ব্রেকিং নিউজ

মন্ডপে মন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: বছর ঘুরে দুয়ারে এসেছে দুর্গাউৎসব। হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে এখন উৎসবের ঢেউ। ক’দিন পর মর্তলোকে আগমন ঘটবে দেবীর। তার আরাধনায় মগ্ন হয়ে ভক্তকূল ঘুরে বেড়াবেন মন্ডপে মন্ডপে। হিন্দু সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে লক্ষ্মীপুর জেলার ৭৬টি পূজা মন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও প্রতিমাতে রঙ-তুলির কাজ। সেই সাথে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের নেই দম ফেলার সময়। শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মন্ডপের সাজ-সজ্জা ও প্রতিমা তৈরির সংশ্লিষ্ট কারিগররা। পাঁচ দিনব্যাপী এ দুর্গাপূজা উৎসব চলবে।

আগামী ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে এ পূজা এবং ২৬ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে। সনাতন ধর্মমতে, এই পাঁচদিনের জন্যে এবার মর্তেলোকে দোলায় চড়ে আসবেন দেবী। দশমীতে জল বিসর্জনায় শিবের সঙ্গে স্বামীর গৃহে ফিরে যাবেন গজে চড়ে। উৎসবে নিরাপত্তার জন্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস’তি নিয়েছেন।

এদিকে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ম্লান হতে চলছে। প্রতি বছরের মতো এবার পূজার সেই পুরনো সংস্কৃতি লুকিয়ে থাকবে অগোচরে।

সরেজমিনে জেলার পৌর শহরের শ্যামসুন্দর জিউর আখড়া ও শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী বাড়ির মন্দিরসহ কয়েকটি মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রতিমা তৈরি, রঙ-তুলি ও সাজ-সজ্জার প্রস’তি। শিল্পী ও কারিগরদের নিপুণ হাতের তৈরি প্রতিমায় চলছে রঙসহ অলংকার পরানোর কাজ। এ ছাড়া কাঠ, বাঁশ, ককশিট, কাপড় ও রঙ ব্যবহার করে কারুকার্য খচিত মন্ডপ সাজিয়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে। ফলে আকর্ষণীয় প্রতিমা ও মন্ডপ গুলো দেখতে পূজা মন্ডপে আসবেন ভক্তরা এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে আসা শিল্পীরা জানান, দুর্গাপূজা এলে তাদের কাজ বেড়ে যায়, কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। করোনাভাইরাসের কারণে সকল কিছু মধ্যে আর্থিক মন্দা দেখা দিয়েছে। পূজা তেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এতে করে এ বছর তাদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। তবে এর মধ্যেও রাত-দিন পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরি করে দর্শনার্থীদের সামনে সঠিক সময়ে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য কাজ করছেন তারা।

লক্ষ্মীপুর জেলা পূজা উদযাপন কমিটির দেয়া তথ্যমতে, জেলায় এবার ৭৬টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৩টি, রায়পুরে ১০টি, রামগঞ্জে ১৯টি, রামগতিতে ১১টি ও কমলনগরে ৩টি। বর্তমানে এ সব পূজা মন্ডপে পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরী ও দৃষ্টিনন্দন সাজ-সজ্জার কাজ। তবে করোনা মহামারির কারণে এবার কমছে অনুষ্ঠানের আড়ম্ব ও মন্ডপের সংখ্যা।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শঙ্কর মজুমদার জানান, করোনাভাইরাসের কারণে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করতে হবে। এ সম্পর্কিত ২৬টি নির্দেশনা রয়েছে। প্রত্যেকেই এ নির্দেশনা মেনে পূজা করতে হবে। এছাড়া শারদীয় দুর্গোউৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, পূজামন্ডপগুলোতে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা থাকবে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিসি’তি খুবই ভালো, সবার সার্বিক সহযোগিতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব দূর্গাপূজা আনন্দঘন পরিবেশে শুরু ও শেষ হবে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, পূজার পূর্ব মুহূর্ত, পূজাকালীন ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা বলবৎ রাখতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সড়ক, মন্ডপ এবং আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তায় ভাগে ভাগে থাকবে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা। এছাড়া সকলের সার্বিক সহায়তা পেলে উৎসবকে সাফল্য মন্ডিত করে একটি সুন্দর স্বাচ্ছন্দপূর্ণ পূজা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নং সতর্ক সঙ্কেত

ডেস্ক রিপোর্ট :: সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কায় সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন ...