ব্রেকিং নিউজ

বৃদ্ধ মা-মেয়ের অবরুদ্ধ জীবন কাটচ্ছে !

বৃদ্ধ মা-মেয়ের অবরুদ্ধ জীবন কাটাচ্ছে !

জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি :: যশোরের  কেশবপুরে এক অসহায় মহিলাকে বসতবাড়ী থেকে বিতাড়িত করতে ভ্যানের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে  সম্পত্তি দখলের চেষ্টার  অভিযোগ পাওয়া গেছে । এঘটনায় ওই অসহায় মহিলা বাদী হয়ে মহিরউদ্দীন দপ্তরী, ইমাম দপ্তরী ও ইমাম দপ্তরীর ২ ছেলে আবুল বাশার দপ্তরী ও আবু সাঈদ দপ্তরীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানা ও ভালুকঘর পুলিশ ফাঁড়ি বরাবর পৃথক দু,টি  লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও  ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া আসামীদের অব্যাহত হুমকীর মুখে অসহায়  জাহানারা বেগম তার বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে।

উপজেলার ভালুকঘর গ্রামের মৃত জামালউদ্দীন দপ্তরীর আসহায় মেয়ে  জাহানারা বেগম (৩০) সাংবাদিকদের জানান,  দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বৃদ্ধ  মা করিমুন্নেছাকে(৯০) নিয়ে বসবাস করে আসছি। পিতার মৃত্যুর পর জাহানারা বেগম তার ২ ভাই  ও ২ বোনের কাছ থেকে ২৫ আগষ্ট-১৫ সালে ভালুকঘর ৯নং মৌজার ৬৩৫ খতিয়ানে ২০৮২ দাগে  প্রায় ৫.২০ শতক সম্পত্তি ক্রয় সূত্রে মালিক হয়। সম্পত্তি ক্রয় করার পর থেকে সে তার  স্বামী ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে বসবাস করে আসছে ।

গত ১ মাস আগে  ভিটেবাড়ী থেকে  তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে বিতাড়িত করতে  তার আপন  ভাই মহিরউদ্দীন দপ্তরী, ইমাম দপ্তরী ও ইমাম দপ্তরীর ২ ছেলে আবুল বাশার দপ্তরী ও আবু সাঈদ দপ্তরী  তাকে  ভ্যানের সঙ্গে প্রায় ১ ঘন্টা দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে মারপিট করে ওই সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে পাঁকা পাচুলী নির্মাণ করে।

এসময় তার  আত্মচিৎকারে প্রতিবেশী মৃত সাহাবুদ্দীনের ছেলে হায়দার আলী, তালেব দপ্তরীর ছেলে বারিক দপ্তরী, মৃত জনাব আলী দপ্তরীর ছেলে রজব আলী দপ্তরী, মৃত ইসাহাক আলী খাঁর ছেলে সামাদ খাঁ, আজাহার সরদারের ছেলে জামাল সরদার, মৃত রিয়াজুন দপ্তরীর স্ত্রী ফিরোজা বেগম, মুকুল দপ্তরীর স্ত্রী শেফালী বেগম, আয়ূব দপ্তরীর স্ত্রী আকলিমা বেগম, খোদেজা বেগমসহ ১০/১২ জন এসে দড়ি বাঁধা অবস্থায়  দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুর রহমানকে খবর দেয়। তাৎক্ষনিকভাবে ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে ওই দড়ি খুলে দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়।

সে আরো জানান, গত ১১ মে ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছিল তারা। এসময় সে বাধা দিতে গেলে তারা তাকে  মারপিঠ করে গুরুতর আহত করেছিল। এ সময় তারা মায়ের সম্পত্তি বিক্রির গচ্ছিত ৮০ হাজার টাকা  ঘরের মধ্যে থেকে মহিরউদ্দীন দপ্তরী, ইমাম দপ্তরী ও ইমাম দপ্তরীর ২ ছেলে আবুল বাশার দপ্তরী ও আবু সাঈদ দপ্তরীসহ ৭ জন মিলে ঘর থেকে জোরপূর্বক ওই টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির প্রতিবাদ করায় তারা  তাকে বেদমভাবে মারপিঠ করে আহত করে। এঘটনায় মা করিমুন্নেছা বেগম বাদী হয়ে গত ১৩ মে মহিরউদ্দীন দপ্তরী, ইমাম দপ্তরী ও ইমাম দপ্তরীর ২ ছেলে আবুল বাশার দপ্তরী ও আবু সাঈদ দপ্তরীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে যশোর বিজ্ঞ আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে তারা প্রায়সময় তাকে ও তার  বৃদ্ধ মা কে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়-ভিতি প্রদর্শন করে চলেছে। তাছাড়া যারা ইমাম দপ্তরির হাত থেকে তাকে উদ্ধার করেছিল তারা তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দিয়ে হয়রানী করে চলেছে ।

এব্যাপারে আবুল বাশার দপ্তরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, জাহানারা বেগমকে ভ্যানের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখিনি আমরা । শালিসের মাধ্যমে ওই সম্পত্তি আমাদের হওয়ায় আমরা পাচুলী নির্মাণ করেছিলাম। তাদের ঘর থেকে ৮০ হাজার টাকা চুরির যে অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে উঠেছে তা ষড়যন্ত্রমূলক বরং আমাদের সম্পত্তির ওপরে পাচুলী নির্মাণটি তারাই ভেঙ্গে দিয়েছে।

এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান বলেন, জাহানারা বেগমকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছিল শুনে ঘটনাস্থলে যেয়ে দেখি আসলে জাহানারা বেগমকে ভ্যানের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছে ওই মহিরউদ্দীন দপ্তরী, ইমাম দপ্তরী ও ইমাম দপ্তরীর ২ ছেলে আবুল বাশার দপ্তরী ও আবু সাঈদ দপ্তরী। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ডেকে দড়ি খুলে দেওয়া হয়েছিল।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

আমি এক পয়সা ঘুষ খাব না: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ...