মনে পড়ে স্নেহ তাঁর !

জি এম কামরুল হাসান :: স্থপতি_ও_কবি_রবিউল_ ইসলাম_ আর_নেই।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও স্থপতি রবিউল ইসলাম আজ (২৬ নভেম্বর) ভোররাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৬ বছর।

এইতো সেদিন ২০১৮ সালের একুশে পদক প্রাপ্তিউত্তর এক আয়োজন হয়েছিলো আইএবি ভবনে। দাওয়াত পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম।স্থপতিদের উপস্থিতি মূখোরিত করে তুলেছিলো গোটা ক্যাম্পাস। আর সেই আয়োজনে একজন মানুষের উপস্থিতি চঁন্দ্রছটা ছড়াচ্ছিলো চারপাশে। তিনি আর কেউ নন, স্থপতি ও কবি রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা একসময় ফিছুপড়ে যায় কবিতা ও সাহিত্য নিয়ে। তাঁর লেখা একের পর এক কবিতা আমাকে মহোবিষ্ট করে তোলে।

এক পর্যায়ে তিনি আমার একটি কবিতা শোনার পর আরও শুনতে চান।আমি একে একে কয়েকটি শোনালাম তিনি মুগ্ধ হয়ে শুনলেন। আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম শোনার পর তিনি কি মন্তব্য করেন সেই চিন্তায়! কবিতা শোনার পর তিনি আমাকে জরিয়ে ধরে আদর করে মাথায় হাত রেখে দোয়া করে বলেন বাবা তুমি লেখা ছেড়োনা,একদিন অনেক কিছুর হাতছানি তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। সময়ে সব বুঝতে পারবে।

এখানে সেই ছবিটিই দেওয়া হয়েছে। এই গুনী কবি ও স্বনামধন্য স্থপতির প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা ভালোবাসা।
১৯৪৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকূপার রতিডাঙা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই কবি রক্তের সংক্রমণে ভুগছিলেন।

রবিউল হুসাইন একাধারে কবি, স্থপতি, গল্পকার, শিল্প সমালোচক, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিকর্মী ছিলেন। ২০১৮ সালে ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পান একুশে পদক।

কবিতা, উপন্যাস ও প্রবন্ধ- সব মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৫টি।তিনি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য। এছাড়াও, তিনি বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

কবি রবিউল হুসাইনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘কি আছে এই অন্ধকারের গভীরে’, ‘স্থির বিন্দুর মোহন সংকট’, ‘বিষুবরেখা’, ‘ছড়িয়ে দিলাম ছড়াগুলি’, ‘অমনিবাস’, ‘দুর্দান্ত’, ‘এইসব নীল অপমান’, ‘গল্পগাঁথা’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘স্বপ্নের সাহসী মানুষেরা’ এবং ‘বাংলাদেশের স্থাপত্য সংস্কৃতি’।

আমার মা ফাউন্ডেশন এর কথাও তিনি জানতেন।নামটা শুনে সেদিন বলেছিলেন নামের মতই হোক তোমার কাজগুলো। আমার মা ফাউন্ডেশন এর পক্ষ হতে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা ঙ্গাপন করছি।

“হে কবি স্থপতি
তোমার স্নেহ বহমান রবে ধমনীতে আমার
তোমার এই চলে যাওয়া চলে যাওয়া নয়
এতো এক থেকে অন্যে প্রস্থান।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আন্তর্জাতিক সর্বজনীন তথ্যে প্রবেশাধিকার দিবস: সংকটকালে তথ্যে প্রবেশাধিকার

হীরেন পণ্ডিত :: বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ মহামারী সময়ে, ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারো ২৮ ...