মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :

গ্রামে মেঠ পথের পাশে, জমির আইলে, খাল-বিল পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা খেজুর গাছ। ঋতুচক্রে এখন গ্রীষ্মের মধুমাস জ্যোষ্ঠ। তাই অন্যান্য রকমারী ফলের ন্যায় খেজুর গাছে ধরছে দেশীয় মিষ্ঠি হলুদ খেজুর ফল। বলা হয়, বছরে দুই ফলন আসে খেজুরগাছে, শীতকালে মিষ্টি সুস্বাদু রস, আর গরমকালে খেঁজুর ফল।

খেজুর শুষ্ক ও মরু অঞ্চলের উদ্ভিদ হওয়ায় গঙ্গার নিম্ন অববাহিকার খেজুর গাছে যথেষ্ট শাঁসযুক্ত উৎকৃষ্ট মানের খেজুর হয় না। তাই এটি খাদ্য হিসেবে খুএকটা ব্যবহার হয় না। তবে এই গাছের রস আকর্ষণীয় ও সু-মিষ্ট। সরল গোলাকার কান্ড বিশিষ্ট, শাখা প্রশাখা বিহীন, একবীজ পত্রী উদ্ভিদ খেজুর গাছ। গাছ সাধারণত ৪-১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। রসের জন্য প্রতিবছর শীতের শুরুতে পরিচর্চা হয় বলে গাছগুলো বিশেষ আকৃতি ধারন করে। গাছের মাথা একগুচ্ছ বড় লম্বাটে পাতা দ্বারা সজ্জিত। প্রতিটি পাতার বোঁটার দুই প্রান্তে লম্বা লম্বা কাঁটা থাকে। পাতার অগ্রভাগ সুচালো।

ফল সাধারণত বীজ প্রধান। বীজের উপর পাতলা আবরণের মতো শাঁস থাকে। কাঁচা খেজুর ‘কইস্ট্যা’ লাগলেও পাকা খেজুর বেশ
মিষ্টি। আমাদের দেশের খেজুর গাছগুলো ‘দেশী খেজুর, খাজুর কিংবা খেজুর’ গাছ নামে পরিচিত। ইংরেজিতে একে ওয়াইল্ড ডেট পাম বা সুগার ডেট পাম বলা হয়। সারা বাংলাদেশেই খেজুর গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তবে নির্বিচারে খেজুর গাছ নিধন বা রোপণ করা হয় না। ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও নাটোর জেলার খেজুর গাছের আধিক্য দেখা যায়। দেশে যে খেজুর গাছ দেখতে পাওয়া যায় তার ফল গ্রামীণ জনপদে বেশ জনপ্রিয়।

খুলনার পাইকগাছা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, গাছির অভাবে খেজুর গাছ থেকে শীতে রস আহরণ করা যাচ্ছে না। এ কারণে প্রতিবছর শত শত খেজুর গাছ কেটে ফেলছে। বর্তমানে এ উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। যা প্রায় সবই ছোট। বড় গাছের সংখ্যা কম। তবে কয়েক বছর আগেও এ উপজেলা লক্ষাধিক খেজুর গাছ ছিল। বিভিন্ন স্থানে খেজুর গাছে থোকায় থোকায় ঝুঁলছে খেজুর। অনেক খেজুরে রঙ ধরেছে। তা দেখে প্রতিটি মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। খেজুর পাকতে শুরু করেছে। আর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সব খেজুর পেকে যাবে। সড়কের পাশে খেজুর গাছের খেজুরগুলো গ্রামের ছেলে- মেয়েরা পেড়ে খেতেও শুরু করেছে।

অনেকেই পাকা খেজুর বাজারে বিক্রি করছে। বিশ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুমী ফলের ভিড়ে দেশী খেজুরের কদর খুবই কম বাজারে। খেজুর গাছ দুর্যোগ প্রতিরোধী উদ্ভিদ, প্রতিকূল পরিবেশেও এটি টিকে থাকতে পারে। রাস্তার দু’ধারে, পুকুর পাড় কিংবা ক্ষেতের আইলে এ গাছ বেশী দেখা যায়। পাকা খেজুর দোয়েল, বুলবুলি, শালিক পাখিসহ অন্যান্য পাখিদের খুব প্রিয়। পিঁপড়া ও মৌমাছিরাও পাকা খেজুরের স্বাদ নিতে দেখা যায়।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here