মনে পড়ে ফয়সল ভাই
আ.হ.ম. ফয়সল ও জুনাইদ আল হাবিব

জুনাইদ আল হাবিব: “আপনি কত টাকা ব্যাংকে রেখে গেছেন এটা কেউ মনে রাখবে না, অন্যের জন্য কি করে গেছেন সেটাই মানুষ মনে রাখবে।” কথাটি নিজের ফেসবুক ওয়ালের বায়োতে লিখে রেখেছিলেন আ.হ.ম. ফয়সল ভাই। তিনি আজ নেই, কিন্তু আমাদের মনে পড়ে তার কথাটা। মনে পড়ে মানুষের জন্য করা তার কাজ। আজ ঠিক এক বছর হলো, তিনি গত হয়েছেন। আমাদের ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে ফয়সল ভাই ইউনাইটেড নিউজের সম্পাদক, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডরপের মিডিয়া ম্যানেজার, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং স্বপ্ন নিয়ে নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি ছিলেন।

আমাদের প্রথম দেখা সম্ভবত ২০১৯সালে, মিরপুর কাজীপাড়ায়। বাস চেপে ভাই আমাকে নিয়ে চললেন মিরপুর-১ এ। নামার পর বললাম কেন ভাইয়া এখানে? বললো, তোমাকে একটা টি-শার্ট দিতে মন চাচ্ছে। অনেকে অনেককে পছন্দ করে কিছু দেয়, আমি তোমাকে একটা টি-শার্ট দেব। তারপর মার্কেটে আমরা। আমার পছন্দের টি-শার্টটি। ফেসবুকের পোস্টের একটা ব্যাকগ্রাউন্ড কালার। নিলাম। এর মাঝে টুকটাক আমাদের যোগাযোগ চলে৷ আমি ঢাকা গেলে কাজীপাড়ায় ডরপের অফিসে যাই, ফয়সল ভাই ডরপের মিডিয়া ম্যানেজার। একবার অফিসে গেলাম, এতেই যে কতখুশি হল।

যোগাযোগ চলে। মাঝে মধ্যে কিছু নিউজ করারও পরামর্শ দিতেন। বলতো, জুনাইদ ইত্তেফাকের জন্য এ ফিচারটা করতে পার। তুমি ঢাকা আসলে আমাকে বলিও, তোমাকে কাজের জায়গাটা ঘুরিয়ে আনবো। এভাবে পথচলা। একদিন অফিসে হুট করেই আমাকে এডমিনশিপ দিয়ে দিলেন ইউনাইটেড নিউজের, তুমি এখানে লিখিও, নিউজ পোস্ট দিও। অনলাইন পত্রিকা নিবন্ধনে ৪ নাম্বারে ছিল পত্রিকাটি। প্রথম আলো থেকে শুরু করে জাতীয় কিছু পত্রিকায় আমাকে লেখা দেখে খুশি হয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন তাও৷ করোনার আগে আমরা লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর পোড়াগাছার শেখের কিল্লায় মোয়া খেয়েছি৷ দেখলাম, মানুষের সাথে তার কত নিবিড় সম্পর্ক।

আজ ৩০ এপ্রিল, ফয়সল ভাইয়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। সে দিন সন্ধ্যায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কক্সবাজারের উখিয়া সদর হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যকালে তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। তার মৃত্যুতে আমরা হারিয়েছিলাম একজন দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও উন্নয়কর্মীকে। এখনো মনে হয় না, ফয়সল ভাই চলে গেছেন ওপারে। মনে আছে, ঢাকায় গেলে আবার দেখা হবে আমাদের বা তিনি কোথাও আছেন। কিন্তু দিনশেষে আমাদের মানতেই হবে যে, তিনি আর ফিরবেন না আমাদের মাঝে। ভাইয়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ ওনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক, আমিন। আর উনার রেখে যাওয়া স্ত্রী ও সন্তানটিও যেন মহান রাব্বুল আলামিনের রহমতে থাকে। সে কামনাই করি সব সময়।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here