ব্রেকিং নিউজ

ভারতের ইএনটি ও হেড-নেক সার্জন অধ্যাপক ড. সঞ্জীব মোহন্তের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার :: বাংলাদেশের ১৩ বছরের কিশোর রায়হানুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন রিকারেন্ট জেএনইউ (জুভেনাইল অ্যাঞ্জিওফাইব্রোমা) জটিলতায়। জেএনইউ হচ্ছে আমাদের নাসারন্ধ্রে তৈরি হওয়া এক ধরনের বিরল, বিনাইন, নন-এনক্যাপসুলেটেড হাইলি ভাসকুলারাইজড টিউমার। ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হেলথকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে একটি অপারেশনের মাধ্যমেই রায়হানের জটিলতাটি সাফল্যের সঙ্গে স্থায়ীভাবে সারিয়ে তোলেন এমজিএম হেলথকেয়ারের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং ইনস্টিটিউট অব ইএনটি, হেড অ্যান্ড নেক সার্জারির প্রধান অধ্যাপক ড. সঞ্জীব মোহন্ত ও তার মেডিকেল টিম।

রায়হানকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তার আগেই আরো একবার সার্জারি হয়েছিল তার অন্য কোথাও এবং পরবর্তীতে প্রায় প্রতিদিনই তার নাক থেকে অবিরল রক্ত ঝরত। এমজিএম হেলথ কেয়ারের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় তার টেরিগোপ্যালাটাইন ফোসা, ম্যাক্সিলিয়ারি এবং স্ফিনয়েড এলাকায় রিকারেন্ট ভাসকুলার টিউমারটি ধরা পড়ে। বিরল জাতীয় অসুখটি ব্যাখ্যা করে ড. সঞ্জীব মোহন্ত বলেন, জেএনএর মূল লক্ষণ নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং এপিসট্যাক্সিস। এটি বিনাইন টিউমার হলেও এর কারণে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অবিরল রক্তপাতের ঘটনা ঘটতে পারে। জেএনএর জন্য সার্জারি হচ্ছে সবচেয়ে ভাল সমাধান। অপরেশনের সময় রায়হানকে নিউরোরেডিওলজি বিভাগে ভর্তি করে বিশেষ ধরনের অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করা হয়। পরবর্তীতে ডিউরাম্যাটা, ক্যাভারনাস সাইনাস এবং অপটিক নার্ভের কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই বিনাইন টিউমারটি শনাক্ত করার পর সেটি অপসারণ করা হয়। কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই অপারেশনের তিন দিনের মাথায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পোস্ট-অপারেটিভ ফলোআপ পর্যালোচনায় রায়হানের নতুন কোনো ধরনের রক্তপাত বা অনুরূপ কিছু ঘটেনি।

অনন্য সাফল্যের এই গল্পটির পাশাাপশি নাক-কান-গলা বিষয়ক নানাবিধ জটিলতা ও তার সুষ্ঠু প্রতিকার বিষয়ে পরিষ্কার একটি চিত্র সবার সামনে তুলে ধরতে অধ্যাপক ড. মোহন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শুক্রবার সকালে রাজধানীতে ঢাকা ক্লাবে। সেখানে তিনি নাক-কান-গলা চিকিৎসায় বর্তমান বিশ্বের অগ্রগতি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি তার অতুলনীয় অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি সাংবাদিক ও সুধীবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে তিনি তার সাথে দেখা করতে আসা নতুন ও পুরনো রোগীদের খোলামেলা পরামর্শ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে এমজিএম হেলথকেয়ারের অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট সেনু স্যাম বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যে কোনো বাধা অতিক্রম করবে এমজিএম হেলথকেয়ার। কেবল সেরাতেই বিশ্বাসী আমরা, সেরা প্রযুক্তি, সেরা অবকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথা, সেরা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ।

এছাড়া বাংলাদেশের রোগীদের কাছে এমজিএম চিকিসাসেবা সহজলভ্য করতে রাজধানীর মহাখালিতে প্রতিষ্ঠিত প্ল্যানমাইমেড, বাংলাদেশ অপারেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামী ওয়াদুদ বলেন, এমজিএম-এর সহযোগী হিসেবে কাজ করতে এবং আমাদের রোগীদের জন্য নির্ভরযোগ্য একটি হাসপাতাল ও চিকিৎসক নিশ্চিত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা শুরু থেকেই খরচ সাশ্রয়ের বিষয়টিসহ রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপে সক্রিয় সহযোগিতা দিয়ে থাকি।

প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা খাতে গৌরবময় অবদান রেখে আসা এমজিএম হেলথকেয়ারের পতাকাবাহী, ভারতে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মহাত্মা গান্ধী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এটি এনআইআরএফ শীর্ষ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান র‌্যাংকিংয়ে ২৩তম অবস্থানে থাকা এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাত নং অ্যাক্রেডিটেড প্রতিষ্ঠান। এ জাতীয় বহুবিধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রান্তিক সেবাদাতা হাসপাতালের কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই এমজিএম অর্জন করেছে মানুষের আস্থা, খ্যাতি ও গৌরব।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এ বছর ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :: চলতি বছরে নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১৫ ...