সোহানুর রহমান :: বাল্যবিয়ে রোধের পাশাপাশি কন্যাশিশু ও কিশোরীদের সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে বাজেটে সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ।

২৯টি আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও তৃণমূল সংগঠনের প্লাটফর্ম গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ বাজেট পাসের আগে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি তুলে ধরে।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে এবার ৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়লেও করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে আরও সুনির্দিষ্টভাবে বাজেট বরাদ্দ চায় গার্লস নট ব্রাইডস।

দুর্যোগকালীন বাজেটে নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য  ‘বিশেষ মনোযোগ ও বরাদ্দ’ থাকার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সংগঠনটি বলছে, “মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়লেও দুঃখজনকভাবে কন্যাশিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং কিশোরী তথা কন্যাশিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়া নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি।”

‘বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-৩০’ এর বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও বাজেটে সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ নেই বলেও জানাচ্ছে গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাল্যবিয়ে নিরসনে কাজ করা এই সংগঠনটি।

কয়েকটি জরিপ উল্লেখ করে গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কোভিড-১৯ সংক্রমণের ফলে নারী ও কন্যাশিশুদের জীবনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হয়েছে। নারীরা স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছে।”

উদ্বেগ জানিয়ে প্লাটফর্ম’র পক্ষ থেকে বলা হয়, নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা এবং যৌন হয়রানি বাড়ছে।

“নারীর সামাজিক নিরাপত্তা কমছে। কন্যাশিশু ও কিশোরীদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, বাল্যবিয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।”

‘বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ে বন্ধসহ’ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে ‘কয়েক দশক ধরে যে সামাজিক অগ্রগতি হয়েছে’, করোনাভাইরাসের সংকটের কারণে তা পিছিয়ে যাওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে বলেও আশংকা করছে গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here