‘বাড়ি বদল’ ষ্টাফ রিপোর্টার :: চ্যানেল নাইনে ১৪ অক্টোবর দুপুর ২:৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে বিরোতিহীন টেলিফিল্ম ‘বাড়ি বদল’। টেলিফিল্মটির মূল গল্প: আফসানা বেগম। রচনা: মাসুম শাহরীয়ার।

পরিচালনা করেছেন-আবু হায়াত মাহমুদ। অভিনয় করেছে- মম, মৌসুমী, কল্যাণসহ ও আরো অনেকে।

আদনান সাহেব বিপত্নিক মানুষ। প্রায় সাত বছর আগে স্ত্রী মারা যাবার পর ভদ্রলোক একাই থাকতেন ভাড়া বাড়িটিতে। আড়াই বছর আগে সঙ্গে এসে থাকতে শুরু করে কাছাকাছি বযসের এক জুনিয়র বন্ধু। সম্প্রতি বিয়ে করার পর বন্ধুটি নিজের সংসার শুরু করতে নতুন বাসা ঠিক করেছে। এদিকে পাশের বাড়ির যে দুতলা ফ্ল্যাটটিতে তিন বছর ধরে টু লেট ঝুলছিলো, হঠাৎ দ্যাখেন টুলেটটা নেই। পাশের দুতলাটা আদনান সাহেবের ফ্ল্যাটের পাশাপাশি দুই বারান্দা থেকে মুখোমুখি বসে অনায়াসে গল্প করা যায়।

দুটো ফ্ল্যাটের বেডরুমের জানালাও মুখোমুখি। পাশের ফ্ল্যাটটা ভাড়া হয়ে যাবার পর আদনান সাহেবকে অস্থির মনে হয়। রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন। এই ফ্ল্যাটটা নিয়ে আদনান সাহেবের পূরানো কিছু স্মৃতি রয়েছে। স্ত্রী মারা যাবার পর তিনি যখন একা তখনই এক দম্পতি ফ্ল্যাটটা ভাড়া নেন। রহস্যময় অমিমাংসিত এক প্রেমের গল্প সেটা। আদনান সাহেবের ইচ্ছা করে নতুন ভাড়াটিয়াকে গল্পটা বলতে। অন্তত তাকে সাবধান করা দরকার।

নতুন প্রতিবেশিও তার গল্পের প্রতি আগ্রহ দেখান। আমরা সেই গল্পটা দেখি। প্রায় তিনবছর আগে ফরিদ সাহেব এবং তার স্ত্রী ঝুমা ফ্ল্যাটটাতে উঠেন। নিঃসন্তান হাসি খুশি দুজন মানুষ। মেডিক্যাল সাইন্স জানিয়ে দিয়েছে তারা সন্তানের মুখ দেখবেন না। এ নিয়ে তাদের আফসোস নেই। সৌখিন দু’জন মানুষ তারা। সারা ঘরে নানা রকম এন্টিকস দিয়ে সাজানো। ভদ্রলোকের প্যাকেজিংয়ের ব্যাবসা। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে ব্যাবসায় দিতে হয়। ঝুমা ওই সময়টাতে বাড়িতেই থাকেন।

আদনান সাহেবের সঙ্গে পরিবারটির বন্ধুত্বপূর্ণ সখ্যতা তৈরী হয়। একই সঙ্গে ঝুমার প্রতি অচেনা রহস্যময় এক ধরনের আসক্তি টের পান নিজে। যদিও সেই আসক্তি প্রকাশ্যে কখনোই মাত্রাজ্ঞান লঙ্গন করে নয় অবশ্য নিজের ঘর অন্ধকার করে পাশের জানালায় চোখ রেখে ফরিদ আর ঝুমার খুনসুটি গুলো দেখা আদনান সাহেবের প্রতিদিনের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়। এই অভ্যাসই শেষে রহস্য তৈরী করে।

জানালাদিয়ে ঘুমন্ত ঝুমাকে একই সময়ে বারান্দাতেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। কিন’ রহস্য ছাপিয়ে ঝুমার প্রতি তার

প্রেম, তার আসক্তি তাকে ঘোরের মধ্যে নিয়ে যায়। এক রাতে নিজের চোখে দ্যাখেন ঝুমা ফরিদ সাহেবকে একটা নেপালি ভোজালি দিয়ে খুন করছে। পরদিন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ অবস্থায় ফরিদ সাহেবের লাশ আবিস্কার হয়। ভয়াবহ সেই ঘটনার সাক্ষী হয়ে আদনান অসুস’ হয়ে পড়েন। আরো আশ্চর্য হন যখন জানতে পারেন ঝুমা নামের মেয়েটির কোন অস্তিত্ব কেউ জানতো না। সবাই জানতো ফরিদ সাহেব একাই থাকতেন। অথচ দীর্ঘ এক বছর ধরে পরিবারটির সঙ্গে আদনানের সখ্যতা। তাহলে ঝুমার সঙ্গে এক বছরের প্রেমের অভিজ্ঞতাটি কি কেবলই একটি বিভ্রম? খুনের ঘটনার পর ফ্ল্যাটটা প্রায় আড়াই বছর খালি পড়ে থাকে। কাজেই নতুন ভাড়াটিয়াকে দেখে আদনান অসি’র হয়ে পড়ে।

এই ভদ্রলোকও বেশ সৌখিন। সকালের পরিচয়ের পর আদনান নিজেই সন্ধ্যায় গিয়ে হাজির হন পাশের ফ্ল্যাটে। নতুন ভদ্রলোককে পুরো ব্যাপারটা খুলে বলেন। ভদ্রলোক সাইকোলজির শিক্ষক, তিনি নিজের মতো ঘটনার ব্যাখ্যা দেন কিন’ আলোচনার এক পর্যায়ে ভদ্রলোকের স্ত্রীকে দেখে চমকে ওঠে আদনান। ঝুমা। এ কি করে সম্ভব। এক অদ্ভূত আতঙ্ক গ্রাস করে আদনানকে। আদনানের আর কিছু বলার শক্তি থাকে না। বাইরে বাড়িওয়ালার সঙ্গে দ্যাখা হলে আদনান এই বাসা ছেড়ে দেয়ার কথা বলে। এবং বাড়িওয়ালার কাছেই জানতে পারে, নতুন এই ভাড়াটিয়াও একা। আদনান দু’তলার দিকে তাকিয়ে দেখে ঝুমা বারন্দায় দাঁড়িয়ে আদনানের দিকে তাকিয়ে হাসছে। এসব কি ঘটছে? তবে কি তার অবদমিত প্রেমের আকাঙ্খাই তৈরী করেছে ঝুমা নামের চরিত্রটি?

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here