ব্রেকিং নিউজ

মাননীয় নেত্রী জাতীয় ঐক্যের এখনি সময়!

জি এম কামরুল হাসান :: বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্ব এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। মানুষ মরছে হাজার হাজার! বিশ্বের ধনী রাষ্ট্র সমূহ কিংকর্তব্যবিমূড়হ হয়ে পড়েছে করোনা মোকাবিলায়। চীন ইতালি যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স সহ উন্নত দেশ গুলো বিশ্বরাজনীতিতে এখন জনস্বাস্থ্য নিয়ে হতচকিত।বাংলাদেশ একদিকে অধিক জনসংখ্যার দেশ, অসচেতনতা, অঙ্গতা আর অর্থনৈতিক ভাবে অগ্রসরমান দেশ। চলমান করোনা পরিস্থিতি সব হিসেব উল্টে পাল্টে দিয়েছে তা বিশ্ব রাজনীতি হোক আর ঘরোয়া রাজনীতিই হোক।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা দুটো শিবিরে বিভক্ত দেখে থাকি। এক সরকারী পক্ষ অন্যটি বিরোধী পক্ষ। বাংলাদেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারী দলে আছে আর মূলত বিএনপি যেভাবেই হোক বিরোধীদলের ভূমিকায়। যা হোক, রাজনীতি একটি কঠিন দাবার চাল। আপন পর কে কখন আপন বা পর হয়ে যায়। একটা কথা আছে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। কে যে কখন আপন হয়ে যায় আবার কাছের লোকও শত্রু বনে যায়।

সম্প্রতিক বিগত কয়েক বছরের রাজনৈতিক খবরা খবর সেটা মোটা মুটি বাংলাদেশের মানুষের কম বেশি জানা। তাই সে সব বিষয়ে বিষদ না লিখে আমি কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চাই।

মাননীয় চেয়ারপারসন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আমি আপনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বলতে চাই যে আপনি এমন একজন মানুষ যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাত্তুর কাল থেকে প্রায় সব ঘটনার সাথে আপনার সম্পৃক্তা লক্ষণীয় যা অনস্বীকার্য। মুক্তি যুদ্ধে আপনার অবদান যেমন আছে, তেমনি আপনি একজন সেনা প্রধানের স্ত্রী, একজন রাষ্ট্রপতির স্ত্রী অর্থাৎ ফ্রাস্টলেডী, দলের ক্রন্তিকালে বিএনপির চেয়ারপার্সন হয়ে নয় বছর স্বৈরাচার বিরোধী সাতদলীয় জোটের নেত্রী হয়ে আপোষহীন ভূমিকায় অবর্তীন হয়েছেন। এদেশের মানুষ আপনাকে দিয়েছে যথাযথ সম্মান, হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক বার নয় তিন তিনবার। আপনি বিরোধীদলীয় নেত্রীর আসনে বসেছেন দু-দু’বার আর গত দুটি নির্বাচনে অংশ না নিলেও আপনিই এখনো মাঠের রাজনীতিতে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা। একজন মানুষের জীবনে এর থেকে চাওয়া পাওয়ার আর কি থাকতে পারে? যে কথা আপনি নিজেও বহুবার বহু ফোরামে বলেছেন।
আমরা যদি আপনার দুঃখ কস্ট ব্যাথা বেদনার কথা বলি তাও কম নয়! মাত্র ৩৬ বছর বয়সে দুটি নাবালক শিশুকে নিয়ে হয়েছেন বিধবা, নয় বছর রাজপথের লড়াকু সৈনিকের ভূকিকায় থেকে সামরিক জান্তার রোষানলে পড়েছেন, গ্রেফতারও হয়েছেন, এক এগারোর কথা আমরা সবাই জানি, চোখের সামনে দু’সন্তানের কারাবাস অতঃপর নিজেও এক বছরের বেশি সময় কারাবরন, এসময় নিজের মাকে হারিয়েছেন, ভাইকে হারিয়েছেন। ২০১৪ সালের পর নিজের ছোট সন্তানকে হারিয়ে পুত্রশোকে হয়েছেন পাথর, আরেক সন্তান কে কাছে না পাওয়ার বেদনা তো আপনার আছেই।
একজন বেগম খালেদা জিয়া একজন ব্যাক্তিই নন একটি প্রতিষ্টানও। তাই আপনার সুখ-দুখ এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে ভালো মন্দের সাথে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের যে ক’জন ক্যারিশম্যাটিক নেতা স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন আপনি তাদের মধ্যে একজন। এ কথা আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও অস্বীকার করবে না।

এবারে আপনার রাজনৈতিক জীনের ঘটে যাওয়া বিষয়ে বলবো যে, আপনি একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব। রাজনীতির ভালো মন্দ এদু’টোর বাস্তব অভিজ্ঞতা আশাকরি আপনার মতো খুব কম নেতার ভাগ্যেই জোটে। আপনি সমৃদ্ধ হয়েছেন বাস্তবাতার শিক্ষায়।
শেষ বয়সে এসেও আপনাকে জেল জীবনের একাকিত্বে হয়তো অনেক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে। আপনি হয়তো অনেক মন্দ ভালোর কালো ছায়া সরাতেও পারবেন। হয়তো অনেক দুঃখ ক্ষোভ ব্যাথা কস্ট বুকে জমা রয়েছে! তারপরও একজন জাতীয় নেত্রী হিসেবে আপনার সামনে রাজনীতির এক মহাসড়ক অপেক্ষা করছে। এখন প্রশ্ন হলো আপনি সেই মহাসড়কে কি ভাবে ড্রাইভ করবেন সেটাই দেখার বিষয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে ভাবে রাজনীতির মাঠে নিজের শক্ত অবস্থান ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন ঠিক তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন আনপেরালাল রুপে। দল এবং দেশ পরিচালনায় এক মূর্তপ্রতিক হিসেবে নিজেকে দেশবাসীর কাছে মেলে ধরেছেন। রাজনীতি হলো কৌশলের ছন্দে বুনা। এখানে মান অভিমানের কোন স্থান যেমন থাকেনা তেমনি সুযোগও বার বার আসে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেমন ২১ আগস্টের কথা সহ সব দুঃখ যন্ত্রনা সরিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহা দুর্যোগ করোনা মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দল মত পথের কাছে পথ প্রশস্ত করেছেন এটা সত্যিই একটা বড় সুযোগ, দেশ বাসী তথা বিএনপি এবং আপনার নিজের জন্যও বলে মনে করা যায়। আপনি জেলখানা যাবার আগের দিনও বলেছেন “আসুন আমরা জাতীয় ঐক্যমতের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করি” তাহলে এখন এটা বাস্তবায়ন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আপনি জেল থেকে মুক্ত হয়েছেন কয়েকদিন হলো হয়তো হোম করেন্টিনিনে রয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই করোনার ভয়াবহতা উপলব্ধি করেই আপনাকে নির্বাহী আদেশে মুক্তির ব্যাবস্থা করেছেন। এমতাবস্থায় যেহেতু আপনি দেশের একটি সু-বৃহত দলের এবং জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন, কাজেই আপনার একটা আহবান দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আহবান জানালে সব বিরোধী দল মত পথের সাথে সরকারের পথ এক মোহনায় এসে মিলিত হবে। বাংলাদেশ এতোদিনের বিভক্তি দূর হবে, দেশ এগিয়ে যাবে। আপনি যে গনতন্ত্রে প্রতিষ্ঠার জন্য এতোদিন জেল খেটেছেন, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা প্রতিষ্ঠার খুব কাছেই এদেশ। আপনি ছাড়া বিরোধী দল গুলোর মধ্যে যে আর কোন নেতার আহবানে জনগন যে সাড়া দেবেনা এ কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বুঝেই ব্যাবস্থা নিয়েছেন। হয়তো মনের মাঝে অনেক অভিমান কস্ট ব্যাথা আছে, থাকনা আপনি আপোষহীন আপনি জাতীয় নেত্রী আপনি দেখিয়ে দিন আপনি দেশ ও জনগনের জন্য সবই করতে পারেন। এই সরকারের সময়ে আপনার জেল হয়েছে, এই সরকারই আপনাকে মুক্তির ব্যাবস্থা করেছে। একটা ধন্যবাদ দিয়ে শুভযাত্রা শুরু আপনিই করতে পারেন।

মাননীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আমরা জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনাকে টেলিফোনে গনভবনে দাওয়াত দিয়েছিলেন, কোকোর মৃত্যুর পর একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় একজন মা হিসেবে আপনাকে সহমর্মিতা জানাতে গুলশানে ছুটে গিয়ে আপনার কাছে পৌছতে না পেরে দরজা থেকে ফিরে গিয়েছিলেন, সেদিন যাদের কুট কৌশলে এসব হয়েছিলো এবার তাদেরকে ছেঁটে ফেলে আপনিই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একটা ফোন দিয়ে করোনা নিয়ে জাতীয় ঐক্যমতের আহবান জানাতে পারেন। এখনে জয় পরাজয় নয়, এটা দেশের মঙ্গলের জন্য।
আমার মনে হয় আপনাদের দুজনেরই বয়স হয়েছে, আপনারা এদেশ কে দেবার জন্য দুজনই প্রস্তুুত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো এমনটা ভেবেই আপনার ব্যাপারে একক সিদ্ধান্তে এগিয়ে এসেছেন, তবে আপনি কেন আর সময় নিচ্ছেন? এ জাতি অপেক্ষায় আছে আপনাদের দুই নেত্রীর ঐক্যমত্যের দৃশ্য দেখার জন্য। বৈশ্বিক রাজনীতির ডামাডোলে বাংলাদেশ কে এগিয়ে নিতে আপনার সু চিন্তিত আহবান এখন জাতির মঙ্গলের জন্য খুবই জরুরী।

পরিশেষে বলতে চাই রাজনীতির ময়দানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা করার করেছেন, এখন আপনার পালা, চাইলেই নতুন উদ্যমে এদেশ এগিয়ে যেতে পারে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে আপনার মুক্তি, আমরা দেখতে চাই দু নেত্রী একমঞ্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে।

 

 

[email protected]

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি: রাষ্ট্র প্রধানের লেখালেখির অনন্য পদরেখা

ছাইফুল ইসলাম মাছুম :: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় ...