মধ্যরাত থেকে মেঘনায় ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: ইলিশের প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকায় মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাছ ধরা যাবে না। এ সময় মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকছে। এ আইন অমান্য করলে জেল অথবা জরিমানা এমনকি উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অফিস থেকে জানা গেছে, আশ্বিন মাসের বড় পূর্ণিমার আগের চার দিন, পূর্ণিমার দিন ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশের প্রজনন সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ এসে লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ডিম ছাড়ে। একটি বড় ইলিশ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে। বেশি ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যে নির্বিঘেœ যাতে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পারে সেজন্যই ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করতে লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ জেলেদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করে আসছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইলিশের প্রজনন মৌসুম সফল করতে কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২২ দিন জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে লক্ষ্মীপুরের জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিরতণ করবে সরকার। জেলার ৪ উপজেলায় মোট ৫০ হাজার ২৫২ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ইলিশ জেলের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৪৭২জন। নিবন্ধনের আওতায় সদর উপজেলার ৪ হাজার ৮১৩ জন, রায়পুর উপজেলার ৬ হাজার ৩৭ জন, রামগতি উপজেলার ১৬ হাজার ২০৫ জন এবং কমলনগর উপজেলার ১০ হাজার ২৭১ জন জেলে ২০ কেজি চাউল খাদ্য সহায়তা পাবে।

এছাড়াও প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করতে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লিফলেট, পোস্টার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জেলেসহ সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা। বরফ কলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অন্য কোথাও থেকে বরফ আসতে না দেওয়া, নদী সংলগ্ন খাল থেকে নৌকা বের হতে না দেওয়া, মাছঘাট সংলগ্ন বাজারের নৌকা ও ট্রলারের জ্বালানি তেলের দোকান বন্ধ রাখা, নদীর মধ্যে জেগে ওঠা চরের মাছঘাট গুলো বন্ধ রাখা প্রভৃতি।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মহিব উল্যাহ বলেন, ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে ২২ দিন ইলিশসহ সকল মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এ সময়ে মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাত করণ অথবা বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আইন আমান্য করলে ১ বছর থেকে ২ বছরের জেল অথবা জরিমানা এবং উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। সরকারি এ আইন বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ড।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

আল-মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :: পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে তিন মাসের বর্ষাবাস (উপোস) শেষে ...