স্টাফ রিপোর্টার :: বৃহস্পতির আড্ডায় নিয়মিত আসরে ১১ জ্যৈষ্ঠ ( ২৫ মে) কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী পালিত হয়।

২৫ মে দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী। জাতীয় কবি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম এ প্রাণপুরুষের জন্মদিনটি বৃহস্পতির আড্ডায় জমজমাটভাবে পালিত হয়।

কবি নজরুলের জন্ম জয়ন্তীতে যোগ দেন কবি ফরিদ আহমেদ দুলাল, কথাসাহিত্যিক রোকেয়া ইসলাম, কথাসাহিত্যিক, লেখক ও সঙ্গীত শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, কবি সৌমিত বসু, কথাসাহিত্যিক নাহার ফরিদ খান, লেখক রেখা রায়, কবি সরকার মাহবুব, কবি সন্দীপন মল্লিক ,লেখক দীপক সাহা, কবি নাহার আহমেদ, লেখক হাসান আলী , বক্তারা কবি জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। নজরুলের বিরল প্রতিভা, নিশঙ্ক চিত্ত ও অসাম্প্রদায়িকতা নিয়ে সভায় বক্তারা আলোচনা করেন।

নজরুলের মতো কবি যে বাংলা সাহিত্যের আর হবে না এবং এ রকম বিরলপ্রজ প্রতিভা যে শতাব্দীতেও পাওয়া যায় না এ বিষয়েও সভায় বক্তারা আলোচনা করেন।

সভায় নজরুলের গানের বাণী ও সুর নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা হয় তার লোটে দল ও সংগ্রামের কথা। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সঙ্গীত শিল্পী বুলবুলমহলানবীশ।

মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক নূর কামরুন নাহার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি ও লেখক ইম্মে সালমা আবদুল্লা। কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসাবে সেটা ছিল ১৮৯৯ সালের ২৪ মে। বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। দরিদ্র পরিবারে জন্মের পর দুঃখ-দারিদ্র্য ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তার ডাকনাম ছিলদুখুমিয়া। অভাবী পরিবারে বেড়ে ওঠা এ প্রতিভা জীবিকার তাগিদে সম্পৃক্ত হয়েছেন নানা পেশায়।

লেটো দলের বাদক, রেল গার্ডের খানসামা, রুটির দোকানের শ্রমিক—নানারকম পেশা বেছে নিয়েছিলেন শৈশব ও কৈশোরে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে পথে নেমেছেন। শাসকের কোপানলে পড়েছেন, কারারুদ্ধ হয়েছেন।

করেছেন সাংবাদিকতাও। এই সময়গুলোতেই কালিও কলমে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছেন তিনি। বাংলা কবিতায় নজরুলের আর্বিভাব একেবারেই উল্কার মতো।

বাংলা সাহিত্যে আর্বিভূত হয়ে সমস্ত আকাশকে কীভাবে রাঙিয়ে গেলেন অথবা উজ্জ্বল করে দিলেন তা নিয়ে এখনও গবেষণা হচ্ছে দেশ-বিদেশে। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল।

তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গানও কবিতা ছিলপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই ১৯৭২ সালের ২৪ মে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবিকে সপরিবারে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তার বসবাসের ব্যবস্থা করেন।১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্টে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে সমাধিস্থ করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here