বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেড়েছে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত

ডেস্ক রিপোর্টঃঃ  বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেড়েছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত। ১ মে থেকে ১২ মে পর্যন্ত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৫৪ হাজার ৪২৮ জন যাত্রী যাতায়াত করেছে। এসব যাত্রীর মধ্যে ভারতে গেছেন ১৮ হাজার ৫৮৯ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ১৫ হাজার ৫৩৯ জন।

করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বৃদ্ধির পাশাপাশি এ পথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও বেড়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের ৯ মাসে আমদানি হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ২৯৫ মেট্রিক টন পণ্য এবং ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তবে বন্দরে জায়গা সংকট আর যাত্রীসেবার বৈধ সুবিধাবঞ্চিত হয়ে ভোগান্তি বেড়েছে বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াতে।

ভারতগামী যাত্রী অনিমেস হালদার জানান, ভারত ভ্রমণে নানা শর্তের কারণে এত দিন ভারতে যাওয়া জরুরি দরকার হলেও তিনি যেতে পারেননি। তবে এখন সব শর্ত উঠে ভিসা সহজ হওয়ায় ভারতে যাচ্ছেন বেড়াতে। তবে বাংলাদেশে ভোগান্তি কিছুটা কমলেও ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে পুলিশের জনবল কম থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রোদ-বৃষ্টিতে ভুগতে হচ্ছে। জনবল বৃদ্ধি আর যাত্রীছাউনি তৈরি করা হলে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, করোনার কারণে নানা শর্ত মানতে চাহিদামতো পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে এখন শর্ত প্রত্যাহারে ঝামেলা কমেছে। কিন্তু বন্দরে জায়গা সংকট আর ক্রেন, ফর্কক্লিপের সমস্যায় পণ্য লোড-আনলোড ব্যাহত হচ্ছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য হয়। এ ছাড়া চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, গ্রহণ ও ভ্রমণ ভিসায় বছরে প্রায় ১৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করে। বাণিজ্য খাতে সরকারের ৬ হাজার কোটি টাকা ও ভ্রমণ খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আসে বেনাপোল বন্দর থেকে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে আমদানি বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াত আরও বাড়বে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, আমদানির চাহিদা বাড়ায় বন্দরে পণ্যজট বেড়েছে। জট কমাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারেন সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে প্যাসেনঞ্জার টার্মিনাল তৈরিতে নতুন জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান এ বন্দর কর্মকর্তা।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ১ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৫৪ হাজার ৪২৮ জন যাতায়াত করেছে। এসব যাত্রীর মধ্যে ভারতে গেছে ১৮ হাজার ৫৮৯ জন। ভারত থেকে ফিরেছে ১৫ হাজার ৫৩৯ জন। যাত্রীসেবা বাড়াতে ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশনে কাউন্টার বাড়ানো হয়েছে।

ক্যানসার ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা কাউন্টারে সেবা দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীরা যাতে দ্রুত পাসপোর্টের কার্যক্রম শেষ করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here