বিরহ নয়; বর্ষা মানেই আনন্দ!

Neel Sadhu

নীল সাধুঃঃ  প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ আষাঢ়কে বলেছেন ‘ধ্যানমগ্ন বাউল-সুখের বাঁশি’।
আষাঢ়, বর্ষা, বৃষ্টির মাঝে ধ্যানমগ্নতা অবশ্যই আছে আর তা অবশ্যই সুখের। আনন্দের। তৃপ্তির! আর অবশ্যই অনেকটা নস্টালজিয়ায় ভরা! এসব ভেবেই হয়তো রবীন্দ্রনাথা ঠাকুর লিখে গেছেন,

এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায় –
এমন মেঘস্বরে বাদল – ঝরঝরে
তপনহীন ঘন তমসায়!!

আষাঢ়ের প্রথম দিন নিয়ে কিছু লিখতে গিয়ে বর্ষা নিয়ে অনেক ভাবনা মনে এলো। অন্যান্য আরও অনেক সাদামাটা বাঙ্গালির মতন আমারও বর্ষা নিয়ে নানা আদিখ্যেতা আছে। সময় পেলেই অবারিত এলাকা দরিয়া হয়ে থাকা নিম্নাঞ্চল ঘুরে বেড়াই, বৃষ্টি দেখি, ভাবি, ভিজি, নদীর সঙ্গে থাকি। খেয়ালে বেখেয়ালে কদম ফুলের জন্য অপেক্ষায় থাকি।

কবি কালিদাসের মতই আমরা বিরহের আবহেই ভাসি, ডুবি! মহাকবি কালিদাস তার মেঘদূত কাব্যে আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে বিরহ কাতর যক্ষ মেঘকে দূত করে কৈলাশে পাঠিয়েছিলেন তার প্রিয়ার কাছে।
আহা বিরহ!
প্রতিটি বাঙ্গালীর হৃদয়ে মেঘ বৃষ্টি বর্ষা কদম কেতকী এক অনিন্দ্য অপরূপ অনুভবের দোলা দিয়ে যায়!
আমরা যারা নগরে থাকি তারাও দুলি এই একই অনুভবে।

তবে আমার কাছে বিরহ নয়; বর্ষা মানেই আনন্দ।
অনিন্দ্য আনন্দে থাকি আমি বর্ষায়। প্রকৃতির খুব কাছে থাকার লোভে বেশ কয়েকটা দিন গ্রামের বাড়ী কাটাই। সবুজের কাছে থাকি।
নস্টালজিয়া!

প্রবাসে থাকার সময়টা ছাড়া এভাবেই কেটেছে আমার সকল বর্ষা দিন।
আমি যখন খুব ছোট তখন আমাদের বাড়ী থেকে পালতোলা নৌকায় আম্মার সাথে নানু বাড়ী এসেছি। নানু বাড়ি থেকে খালার বাড়ি গেছি – সেসব ছিল আনন্দ ভ্রমণ। আমার মনে আছে খালার বাড়ি যাবার সময় একটা কদম গাছ পড়তো।
বিশাল বড় ছিল গাছটি।
বেশ কিছুটা পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সেই গাছে থাকতো কদম আর কদম। কালো জলে সেই কদম ফুল ভর্তি গাছ দেখে কি যে ভালো লাগতো।

কোথাও বেড়াতে গেলে ঘরের সামনে থেকে নৌকায় করেই গিয়েছি। আবার নৌকাতেই ফেরা। সেই সময়টায় ইঞ্জিন নৌকার চলাচল ছিলনা। ছোট ছৈ এর নৌকা বা পালতোলা উদাম নৌকা এই ছিল তখনকার বর্ষা ঋতুর একমাত্র বাহন।

বর্ষায় গ্রামের মানুষজন একেবারেই কোন কাজ কর্ম করে না। বর্ষার আগেই ধান ঘরে তুলে ফেলার পর এই সময়টায় তারা অলস আনন্দ সময় কাটায়।

একটা সময়ে বর্ষায় বিয়ে শাদির আয়োজন হত খুব। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের সুবিধার জন্য এই সময়টায় বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় ছিল। বাংলা সিনেমার নানা গান বড় বড় গ্রামোফোন রেকর্ডে মাইকে বাজিয়ে নৌকা ভরে বরযাত্রীরা যেতো। এই দৃশ্য গ্রামের সকলে দলবেঁধে দেখতো। এখন অবশ্য চির পুরাতন এই গ্রামীণ চিত্রটাই পাল্টে গেছে। বদলে গেছে সকল কিছু।
তবু বর্ষা এলে এসব কত কথা মনে হয়!!

আষাঢ়ের প্রথম দিনের শুভেচ্ছা!!

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সত্তর’র ভয়াল ১২ নভেম্বর

এএইচএম নোমান :: ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রোজা কনকনে শীত গভীর রাতে ...