকদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

৫. মানিকগঞ্জ শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খালটি অচিরেই সংস্কারের মাধ্যমে পানি প্রবাহের ব্যবস্থাসহ দৃষ্টি-নন্দন লেকে রূপান্তর করা হবে। করোনা ও বন্যাজনিত কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।

৬. ইতোপূর্বে ময়লার গাড়ীতে মৃতদেহ বহন করা হতো কিন্তু আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মৃতদেহ বহন করার জন্য আলাদা গাড়ীর ব্যবস্থা করেছি। যা পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল।

৭. বাসস্ট্যান্ড থেকে বেউথা পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধন, লাইটিং ব্যবস্থা, ড্রেনসহ উন্নতমানের দৃষ্টিনন্দন ৪ লেনের সড়ক নির্মাণ যা অচিরেই সম্পন্ন হবে। যার ফলে বদলে যাবে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নাগরিকসহ জেলাবাসীর জীবনধারা। অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হবে।

৮. মানিকগঞ্জ পৌরসভার বসতবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত অপসারণ ও পরিস্কার করে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা হয়েছে একই সাথে উন্নত ড্রেন নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অচিরেই গোটা পৌরসভায় এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. পৌরসভার শিশু-কিশোরদের চিত্ত বিনোদন ও শারীরিক সুস্থতার জন্য শহরের প্রাণকেন্দ্রে “মুক্তিযোদ্ধা পৌর শিশুপার্ক” নির্মাণ করা হয়েছে।

১০. মানিকগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান ভাষা শহীদ রফিকউদ্দীন আহমেদ এর নামে ‘শহীদ রফিক চত্বর’ ও ‘মুক্তমঞ্চ’ নির্মাণ করা হয়েছে।

১১. জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামানুসারে সড়কগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। যা চলমান থাকবে।

১২. পৌরসভাকে জনবান্ধব পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়েছে।

১৩. মেয়র সহ কাউন্সিলরগণ নিয়মিত পৌরসভায় উপস্থিত থাকার মাধ্যমে নাগরিক পরিসেবা প্রদান ও নিত্যদিনের জনভোগান্তি দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

১৪. জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশান সার্টিফিকেট, মৃত্যু সনদসহ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় পরিসেবা ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুততম সময়ে প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১৫. মসজিদ, মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে পৌরকর ও পানির বিল মওকুফ করা হয়েছে।

১৬. মানিকগঞ্জ পৌরবাসীর দৈনন্দিন হাট-বাজার করার সুবিধার্থে দীর্ঘদিনের চাহিদা অনুযায়ী মানিকগঞ্জ শহরের কাঁচা-বাজার, মৎস বাজার ও দুধ বাজারে উন্নতমানের সেড নির্মাণসহ বাজারের রাস্তা সংস্কার ও নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

১৭. মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত পৌর সুপার মার্কেট, পৌর বহুমূখী সুপার মার্কেট ও পৌর আদর্শ সুপার মার্কেট সংস্কার, পুন:নির্মাণ ও ব্যবসায়ীদের স্থায়ী বন্দবস্ত সহ সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

প্রিয় পৌরবাসী,
আমি মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত সময়ে পৌরসভার অভ্যন্তরে তৎকালীন সময়ের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বিপুল অংকের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, আর্থিক অসচ্ছলতা পৌর সম্পদের অপব্যবহার ও অপচয়, সীমাহীন ঋণসহ বিভিন্ন জটিলতা সমাধান করে উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনতে অনেকটা সময় কেটে গেছে। তারপরও আপনাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা, অদম্য সাহস এবং আমার প্রতি আপনাদের অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের উপর ভর করে সততা ও কর্মস্পৃহার উপর দাঁড়িয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে মানিকগঞ্জ পৌরসভাকে স্বল্প সময়ের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ এবং সম্ভাবনাময় পৌরসভায় রূপান্তর করতে পেরেছি যা দৃশ্যমান। এরপরেও অনেক কাজ বাকী যা আমার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। আগামীতে আপনারা আমাকে সুযোগ দিলে তা বাস্তবায়নে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ্। কারণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য কোটি কোটি টাকা পাইপ লাইনে অপেক্ষমান আছে। ভয়াবহ মরণব্যধি করোনা, বন্যা ও অতিবৃষ্টি সাময়িক প্রতিবন্ধকতাকে উপরে ফেলে হতাশার গহ্বর থেকে উন্নয়নের গতি ধারায় উজ্জ্বল আলোর পথে এগিয়ে চলেছে আমাদের মানিকগঞ্জ পৌরসভা। চলমান নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আপনাদের আকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা একান্ত প্রয়োজন। এ কারণে যেকোন সময়ের চাইতে আগামী পৌরসভা নির্বাচন অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ কারণ জাতীয় উন্নয়নের চলমান ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জ পৌরসভাকে সম্পৃক্ত করতে হবে। গড়তে হবে উন্নত সমৃদ্ধ আদর্শ পৌরসভা। তাই আমার লক্ষ্য:

১. অত্যাধুনিক বর্জ্য ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা সহ নবায়ণযোগ্য জ্বালানীর উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

২. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে গোটা পৌরসভাকে ওয়ানস্টপ সার্ভিসে রূপান্তর করা হবে।

৩. শিক্ষা-সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও নানাবিধ সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত, দক্ষ, সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

৪. মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক ব্যপক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

প্রিয় পৌরবাসী,
আপনারা অবগত আছেন, মানিকগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন আসন্ন। এই নির্বাচনে আমি একজন মেয়র পদপ্রার্থী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত বছরগুলোতে আন্দোলন সংগ্রামে সাহসীকতার সাথে রাজপথে থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালনে যথাসাধ্য ভূমিকা রেখেছি। যা আজও অব্যাহত আছে।
তাই আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি আগামী পৌরসভা নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিবেন। আমি জনগণের ভোটে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিবো। ইনশাআল্লাহ্।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিরাপদ থাকুন। সুস্থ থাকুন।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু

শুভেচ্ছান্তে-
বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী কামরুল হুদা সেলিম
মেয়র, মানিকগঞ্জ পৌরসভা, মানিকগঞ্জ।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

যাত্রা শুরু করল ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

  স্টাফ রিপোর্টারঃ যাত্রা শুরু করেছে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। গতকাল (২৯ ডিসেম্বর) ...