মালিক উজ জামান, যশোর প্রতিনিধি ::

লম্বা আকারের সবজি বরবটি। সাধারণত চাষ হয় শীতকালে। তবে বরবটির জন্য আর শীতকালের অপেক্ষা করে থাকতে হবে না। এখন থেকে কৃষক চাষ করতে পারেন গ্রীষ্মকালেও। মৌসুম ছাড়া সবজির দাম সবসময়ই বেশি থাকে। ফলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বরবটি আমিষ সমৃদ্ধ একটি সবজি। প্রায় সারা বছর এটি ফলানো যায়। তবে খরিপ তথা গ্রীষ্মকালে ভাল হয়। খুব শীতে ভাল হয় না। দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি বরবটি চাষের জন্য উপযোগী। কেগরনাটকীই অনেকদিন পর্যন্ত বরবটি একটি উন্নত জাত হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। এখন অবশ্য বেশ কয়েকটি জাত চলে এসেছে। লাল বেণী, তকি, ১০৭০, বনলতা, ঘৃতসুন্দরী, গ্রীন লং, গ্রীন ফলস এফ১, সামুরাই এফ১ ইত্যাদি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জাত। কেগরনাটকী জাতটি পৌষ-মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। মধ্য মাঘ থেকে মধ্য আশ্বিনে চাষ করা যায়এখন অবশ্য বেশ কয়েকটি জাত চলে এসেছে। মধ্য ফাগুন থেকে মধ্য আশ্বিন পর্যন্ত চাষ করা যায় ১০৭০ জাতটি। উল্লেখিত জাতগুলোর রমধ্যে কেগরনাটকী ও লাল বেণী জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি। তবে খেতে ভাল ঘৃতসুন্দরী। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সাধারণতঃ বীজবপন করা হয়। তাছাড়া আশ্বিন- অগ্রাহায়ণ মাসেও বীপবপন কর হয়। অন্যান্য সময়ও বোনা যেতে পারে। প্রতি শতকে ১০০-১২৫ গ্রাম, হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি।

৪/৫ টি চাষ ও মই দিয়ে ভালভাবে জমি তৈরি করতে হয়। প্রতি শতকে ইউরিয়া ১০০ গ্রাম প্রতি হেক্টওে ২৫০ কেজি দিতে হবে।
প্রতি শতকে টি এস পি ৯০ গ্রাম প্রতি হেক্টরে ২২৫ কেজি, প্রতি শতকে এমওপি ৭৫ গ্রাম প্রতি হেক্টরে ১৮৫ কেজি, প্রতি শতকে গোবর ২০ কেজি প্রতি হেক্টরে ৫ টন ব্যবহার করতে হবে। গোবর, টিএসপি সম্পূর্ণ পরিমাণ ও অর্ধেক এমওপি সার শেষ চাষের সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। পরে বীজ বোনার ২০ দিন পর ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও বাকি অর্ধেক এমওপি সার জমিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ২ মিটার দূরত্বে সারি করে ২৫-৩০ সেমি. দূরে দূরে বীজ বুনতে হয়। জাত হিসেবে সারির দূরত্ব ১ মিটার
বাড়ানো বা কমানো যায়। চারা বড় হলে মাচা বা বাউনি দিতে হবে। জমিতে পানির যাতে অভাব না হয় সে জন্য প্রয়োজন অনুসারে সবসময় সেচ দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে। পোকামাকড় ও রোগ ব্যবস্থাপনা শিমের মতই। জাব পোকা, ফল ছিদ্রকারী পোকা ও মোজেইক রোগ বরবটি চাষের বড় সমস্যা। বীজ বোনার ৫০-৬০ দিন পর থেকে বরবটি সংগ্রহ করা যায়। শতক প্রতি ফলন ৩০-৬০ কেজি, হেক্টর প্রতি১০-১২ টন। অনেক সময় বরবটির পাতা ও গাছে সাদা পাউডারের মতো দেখা যায়।

এছাড়া পাতা হলুদ ও কালো হয়ে গাছ মারা যায়। আজ জানবো কিভাবে এ সমস্যার সহজে প্রতিকার করা যায়। ওইডিয়াম প্রজাতির এক ধরনের ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয় থাকে। আক্রমণ বেশি হলে গাছ মারা যেতে পারে। বরবটির এ সমস্যা দূরকরণে প্রোপিকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে রোগাক্রান্ত গাছে সঠিক নিয়মে স্প্রে করলে সুফল পাওয়া যাবে। আর এ রোগের আক্রমণ রোধে আগাম বীজ বপন করা ও রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার এবং সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। বেশি দামের গ্রীষ্মকালীন বরবটি শিরোনামে সংবাদের তথ্য কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে নেওয়া।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here