বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে ”ফ্রাইডেস ফর ফিউচার” খ্যাত গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক

বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে ''ফ্রাইডেস ফর ফিউচার" খ্যাত গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক।সোহানুর রহমান :: আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল গ্রেটা থানবার্গের হাত ধরে। স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেটা পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহতা অনুভব করে একাই শুরু করে এই আন্দোলন। গ্রেটা-র পক্ষ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন খুব দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে পৌঁছে যায় নানা দেশের মানুষের কাছে।

সচেতন নাগরিকেরা এগিয়ে আসতে চান গ্রেটার এই উদ্যোগে অংশ নিতে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বৈশ্বিক আন্দোলন, সেখানে অংশ নেয় ১২০টিও বেশি দেশ। বিশ্বমিডিয়ার মতে, গ্রেটার ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্দোলন। বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সচেষ্ট হয়েছে আন্দোলনটি।

বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে ''ফ্রাইডেস ফর ফিউচার" খ্যাত গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক।এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (২৪ শে মে) বাংলাদেশের ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জায়গায়
”ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস” এবং “ইকো-নেটওয়ার্ক ” এর ছত্রছায়ায় পালিত হয় “গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক-বাংলাদেশ”।

রাজধানী ঢাকার উওরা থানার হাউজ বিল্ডিং মোড়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন & টেকনোলজি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস & টেকনোলজি এর প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী জলবায়ু রক্ষার্থে অংশগ্রহণ করে। একই ধারায় রাজশাহী বিভাগের চুয়াডাঙা জেলার আলমডাঙায় রাজশাহী ইউনিভার্সিটির রাজু আহমেদ ও ওসমানপুর প্রাগপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাইমেট স্ট্রাইক এ অংশগ্রহণ করে। উক্ত পোগ্রামে দেশব্যাপী নেতৃত্ব দেয় ” ইকো-নেটওয়ার্ক” টিম।

প্রতিষ্ঠানটির সহ প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু এইচ হক রাজধানী উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এ এক বক্তব্যে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এখন একটি বিশ্ব ইস্যু। এর প্রভাব থেকে মুক্ত নেই পৃথিবীর কোনো দেশই। মানুষ দ্বারা সৃষ্ট পরিবেশীয় বিপর্যয়ই এর প্রধান কারণ। আর মানুষই পারে কেবল এই বিপর্যয় সামাল দিতে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুতশক্তি সহ অন্যান্য শক্তির ব্যবহার সীমিতকরণ এবং অপচয় রোধ, কলকারখানা থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ও নাইট্রোজেন যোগের নির্গমণ দেশের সরকার দ্বারা সীমিতকরণ, প্রাইভেট ট্রান্সপোর্ট কমিয়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সবত্র যত সম্ভব বৃক্ষরোপনই পারে জলবায়ুর এই নেতিবাচক প্রভাব বিমুক্ত করে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ আবার সৃষ্টি করতে।”৷

বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে ''ফ্রাইডেস ফর ফিউচার" খ্যাত গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক।ঢাকা ও রাজশাহী শহরের রাজপথ ও পাবলিক প্লেসে “ইকো-নেটওয়ার্ক টীম” ক্লাইমেট স্ট্রাইক এর আয়োজন করে জনসাধারণ ও যুবদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বেঁচে সুস্থ জলবায়ুর প্রয়োজনীয়তা ও বিস্তরনের প্রক্রিয়া নিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করে।

”ইকো-নেটওয়ার্ক” এর প্রতিষ্টাতা শামীম আহমেদ মৃধা মনে করেন, “পরিবেশ বাঁচলেই বাঁচবে দেশ, গড়ে উঠবে নতুন এক বাংলাদেশ। আর ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’ এর যথার্থ প্রয়োগই পারে বাঁচাতে একটি সুস্থ সমাজ ও পরিবেশ।”

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঘাসফুলের উদ্যোগে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন

ঘাসফুলের উদ্যোগে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন

স্টাফ রিপোর্টার :: গত ০৫ আগস্ট ‘শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে মাতা-পিতাকে উৎসাহিত ...