বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের কষ্ট

গল্প

বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের কষ্ট

-মিশকাতুল রিমা মিশকা

অনেক দিন থেকে ভালোবাসার স্থানে যাওয়া হয় না।মন ভালো রাখার জন্য ভালোবাসার কিছু স্থান হৃদয়ের পুষে রাখতে হয়।ঠিক আমার হৃদয়ে পুষে রেখেছি “বৃদ্ধাশ্রম” নামে মাঁয়ার বাঁধন ফুল বাগিচা।যেখানে ভ্রমরের মতো হাজার মা_বাবা থাকে। এসব ভাবতে ভাবতে বৃদ্ধাশ্রমে আসা পথ থমকে গেলো।হৃদয়ে কি যে,অন্যরকম মায়া,ভালোবাসা , স্নেহ সবকিছু মিলিয়ে অনুভূতিটা ছিল মরুভূমির চরা বালির মতো।ইস!আমি ও যদি দিতে পারতাম একখানা “বৃদ্ধাশ্রম”।
এই সব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ পিছন থেকে মৃদু কন্ঠে, এই মেয়ে তোমার ১০ মিনিট সময় হবে।অবাক না হয়ে, দেখি একটি বৃদ্ধ মহিলা নিস্তব্ধ কন্ঠে হাতে ইসারা দিয়ে ডাকছে।আমি উনার পাশে যেতেই আমাকে আবার বলল,
তোমার ১০ মিনিট সময় হবে” মা”
“মা” শব্দটা শুনে বুকের ভেতরে চিন করে ব্যাথা অনুভূতি অনুভব করলাম,অদ্ভুত রকমের এক অনুভূতির কাছে দুবল হয়ে পড়েছি। এত সুন্দর মা’ ডাকতে পারা মা’গুলো বৃদ্ধাশ্রমে কেন?””মা’য়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত””কথাটা কি ভুলে যায় আমরা? তাদের জায়গা তো অন্তরের মনি কোঠরে হওয়া উচিৎ।
.
___অবশ্যই হবে আপনাকে কোনো সাহায্য করবো পানি বা খাবার এনে দিবো,আমাকে শুধু বলুন,আমি এনে দিচ্ছি। বৃদ্ধামহিলাটি মুচকিে হেঁসে , না’রে মা খাবারের উপর দিয়ে মা’য়েদের জীবন চলে না এই পৃথিবীতে,পরক্ষণে বৃদ্ধা মা কান্না জরিত কন্ঠে আমার কিছু চাই না,শুধু ১০ মিনিট আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে। কথাটা বলতে জড়জড়িত কান্না কন্ঠে, আমি ২০ বছর থেকে বৃদ্ধাশ্রমে পরে আছি। কথাটা শুনতেই, হঠাৎ কেন জানি মনে হলো হৃৎপিন্ডটা অস্বাভাবিক ভাবে লাফাতে শুরু করল,আমি বুকের উপর হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলাম,কষ্ট কমানোর বৃথা চেস্টা করলাম।
.
২০ বছরে আমার ছেলে বা ছেলের বউ কেউ খবর নিতে আসেনি, এতটা পর হয়ে গেছে তার মা,।এই ২০ বছরে হাজার কষ্ট বুকে চেপে রেখেছি। বলার মতো কাউকে খুঁজে পাইনি। আসলে তোমাদের মত” ইঙ্গান ছেলে_মেয়ে বৃদ্ধদের কথা শুনতে চাই না”।
__ঠিক তো বলেছে, এই যুগের ইঙ্গান মানুষগুলো কল্পনা সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। সত্যিই আমাদের মনুষ্যত্ব কত নিচে নেমে গেছে।
তারা তো সম্পদ চাইনি, শুধু তাদের না বলা কথাগুলো বলতে চাই।কথাই আছে, “তোতা পাখির মিষ্টি কথায় সবাই ভুলে যায়,আর কাক তো কার সম্পদ নষ্ট করে না তাও তাকে কেউ পছন্দ করে না।””সত্যি পৃথিবীতে মুখোশের আনাগোনা “”
__বৃদ্ধ মা’র কথা শুনে কি বলবো কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না।২০ বছর এটা বিশাল ব্যাপার, হৃদয়ে দাগ কাটার মতো। শুধু অভাক হয়ে বৃদ্ধ মা’র দিকে তাকিয়ে ছিলাম।বৃদ্ধ মা’র চোখে অজড়ে নিস্তব্ধ জল পড়ছিল।
.
জানো মা,আমার বয়স যখন ৫০ বছর তখন আমাকে বৃদ্ধা শ্রমে দিয়ে চলে যায়।অনেক ইচ্ছে ছিল ছেলের সাথে শেষ বয়সটুকু কাটাবো। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর আমি ওকে একা মানুষ করি।ও স্বপ্ন পূরণ করার জন্য আমি একা সমাজের সাথে লড়াই করেছি। সমাজের হাজার মানুষের কথা শুনেছি কিন্ত ওকে কষ্ট বুঝতে দেইনি।
সবার থেকে আগলে রেখেছি,

ওর স্বপ্ন পূরণ করেছি নিজের সুখ বিলাসিতা বিসজম দিয়ে ওঁকে মানুষ করেছি ওর সুখের জন্য নিজের একটা কিডনি বিক্রি করে ওর স্বপ্ন করেছি। কিন্তু বুঝতে পারিনি আমার ছেলে শেষ বয়সে আমাকে রেখে চলে যাবে।অনেক ইচ্ছে হয় আমার খোকাকে জড়িয়ে ধরে কাদতে ওঁকে বলতে, আমাকে এই বৃদ্ধাশ্রম থেকে নিয়ে যা বাবা,।এই ২০ বছরে আমি সব কথা আমি ভুলে যাব যদি একবার খোকা আমাকে “মা” বলে ডাকে।কথাটা শুনে কেন যানি নিজেকে অপরাধবোধ মনে হচ্ছিল ভিষণ। “” মা বুঝি মা’য়েই হয়,,,

যান আমার একটা নাতনি আছে তাকে মুখ থেকে দাদিমা শুনতে ইচ্ছে করে। গল্প শুনাতে ইচ্ছে করে। আরো অনেক ইচ্ছে ছিলো কিন্তু কোথায় জেনে সব শেষ হয়ে গেছে।সুখের থাকার নেশায় আপন মা কে ভুলে গেছে।
আমিও চেয়েছিলাম ছেলে_বউ নাতনি সবাই সুখে থাকবো।
কিন্ত আমার ছেলে চেয়েছিল অন্য কিছু তাদের সুখের থাকার ছোট ঘরে আমার জায়গা হলো না।জায়গা হবে কি করে!! আমি তো বৃদ্ধ হয়েগেছি। আমার সুখ বলতে তো কিছু নেই। ২০ বছর শুধু নিজের সাথে যুদ্ধ করে গিয়েছি, নিজের ককথাগুলো কাউকে বলবো।

ভেবেছি, মারা যাওয়ার আগে কাউকে কষ্টগুলো বলে যাবো। আসলে অনেক বছর ধরে জমে থাকা কষ্টগুলো না বলাতে পাথর হয়ে যায়।আর আমি যাই না আমার কষ্টগুলো পাথর হয়ে যাক। আজ কষ্টগুলো বলতে পারাই অনেক হালকা লাগছে। আমার মনে হয়,””প্রত্যেকটা মানুষের ককষ্টগুলো বলা উচিৎ এমন কারো সাথে যে তার কষ্ট শুনার পর চোখের কোণে দুফোঁটা জল চলে আসে। দেখ,তোমার চোখে জল চলে এসেছে।এই চোখের জল আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা না মায়া পরা দাগকাটা জল”।
সত্যি বলতে, সবাইকে কষ্টের কথা বলতে নেই।তার কথাগুলো মমনোযোগ সহকারে শুনবে। সে কি বলছে সেটা বুঝার চেষ্টা করবে “” সবাই ভালোবাসাতে পারে কিন্তু অন্য কারো জন্য কান্না করতে পারে না””!!!
কথাটা শুনেই হৃদয়ের অনুভূতি থমকে গেল। এতো সুন্দর কথা, পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে বিশাল অগ্নিকান্ডে পড়ে গেলেও এই কথার মায়ার জাল থেকে বেড়তে পারতাম না।

.
বৃদ্ধ মা চোখের জল মুছে, মুচকি হেঁসে দিয়ে বলো,
আমি তোমার ১০ মিনিটের জায়গাই বোধ হয় ১ ঘন্টা সময় নষ্ট করে ফেলেছি।
“ইস!! যে মানুষ গুলো হাজার কষ্ট থাকার পর, তাদের মুচকি হাসিগুলো হৃদয়ে পাথর নিক্ষেপ করার মতো যন্রনা দায়ক””..!!
১০ মিনিট সময় হারিয়ে জীবনে শ্রেষ্ঠ কিছু কথা শিখেছি, কথাটা বলেই,চোখের পলকে হারিয়ে গেল বৃদ্ধ মা’টি।
“” থমকে গেল ভালোবাসার অস্তিত্ব “”
“মরে গেল অনুভূতি ”
“পড়ে রইলো মায়া”
“নিস্তব্ধ কান্নার চিৎকার ”
.
সত্যি আফসোস হয়, কমবেশি আমরা সবাই পরিশ্রম করি,
শুধু পার্থক্য এইটুকু, “কেউ করে দুনিয়ার জন্য আর কেউ আখিরাতের জন্য।

” তাই বুঝি,দুনিয়ার ক্ষণিকের সুখের জন্য মায়ের জায়গা “” বৃদ্ধাশ্রমে””

.

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিজয় দিবস ও বাংলাদেশ

লিজা কামরুননাহার :: বাংলাদেশে বিশেষ দিন হিসেবে রাষ্ট্রীয় ভাবে দেশের সর্বত্র পালন ...