মোঃ আজিজুর রহমান ভূঁঞা বাবুল, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ::

১৯৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ৬ আসামির মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোখলেছুর রহমান মুকুল, শামসুল হক ফকির, নুরুল হক ফকির, সুলতান মাহমুদ ফকির, নাকিব হোসেন আদিল সরকার ও সাইদুর রহমান রতন। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।এর আগে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখেন। আদালতে এদিন রাষ্ট্রক্ষের শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন ও ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। অন্যদিকে আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।

মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের জুন-জুলাইয়ে ত্রিশাল উপজেলার আহমেদাবাদে একটি বিদ্যালয়ে ক্যাম্প স্থাপন করে শান্তি ও রাজাকার বাহিনী। ওই সময় কাকচর গ্রামের ইউনুছ আলী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নদী পারাপার করতেন। এ কারণে ইউনুছ আলীকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যান ২০-২৫ জন। নির্যাতনের পর ৭১ সালের ১৫ আগস্ট সকালে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া ওই রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এলাকায় লুটপাট ও ধর্ষণের মতো অপরাধ করে। এসব অভিযোগে পরে আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে ফরমাল চার্জগঠন করে
বিচার কাজ শুরু করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য,২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের বিচারিক আদালতে মামলাটি করেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ইউনুছ আলীর ছেলে রুহুল আমিন। পরে ওইদিনই দুপুরে বিচারক আবেদা সুলতানা মামলাটি আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ
দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি তদন্ত শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল এবং একই বছরের ২ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ছয়টি চার্জ গঠন করা হয়।

মামলাটিতে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি। মোট সাক্ষ্য দেন ১৯ জন। ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি যে কোনোদিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।

 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here