বাড়িতে শিশুদের ব্যস্ত রাখবেন কি করে?

জান্নাত লাবণ্য :: সারাবিশ্ব আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। করোনা মোকাবেলোয় চলছে লকডাউন। তাই পরিবারের সাবাইকে সময় কাটাতে হচ্ছে ঘরবন্ধি অবস্থায়। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষই যেখানে এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাপনে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত, তখন কীভাবে সময় পার করছে আমাদের শিশুরা? এ সময় শিশুদের মানসিক শান্তির বিষয়ে লক্ষ্য রাখাটা খুব জরুরী। বদ্ধ এ সময়ে আমাদের শিশুদের বিকাশ ও মনোবলের সুস্থতা অটুট রাখতে হবে।
.
শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যস্ত রাখতে হবে বিভিন্ন ভাবে। যেমন-
.
★আপনার শিশুটি যদি আবৃত্তি, গান, গিটার ইত্যাদি প্রশিক্ষনের সাথে যুক্ত থাকে বা পছন্দ করে তবে অভিভাবকগণ নিজেরাই একটা নির্দিষ্ট সময়ে শিশুটির সাথে চর্চা করতে পারেন। এক্ষেত্রে ইউটিউবের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
.
★ ছবি আকার পাশাপাশি কাট পেস্ট করাতে পারেন। একটা আলাদা কর্ণার তাকে দিতে পারেন, যেখানে ছবি একে কেটে আঠা দিয়ে লাগাতে পারে সে। একটা আলাদা খাতাতেও এটা করা সম্ভব।
.
★ বেশির ভাগ শিশুই ফ্লোরিং বিছানা পছন্দ করে। এক্সট্রা তোশক থাকলে মেঝেতে পেতে দিতে পারেন। তাহলে নিরাপদে শিশুরা লাফঝাঁপ করে মজা করতে পারবে।
.
★ বাসার কিছু কাজে বয়স ভেদে শিশুদের অংশ গ্রহণ করতে দিন। ফার্নিচার মোছা বা পরিস্কারের কাজে অবশ্যই তাকে মাস্ক ব্যবহার করাবেন। ফুল গাছে পানি দেওয়া, বিছানা গোছানো, প্লেট ধোঁয়া, পড়ার টেবিল গোছানো, কাপড় গুছিয়ে রাখা, বিশেষ করে শিশু নিজের কাজগুলো নিজেই যেন করতে পারে এ কদিনে তাকে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন।
.
★ ধর্মিয় পড়াশোনোর প্রতি শিশুর সময় নির্ধারন করুন।
.
★ বেশিরভাগ মেয়ে শিশু সাজতে পছন্দ করে। বাসার ভিতরেই সুন্দর জামা পরার ও সাজার সুযোগ দিন।
.
★ গল্পের বই থাকলে শিশুর সাথে বসে বই পড়ুন। নিজের ছোটবেলার মজার গল্প গুলোও শিশুদের সাথে করুন।
.
★ শিশুরা যে ধরনের খাবার ও খেলনা পছন্দ করে অনলাইন থেকে সেগুলো সংগ্রহ করতে পারেন।
.
★ শিশুদের খেলাধূলা মানেই এলোমেলো বা নোংরা করা। যেহেতু তারা বাইরে যেতে পারছে না। ঘরেই তারা নিজেদের মতন করে খেলতে চাইবে। সেক্ষেত্রে একটা স্থান তাকে ঠিক করে দিন। খেলা শেষে তার সহযোগিতা নিয়ে গুছিয়ে ফেলুন।
.
★ ভিডিও কলের মাধ্যমে আত্মীয়- স্বজন, বন্ধুর সাথে শিশুদের কথা বলার সুযোগ করে দিন।
.
★ যেকোনো কারনেই হোক শিশু খিটখিটে মেজাজ দেখাতে পারে, সেক্ষেত্রে তার উপর আক্রমনাত্মক কোন আচরণ করবেন না। বরং শিশুটিকে নিজের মতো করে একা সময় কাটাতে দিন।
.
★ সারাদিন পড়পড় বলে লেখাপড়ার প্রতি শিশুর বিরক্ত মনোভাব তৈরি করবেন না। শিশুর সাথে আলোচনা করেই পড়াশোনার একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন।
.
★ স্বাভাবিক সময়ে  শিশুর খাবার খাওয়া, ঘুমানোর সময় এখনো  মেনে চলা সঠিক হবে। এগুলো অনিয়ম করা শিশুর স্বাস্থ্যে জন্য হানিকর  হতে পারে।
.
.
.
.
লেখক: শিক্ষক, আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ঘরে পৌছে দিচ্ছে ‘ক্লিকএনসপ’

ঢাকা :: মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সচেতন থেকে জনসমাগম এড়িয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ...