বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রতিশ্রুত প্রকৃত গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিতে এশীয় নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে চতুর্থ ডেমোক্রেসি ফোরামের সম্মেলনে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

তবে এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ অনেক দীর্ঘ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য এই অঞ্চলের নেতাদের প্রতিশ্রুতি দরকার। নতুন প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত রেখে যেতে হলে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রকৃত গণতন্ত্র অর্জন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, এজন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন এবং ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। এছাড়া জাতিসমূহের নেতৃবৃন্দের প্রতিশ্রুত মনযোগ অপরিহার্য।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে গঠিত বিদ্যমান গণতান্ত্রিক সরকারকে সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, অফুরন্ত সম্পদ, উদীয়মান অর্থনীতি, সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি এবং অত্যাবশ্যকীয় গণতান্ত্রিক শক্তিসমৃদ্ধ এশিয়া এখন সকল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, সঙ্গত কারণে এই অঞ্চল ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমি নিশ্চিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের জন্য সময় এসেছে তাদের প্রাচীন ভাবধারা পরিহার এবং মুক্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নতুন দাবিকে স্বীকার করে নেওয়া।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধোইয়োনো আজ আনুষ্ঠানিকভাবে চতুর্থ বালি ডেমোক্রেসি ফোরামের উদ্বোধন করেন এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্টি এম নাতা লেগাওয়া রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।

ব্রুনাই দারুসসালামের সুলতান হাসানাল বলকিয়া, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম বিন জব্বার আল-তানি, পূর্ব তিমুরেরর প্রধানমন্ত্রী কে রালা জানানা গোসমাও, ফিলিপাইনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেজোমার বিনায় এবং তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী বুলেনিট আরনিকও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধোইয়োনো এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃবৃন্দের অধিবেশনে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।

দুই দিনব্যাপী এই ফোরামের বিভিন্ন অধিবেশনে জাপান, পাপুয়া নিউগিনি, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, ইথিওপিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, চীন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনিয়া, জর্জিয়া, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, চেক প্রজাতন্ত্র, আফগানিস্তান, ইরাক, লাও পিডিআর, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, বুলগেরিয়া, লিবিয়া, মরক্কো ও জর্ডানের প্রতিনিধিরা বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় গণতন্ত্র ও উন্নয়নে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আলোচনার মাধ্যমে এই অঞ্চলে প্রকৃত গণতন্ত্র অর্জনের জন্য এশীয় নেতৃবৃন্দের সামনে ৭ দফা প্রস্তাব পেশ করেন।

তিনি স্থানীয় সরকার, বিকেন্দ্রীয়করণ ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানকে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত ক্ষমতা ও অর্থের যোগান দিয়ে শক্তিশালী করে তুলতে হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং প্রাপ্ত সম্পদ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কল্যাণ, উন্নত জীবনযাত্রার জন্য ব্যক্তির আয় বৃদ্ধি এবং জনগণকে বঞ্চনামুক্ত করার স্বার্থে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জনগণের দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে করে প্রতিটি লোক অন্যের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। এতে তারা দেশের সম্পদ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের স্তম্ভে পরিণত হবে বলে তিনি উল্লে¬খ করেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি নাগরিকের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য এশীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এতে গণতন্ত্র শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে এজন্য নাগরিকদের সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বসহ নিজেদের অধিকার সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন হতে হবে।

শেখ হাসিনা বেসরকারি খাতকে জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, এই খাতকে তাদের সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

গণতন্ত্রের ক্রমবিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক নিরাপত্তা ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে বরাদ্দ এবং যেকোনো মূল্যে জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

প্রায় ১৫টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এশীয় দেশগুলোর এই ফোরামে যোগ দেন। এ বছর এই ফোরামের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে গণতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব জোরদার: গণতান্ত্রিক জাগরণের প্রতি সমর্থনদান।’

গণতন্ত্র জোরদারে এবং রাজনৈতিক উন্নয়নে এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ২০০৮ সালে ইন্দোনেশীয় সরকারের উদ্যোগে এই ফোরাম চালু হয়।

চতুর্থ বছরের মতো এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আলোচনার জন্য এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্লাটফর্ম হিসেবে এই ফোরামের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্বায়নের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আকার, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নির্বিশেষে সকল দেশের জন্য এই প্রক্রিয়া সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে।

বছরের পর বছর গণতন্ত্রের জন্য নিজের নিরলস সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি যে, কেবল গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি নিশ্চিত এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/ইউএন নিউজ

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভারতে বিমান বিধ্বস্ত: পাইলটসহ ১৬ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ :: ১৯১ জন যাত্রী নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যাবেলায় ক্র্যাশ করল এয়ার ...