রাকিবুল হাসান, মনপুরা প্রতিনিধি ::

পূর্ণিমার জো এবং সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে মেঘনা নদীর অসাভাবিক জোয়ারে মনপুরা উপজেলার প্রায় ৮ হাজার হেক্টর আমন ধানে খেত পানির নিচে।

মনপুরা কৃষি অফিস এর তথ্যমতে,মনপুরা উপজেলা আমন আবাদের লক্ষ্য মাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার হেক্টর। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না থাকা পুরোদমে আমন রোপণ না হলেও ৩০ শতাংশ জমিতে ইতিমধ্যে আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। সবই এখন পানির নিচে।

পূর্ণিমার জো ও সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে মনপুরা গত কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চল এবং বেড়িবাঁধের বাইরের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত উপজেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার (১৫ আগষ্ট) সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে,  উপজেলা দক্ষিণ সাকুচিয়া রহমানপুর, মাষ্টার হাট, হাজিরহাট চরযয়তিন,১নং মনপুরা ইউনিয়নের অনেক গ্রামের মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকার শত শত একর জমি এখন পানির নিচে।
‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ প্রকৌশলী আবদুল রহমান বলেন, ‘মেঘনা নদীর পানি কয়েক দিন ধরে বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উপজেলার ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় আমন আবাদ ব্যাহত হতে পারে।’এবং উপজেলা শহর রক্ষা বাঁধ ১ কিঃমিঃ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা জরুরি ডাম্পিং করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দক্ষিণ সাকুচিয়া রহমানপুর গ্রামের কৃষক কাদের চৌকিদার বলেন,৫ একর জমিতে আমন আবাদ করব।৬০ শতাংশ জমিতে বীজ রোপণ করলেও তা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।এখন পযন্ত ১একক জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দিন এর বৃষ্টি ও নদীর পানির বৃদ্ধির কারণে এখন আর বীজ রোপণ করতে পারছি না।আর যে গুলো রোপণ করা হয়েছে সেগুলো থেকে এ পানি না নামলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।

উপজেলা থেকে বিছিন্ন সদ্য ঘোষিত কলাতলি ইউনিয়নের কৃষক আবদুল রহিম জানান,মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি প্রভাব খেতে রোপন করা চারা অনেক টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমলে আবার রোপন করতে হবে।এতে আমন আবাদের কিছুটা বিলম্ব হবে তাদের।

১নং মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমানত উল্লাহ আলমগীর জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো সহায়তা পায়নি। তার আওতাধীন  বাঁধ বিছিন্ন দূর্গম দুইটি চরের হাজার হাজার  মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। পানি উঠে আবার নেমে গেলেও লবণাক্ততার সৃষ্টি হওয়ায় জমির উর্বরতা কমে গেছে। ভবিষ্যতে এসব এলাকায় ফসল হবে না বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।

মনপুরা উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান,আগস্ট মাস পুরোটাই আমন লাগানোর সময়।খরিদ -১ মনপুরা আবাদ না থাকায় আমান আবাদ দূরত শুরু হয়ে যায়। উপজেলা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা  ৯ হাজার হেক্টর জমিতে।এখন পযন্ত মনপুরা উপজেলা ২৫০-৩০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।এখন আমন রোপণের সময়। কিন্তু খেতে যে পানি উঠছে তা নামতে ১২-১৫ দিন সময় লাগবে।এতে আমন আবাদে প্রভাব পড়তে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here