বিশ্ব মা দিবসে মায়ের সততা ও উদারতার এক পলক
বিশ্ব মা দিবসে মায়ের সততা ও উদারতার এক পলক

ইসমাইল হোসেন বাবু: মা দিবসের কোন দিন ক্ষণ হয় না ৩৬৫ দিন নয় সারাটি জীবন মা অতি মমতার।

গত ৩/৪দিন আগের কথা মা বললো এক গাছে আম পেঁকে গেছে কারন এই বছর বৃষ্টি না হওয়াতে আগাম আম পেঁকেছে গরমে।
এই গুলো তোমার ভাগের আম তোমার বাকি ভাইদের গুলোও তাদের বন্টন করে দেওয়া হয়েছে। বোনের টা তার বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। আমি অবাক হইলাম। বললাম একি কথা আমি কি আলাদা হয়ে গেলাম।
মা বললো না। আলাদা হবা কেন, আমিন নিজেই ভাগ করেছি সবার টা সবার জন্য পোঁছে দিয়েছি আলাদা করে এবং ভাগ টা সমান করে করেছি। সব গাছের আমের এমনি ভাগ হবে।
কিছুক্ষণ চুপ ছিলাম।
মা আমার দিকে তাকিয়ে বললো আমার যা দ্বায়িত্ব আমি তা পূর্ণ করবো আর সেটা হবে সমান মত।
কারন আল্লাহ সব দেখেন জানেন, আমি আমার টা করবো।

শুধু আমের বেলায় না সব কিছু ভাগ করে সবার টা সবার দ্বায়িত্ব দিয়ে দেন।

আমাদের সকল ভাই বোনের নামে কুরবানী দেন। সবাইকে সবার গুলো আলাদা করে দেন,
সমান করে ।

আমি কখনও দেখেনি একটা ডাবের পানি সে নিজে একা খেতে, কখনও দেখিনি এক কাপ চা নিজে খেতে বাসায় সব ভাবিদের নিয়ে বসে এক সাথে গল্প সাথে চা।

আমার বাবা ২০১৫ সালের ২৫ডিসেম্ভর আমাদের ছেড়ে যায় পরকালে।
কখনও মনে হচ্ছে না বাবা নেই, কারন মা বাবার সকল চাহিদা পূর্ণ করেন।

আমি পরিবারের সকলের ছোট হওয়াতে সবার অতি আদরের। মা আমাকে নিয়ে গর্ব করে যা বাবা নিজেও করতো ছোট থেকে।
ছোট বেলা থেকে যখন আমি ক্লাস সেভেনে(২০০৭)পড়ি তখন থেকে সংগঠন করি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে কাজ করি। মা খুব পছন্দ করতো এইসব। চুপি চুপি সব রকম সহযোগীতা করতো যেমন,টাকা, সময়, সুযোগ।

মায়ের কাছে আমার করা সংগঠন গুলোর মধ্যে অতি প্রিয় ছিল টিআইবি, পরবর্তীতে সবুজ বাংলাদেশ।
সব সংগঠনের পিছনে যত খরচ করি তার সিংহ ভাগ অর্থ আমার মায়ের দেওয়া অর্থ।

একজন মহিষী নারী আমার মা, পৃথিবীর সব চাইতে কাছের মানুষ, পবিত্র মানুষ, যে নিজের চাইতে বেশি আমাদের ভাই বোন কে নিয়ে চিন্তা করে।
সে একজন ধৈর্য্যশীল নারী, একজন প্রতিভাবান নারী, একজন ভালো অভিবাবক।

আমি এবং সেজো ভাই ছাড়া বাকি সব ভাইকে বিদেশে পাঠিয়েছেন।
বিদেশে বিজনেস করতে আর্থিক সহযোগীতা করেছেন।
কোন কোন ভাই ৩/৪বার করে দেশে বেড়াতে এসে আর যেত না বিদেশে, আবার অন্য দেশে পাঠাইতো।

মায়ের প্রিয় খাবার বাজারের সব চাইতে বড় মাছ। হোক সেটা যে কোন মাছ।
এই জিনিস টা আমার নিজেও ভালো লাগে। ৪দিন আগে বাজারের সব চাইতে বড় মাছ কিনবো কিনা জিগাইতেই বললো না তো করি নি 😄
পরে সত্যি কিনেছি।

তার স্বপ্ন আমাদের নিয়ে বিশেষ করে আমাকে নিয়ে।

বাবা দাদার বাড়িতে গেলে সবার সাথে পরিচয় করে দিতো এই হলো আমার ছোট ছেলে। ঠিক বাবার মত আমার মাও নতুন কাউকে পেলেই ওহ আমার ছোট ছেলে।

মা নিজের কষ্ট গুলো আমাকে বলতে পছন্দ করেন।অনেক সময় উত্তর না দিতে পারলে চুপ থাকি। তিনি বুজে আমি কষ্ট পেয়েছি। আস্তে স্থান ত্যাগ করে সেখান থেকে।
যা খেতে চাইবো, অল্প সময়ে রেডি করে পেলবে। মায়ের কাছে টাকা নাই আমিও জানি সবাই জানে। বাট জানে আমার পকেট খালি। বের হওয়ার সময় ডাকে শুনে যা। এক কোনে লুকাই নিয়ে দেখি ছোট ছোট ব্যাগ বাহির করে ওনার আলমারী থেকে। অগোচানো টাকা এক মুট বা গোচানো তবে এলে মেলো।
১০০/৫০/২০/১০ টাকা গুনে দেখি হাজার টাকা।
যদি কোন সময় আসলেই থাকে না। ভাবি একটা ডাকবে আর বলবে ৫০০/১০০০টাকা দাও তোমারে দিচ্চি পরে। হুম এটাই মা।

মা আমার পছন্দ করা শাড়ি খুব পছন্দ করেন। তিনি যে শাড়ি হোক সাদা কোন মতেই থাকতে পারবে না তবে সিম্পল। অতি সহজে মানুষের সাথে মিশে যাবে। সহজে বিশ্বাস করবে। যাকে পছন্দ করবে তার জন্য সব করতে রাজি।
মায়ের সাথে অনেক ভালো ভালো ছবি আছে। আমি পোস্ট করতে চাই না। কারন মা একজন পর্দানশিন নারী। মা সুন্দর মনের মানুষ। ওনাকে যতেষ্ঠ সুন্দর করে বানিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা।

মা মধু্র একটি শব্দ। যার মা নেই সে বুজে মা কি জিনিস।
মা ছাড়া বেঁচে থাকা অতি কষ্টের।
মা একজন শিক্ষক
মা আমাদের জান্নাত।

আল্লাহ পৃথিবীর সকল মা কে রমজানের উচিলায় মাপ করে দিন।
মৃতদের জান্নাতবাসী করুন।
জীবিতদের নেক হায়াত দান করুন আমিন।

লেখক, সাধারণ সম্পাদক সবুজ বাংলাদেশ।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here