ব্রেকিং নিউজ

বোরো ধানের বাম্পার ফলন: দুর্যোগ শংঙ্কায় আগাম কাটছে কৃষক

লক্ষ্মীপুরে ধানে বাম্পার ফলন; দুর্যোগ শংঙ্কায় আগাম কাটছেন কৃষকজহিরুল ইসলাম শিবলু,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: মেঘনার উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ২৭ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই পানির অভাবে বোরো আবাদ নিয়ে কৃষকের মাঝে শঙ্কা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়েছে বোরো আবাদ। কিন্তু মৌসুমের শেষে হঠাৎ-হঠাৎ শিলা ও ঝড়ো বৃষ্টিতে কৃষকের মনে দেখা দিয়েছে দুর্যোগ আতঙ্ক। যার ফলে এখন আধা-পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন অধিকাংশ কৃষক।

জানা যায়, এ বোরো ধানের আবাদ করতে প্রয়োজন ১৩০-১৩৫ দিনের। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরুতে জমিতে পানির অভাবে অধিকাংশ বোরো বীজতলায় চারার নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যায়। ফলে বোরো আবাদ নিয়ে চাষিরা শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে ফাল্গুন মাসের শুরুতে স্লুইসগেটের দৃশ্যত সমস্যা সমাধান, খাল খনন এবং খালগুলোতে পানি প্রবেশের ব্যবস্থা গ্রহণ করায় কৃষকদের সে শঙ্কা কেটে যায়।

এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার হাইব্রিড তেজ, ময়না, টিয়া, এসিআই, হীরা, জাগরণ, সম্পদসহ বেশ কয়েকটি জাতের বোরো আবাদ করেছেন। আর উফশী জাতের বিআর, ব্রি ধান, বিনা, ইরাটম-২৪, পূর্বাচীসহ কয়েকটি জাতের বোরো আবাদ করেছেন। তবে হাইব্রিড জাতের মধ্যে হীরা-২ ও উফশী জাতের ব্রি ধান ২৮-এর আবাদ বেশি করেছেন কৃষক।

এদিকে জমিতে ধানে পাকা রং এলেও পুরোপুরি ধান পাকতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। বৈশাখ মাসের শুরুতেই দুর্যোগ আতঙ্কে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকের মনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে দুর্যোগ আতঙ্কে এখনই আধা-পাকা ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন কৃষক।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কৃষক হেদায়েত উল্যা জানান, এ বছর তিনি ১২০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। ধানে পাকা রং ধরেছে। কিন্তু বর্তমান আবহাওয়ায় হঠাৎ বৃষ্টির শংঙ্কা থেকে আধা-পাকা অবস্থায় ধান কেটে ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

লক্ষ্মীপুরে ধানে বাম্পার ফলন; দুর্যোগ শংঙ্কায় আগাম কাটছেন কৃষকরামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোর্ট ইউনিয়নের শাহারপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আমির হোসেন খোকা জানান, তিনি ৯০ শতক জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। জমিতে ফসলের উৎপাদন ভালো হলেও দুর্যোগ আতঙ্কে আধা-পাকা ধান কেটে ঘরে তুলেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি পরিচালক মো. আবুল হোসেন জানান, জেলার পাঁচ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৭ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২ হাজার ৮০ হেক্টর, রায়পুর উপজেলায় ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর, রামগঞ্জ উপজেলায় ৮ হাজার ২০০ হেক্টর, রামগতি উপজেলায় ২০০ হেক্টর ও কমলনগর উপজেলায় ১৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে।

আর ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ১৩ হাজার ৯১০ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের সাত হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে আবাদের বিপরীতে ৩৬ হাজার ৮২৭ টন ধান ও উফশী জাতের ১৯ হাজার ৬৬৪ হেক্টর জমিতে আবাদের বিপরীতে ৭৭ হাজার ৮৩ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর হেক্টরপ্রতি ফলন নির্ধারণ করা হয়েছে হাইব্রিড জাতের চার দশমিক ৭৫ টন এবং উফশী জাতের তিন দশমিক ৯২ টন।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, নানা প্রতিকূলতার মাঝেও এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জমিতে শতকরা ৮০ ভাগের ওপর ধান পাকলে কৃষককে ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জাতীয় শোক দিবসে বরিশাল ডিএলআরসি অফিসের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার :: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ ...