বিলুপ্তীর পথে আদী সাংস্কৃতির প্রাচীন ঐতিহ্য ‘যাত্রা’

রাজু কুমার দে, নাটোর প্রতিনিধি :: প্রতিটি দেশের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য সাংস্কৃতি। তেমনি বাংলাদেশে রয়েছে একটি নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতি। আর এই বাংলার আদী সাংস্কৃতির প্রাচীন ঐতিহ্য যাত্রা আজ বিলুপ্তপ্রায়। সমাজ গড়ার এই হাতিয়ার আজ বিকোল প্রায়, এর পিছনে রয়েছে অনেকগুলো কারণ। প্রায় ১৯৫১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ নানা বিধ কারনে হারিয়ে যাচ্ছে, সেই সাথে বাংলার ঐতিহ্য সাংস্কৃতির এই ধারা আজ ধংশের পথে।

বাংলাদেশের এক জন প্রবীণ যাত্রা শিল্পির সাথে আলোচনা কালে সামগ্রীক বিষয় উঠে আসে। তিনি বলেন আজ আমরা বাংলাদেশী বাঙ্গালী হয়ে হারিয়ে ফেলছি আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতি।

তিনি আরো বলেন, এক সময় গ্রাম বাংলায় প্রচলিত ছিল যাত্রা/নাটক সংস্কৃতি। বর্তমানেও যাত্রা নামের সংস্কৃতিটি আছে, তবে যাত্রা নামধারী অপসংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে এই যাত্রা। আগে যাত্রা দেখতে যেত সপরিবারে এবং একটি সুস’ সুশীল সমাজ কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আজ যাত্রা প্যান্ডেলে সপরিবারে যাওয়া সম্ভব নয়। যাত্রার নামে চলে অশ্লীল নৃত্য অপর দিকে সমাজের যুব সমপ্রদায় নেশার মত বিপদগামী হচ্ছে তা প্রদর্শন করে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যাত্রা শিল্পীর সংখ্যা প্রায় ৩লক্ষ এর মধ্যে প্রকৃত যাত্রা শিল্পি প্রায় ৮০হাজার, বাকীরা সব নাম ধারী অসাধু ব্যবসায়ী। অপর দিকে সুষ্ঠ সমাজ ব্যবস্থা গড়তে যাত্রা নাটক সমাজের দর্পন আর এই সংস্কৃতিকে বাঁচাতে যাত্রা সংস্কৃতির নামে এই অপসংস্কৃতি নৃত্য/নাচ বন্ধ করতে হবে। মূলত এই অপসংস্কৃতির অন্তরায় রয়েছে যাত্রাক্লাব নামধারী বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমান প্রতিতালয় যারা টাকার বিনিময়ে এই কাজগুলো করে যাচ্ছে। অপর দিকে কোথায় যাত্রা হলে সেখানে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন দেয়া হয় যাত্রার নামে, কোন অশ্লীল নৃত্য বা অপসংস্কৃতিতে নয়। কিন্তু যাত্রার নামে অনুমোদন নিয়ে সেখানে অশ্লীলতা, নগ্নতা, পতুল নাচ, ভ্যারাইটি শো, মিনি সার্কাসে এগুলো প্রদর্শন করছে এক শ্রেণীর মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে চলছে যাত্রা অথচ সেই যাত্রায় কিছু সংখ্যাক প্রশাসনের কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে বা ঘুষের মাধ্যমে সেগুলো বাধা প্রাদান করা বাদ দিয়ে হয়তবা সহযোগীতা করে চলেছে।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যারা এ পেশায় নিয়োজিত অর্থাৎ নৃত্য প্রদর্শন বা যাত্রা নামধারী মানুষের জীবন জীবিকা কিভাবে নির্বাহ করবে, কিন্তু একটু চিন্তা করলে, বাংলাদেশে রয়েছে বড় একটি রপ্তানি খাত গার্মেন্স ও এনজিও ছাড়াও বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। তারাও পারে এই খারাপ কাজ বর্জন করে কর্ম সন্ধানী হয়ে সুন্দর জীবন যাপন করতে, মূলত বেশীরভাগ মেয়েরা অতি দরিদ্র পরিবার, রাইস মিলে কাজ করে, কিছু সংখ্যক পতিতা পল্লির অর্থলোভী অসাধু ব্যবসাদের মাধ্যমে এই নারীরা নগ্নতা/নৃত্য করতে এই পথে আসে। তারাও পারে সুন্দর ভাবে জীবিকা নির্বাহী করতে এবং জীবনকে পালটে ফেলতে, তবে কেন যাত্রার নামে অশ্লীল দৃশ্য প্রদর্শন করতে হবে। এতে করে তাদের জীবন ধংশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেই সাথে সমাজকেও ধংশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আজ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের যাত্রা শিল্পকে ধরে রেখেছে অশ্লীল নৃত্য বর্জন করেও। তবে আমাদের দেশে কেন আমরা ধরে রাখতে পারবোনা আমাদের ঐতিহ্য/সংস্কৃতির ধারা এই যাত্রাকে।

তিনি অত্যান্ত অশ্রুভরা চোখে বলেন, আজ প্রকৃত যাত্রা শিল্পিদের কোন মূল্যায়ন নেই। মূল্যয়ন তাদের যারা নগ্নতা, অশ্লীতা নৃত্য প্রদর্শন করে। প্রকৃত যাত্রা শিল্পিদের অবস্থা অত্যান্ত করুন। কেননা তারা দীর্ঘদিন এ পেশায় নিয়োজিত অথচ অপসংস্কৃতির কারনে আজ তারা দারিদ্রতরি সাথে লড়াই করছে। খুব কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে কারণ তাদের প্রকৃত মূল্যায়ন নেই। এই যাত্রা ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছিল যে প্রকৃত যাত্রা শিল্পিরা আজ তাদের বাচাবে কে ?

জননেত্রী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ডটার অফ পিস জননেত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠ, সুন্দর এবং একটি সুশীল শিক্ষিত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ব্যক্ত করেছেন সেই সাথে তরুন যুব সমাজকে মেধাবী ও আত্ম নির্ভরশীল করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আসুন নৃত্য বর্জন করে সমাজ গড়ার হাতিয়ার, যাত্রা/নাটককে ফিরিয়ে আনি এই সোনার বাংলাতে। সেই সাথে সরকারের সার্বিক সহোযোগীতায় আবহমান কালের বাংলার ঐতিহ্যয়ের ধারা যাত্রা হয়ে উঠুক প্রকৃত সমাজ দর্পন ও সুন্দর সমাজ গড়ার হাতিয়ার।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জুয়েলের গানে মডেল গায়ক ইমরান ও শুভশ্রী কর

স্টাফ রিপোর্টার :: হালের ক্রেজ ইমরান মাহমুদুল। কন্ঠ, সুর আর সঙ্গীত দিয়ে ...