বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিরোধ

বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিরোধ

বিউটি হাসু :: জনবহুল আমাদের দেশের বেশির ভাগ কিশোরী, নারী, মা-বাবা এখনো কৈশোর ও যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার সম্পর্কে শুধু অজ্ঞ নয়, অসচেতনও।তারা নিজের স্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্য সর্ম্পকে কিছুই জানেন না।জানেন না বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে।অপ্রাপ্ত বয়সে মা হলে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, এ সম্পর্কে তাদের কোন ধারনাই নেই। তাই ফুল ফোঁটার আগেই কুঁড়িতে অল্প বয়সেই ঝড়ে পড়ে অনেক কিশোরী, কিশোরী মা।

বাল্যবিয়ের কারণ: দারিদ্র, কুসংস্কার, অশিক্ষা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই নারীকে বোঝা মনে করা হয়। তাই বাবা-মা ও অভিভাবকরা যত দ্রুত সম্ভব মেয়ের বিয়ে দিয়ে মানে কন্যা অন্যের হাতে সম্প্রদান করে দায়মুক্ত ও ভারমুক্ত হতে চান।সামাজিক নিরাপত্তাবোধের অভাব ও আর্থিক অভাব-অনটন এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সমাজের বিজ্ঞজনেরা।

বাল্যবিয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয় নারীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য।বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর অধিকাংশ মেয়েরই আর স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় না। অনেক সময় বিয়ে দেয়ার জন্য আগে থেকেই কিশোরী মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়।ফলে তারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়।একই সাথে নারীর ভবিষ্যত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথও হয়ে যায় রুদ্ধ।

বাল্যবিয়ের কারণে অপ্রাপ্ত বয়সে মা হয়ে মৃত্যু ঝুকিঁতে থাকে নতুন মায়েরা।কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের শরীরে আরেকটি শিশুর অস্তিত্ব অনুভব করে।এই কিশোরী মায়েরা না নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন, না নিজের শরীরে বহন করা শিশুর যত্ন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। ফলে মা ও শিশু উভয়েই নানারকম ঝুঁকির মধ্যে থাকে।অ্ল্পবয়সী মা পুষ্টিহীনতায় ভোগে নানারকম অসুখে আক্রান্ত হয়।কম বয়সে মা হলে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।অথচ বাল্যবিয়ের কারণে/ফলে প্রসূতি কিশোরী মা ও শিশুর মৃত্যু, দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টিহীনতা নারীর স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা দেয়।

ঘটনা ১.স্বামী মারা যাওয়ার পর অভাব ঘোচাতে তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আসেন নছিমন বেগম(ছদ্মনাম)। ঢাকায় এসে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে নিজে মেসে রান্নার কাজ শুরু করেন। আর ১২ বছরের মেয়েকে দেন এক বাসায় ছুটা বুয়ার কাজে। কাজে আসা-যাওয়ার পথে কিশোরী মেয়ের ওপর নজর পড়ে বস্তির বখাটে এক যুবকের। প্রথমে বখাটে ছেলেটি প্রেমের প্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় নানারকম হুমকি দিতে শুরু করে।বিধমা মা উপায় না দেখে প্রতিবেশীর পরামর্শে তারই(ওই প্রতিবেশীর)এক আত্মীয়র সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন।(সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়)

ওপরের ঘটনার মতো আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত দরিদ্রতা, অশিক্ষা, অজ্ঞতা, বখাটেদের উৎপাত, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন কারণে বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে কিশোরীরা। অশিক্ষা ও দরিদ্রতার কারণে যদিও অনেক অভিভাবক মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিয়ে থাকেন। তবে দরিদ্র অভিভাবকদের সরকারি খরচে মেয়েকে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পড়াশোনা চালানোর  সুযোগ থাকায় এ সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। দরিদ্রতার কারণে বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রবণতা কমলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এখনো তেমন কমেনি। কারণ আমাদের সমাজ এখনো নারীদের জন্য নিরাপদ হয়ে ওঠেনি বরং চরম অনিরাপদ। বাল্যবিয়ে দেওয়া অপরাধ এবং এতে নারীদের নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকতে হয় এটা জেনেও অনেক অভিভাবক তার মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিতে বাধ্য হন শুধু নিরাপত্তাহীনতার কারণে।

বাল্যবিবাহ কারণ ও কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় বা আমার করণীয় সম্পর্কে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন,

‌‌”শিক্ষার সঙ্গে মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।বাল্যবিবাহ রোধে সরকারি আইন আছে। প্রশাসন সময়মতো খবর পেলে বা তাদেরকে খবর দেওয়া হলে, তারা হস্তক্ষেপ করে; মাঝে মাঝে এমন দু’চারটা খবরও দেখি।এ ব্যাপারে জনসচেতনতাও বোধহয় আগের তুলনায় খানিকটা হলেও বেড়েছে। কিন্তু সামাজিক রক্ষণশীলতা এবং ধর্মীয় কুসংস্কার এখনও এ ব্যাপারে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতাও আমাদের সমাজে বাল্যবিবাহ চালু থাকার একটা প্রধান কারণ।বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অবিবাহিতা মেয়েদের নিয়ে মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতাও আমাদের সমাজে বাল্যবিবাহ চালু থাকার একটা প্রধান কারণ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অবিবাহিতা মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকরা একরকম উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন। মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে ফেলে তাঁরা এই উদ্বেগ থেকে মুক্ত হতে চান। সমাজের রক্ষণশীল ব্যক্তিরা এই পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। সুতরাং গ্রাম-শহর সর্বত্র মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজটাও সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে মসজিদ-ধর্মীয় জলসা ইত্যাদি থেকে যাতে এ-ব্যাপারে সদর্থক প্রচার চালানো হয় সেটা দেখতে হবে। একসময় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে এদেশে অনেক নারীর অকাল মৃত্যু ঘটতো। আজ প্রসূতি মৃত্যুর হার নিশ্চয় অনেক কমেছে। কিন্তু প্রসবোত্তর শারীরিক জটিলতা ও স্বাস্থ্যহীনতা থেকে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক নারীই মুক্ত নন। সমাজে বাল্যবিবাহ থাকবে অথচ মেয়েদের কম বয়সে গর্ভধারণ রোধ করা যাবে, এটা সহজ বা স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। তাই বাল্যবিবাহ রোধ করার পাশাপাশি, একেবারে স্কুল পর্যায় থেকে মেয়েদের প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। পরিবারেও মেয়েদের মা-বোন ও অন্যান্য বিশেষ করে নারী সদস্যদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।”

ঘটনা ২. দুর্ভাগা কিশোরীর নাম রেবেকা।যে বয়সে তার বই-খাতা ভরা ব্যাগ কাঁধে স্কুলে যাওয়ার কথা।তাকে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ৩৯ বছর বয়সী এক লোকের সঙ্গে বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে।যৌতুক দেয়ার হাত থেকে বাঁচতে রেবেকাকে প্রবীণ লোকটির হাতে তুলে দেয় বাবা-মা। অথচ বিনা বেতনে স্কুলে পড়ার সুযোগ ছিল তার।কিন্তু রেবেকা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো।তার জীবনে সেই সুযোগ নেয়ার সৌভাগ্য হয়নি/ সুযোগ হয়ে ওঠেনি।ফুল ফোঁটার আগেই মুকুলেই তাকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়া হয়।শুরু হয় তার অভিশপ্ত জীবন।বিয়ে দেয়ার জন্য অনেক আগেই তার পড়ালেখার পাট চুকিয়ে দেয়া হয়।এর পরের অধ্যায় আরো করুণ!মেয়েটি স্বামীর কারণে গোপন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।জরায়ুতে আলসারের জন্য তাকে দু’বার অপারেশন করা হয়েছে।বাংলাদেশের মেয়ে রেবেকা।কিন্তু তার জীবনের এই মর্মান্তিক কাহিনী ওয়াশিংটনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক নারী গবেষণা কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত।(সূত্র:প্রিয়.কম)

আমাদের দেশে অনেক জরিনা, খোদেজা আছে, যাদের মাত্র ১০ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য করা হয়।দারিদ্রতা ও কুসংস্কারের জন্য অল্প বয়সে বিয়ে করে রেবেকাদের রোগ শোক জরাজীর্ণতা শেষ জীবন পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।তাদের জীবনের এমন করুণ দশা শুধুমাত্র বাল্যবিয়ের কারণে।প্রশাসনের সহায়তায় তাদের মত কিছু মেয়ে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেলেও সংখ্যায় তা অতি নগণ্য।এ বিষয়টি খুবই উৎকন্ঠার।তাই সরকারি ও বেসরকারিভাবে বাল্যবিয়ে রোধে চাই জনসচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালের গাইনী অনকোলজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আফরোজা খানম বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বলেন,বাচ্চা মেয়েটার নিজের শরীরের গঠন পরিপূর্ণ হতে সময় লাগে ১৮ বছর।তাই এর আগে তার শারীরিক গঠন সম্পূর্ণ হয় না।

বাল্যবিয়ের কারণে প্রসবকালীন জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।যেমন- খিচুনী, রক্তশূন্যতা ও পুষ্টিহীনতা। এছাড়া অপরিণত অবস্থায় বাচ্চা প্রসবের আশংকা থাকে।ফলে মা ও শিশু উভয়েই ঝুঁকিতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, কৈশোরকালীন সময়ে স্বামী সহবাস এবং জন্মদানের ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশী ।

ঘটনা ৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কিশোরী শিউলীর জীবনের গল্প আরও করুণ। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পরের বছরই গর্ভধারণ করে সে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই গর্ভপাত হয়ে যায়। সন্তান জন্ম দিতে না পারায় শ্বশুরবাড়িতে তার বেশিদিন ঠাঁই হয় না। চলে আসতে হয় বাবার বাড়ি। পরে পরিবারের চাপে আবারও বিয়ে করতে হয়।ষোলো বছর বয়সে মা হয় শিউলী।কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! তার এ সংসারও টেকেনি। স্বামী ছেড়ে দেয়ার পর সন্তান রেখে দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শিউলী এখন রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভবঘুরে অবস্থায় দিন কাটায়।(সূত্র:দৈনিক যুগান্তর)

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সালমা আলী মনে করেন, ‘বাল্যবিয়ে বন্ধে সব স্তর থেকে জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রতিটি সেক্টর থেকে যদি জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে দায়বদ্ধতার মধ্যে আনা যায়, তা হলে বাল্যবিয়ে অনেকটাই কমে আসবে।’

বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই ৭৩ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়।তবে ছেলেদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের হার মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ।আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ‘গেটিং দি এভিডেন্স: এশিয়া চাইল্ড ম্যারেজ ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোরম ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা জরিপে বলা হয়, বাংলাদেশের ৭৩ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় অল্প বয়সে। ইউনিসেফের মতে, বাল্যবিয়ের সংখ্যা কমেছে। কিন্তু এখনও সেটা ৫০ শতাংশের উপরেই রয়ে গেছে। জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বে বাল্য বিবাহের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে পৃথিবীতে আড়াই কোটি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

বাল্য বিয়ের হার বাংলাদেশেও খুব বেশি ছিল, সর্বশেষ ২০১১ সালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে ৫২ শতাংশ মেয়ে বাল্য বিয়ের শিকার হতো। কিন্তু বর্তমানে এই হার কতো নিশ্চিত করে বলা না গেলেও ইউনিসেফের মতে, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে এক ধরনের উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। অল্পবয়সী মেয়েরাও এখন নিজেদের বিয়ে প্রতিরোধে এগিয়ে আসছেন। তবে এ সংখ্যা খুবই কম। নারীদের অধিকার নিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান আইন ও সালিশী কেন্দ্র বলছে, বাল্যবিয়ে বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। যেটুকু হয়েছে, সেটাও সরকারি বেসরকারি সংস্থার দীর্ঘদিনের তৎপরতার কারণে হয়েছে।

বাল্য বিবাহ রোধে সরকারি এবং সামাজিকভাবে আরও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

‘বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০১৮’-তে বলা হয়, সরকার কিংবা শুধু আইন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দ্বারা বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন।

sa   feবাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের নিচে বিবাহের সংখ্যা শূন্যে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৮ বৎসরের নিচে বিয়ের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন।বাল্যবিয়ে বন্ধে সরকারের ব্যাপক তৎপরতা সত্বেও এখনও শতকরা ৪৭ ভাগ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে ১৮ বছরের নিচে।তাই বাল্যবিয়ে রোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলারকোন বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞরা মতে, বাল্যবিয়ে বন্ধ করার জন্য অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সমাজের অগ্রসর নাগরিকদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বাল্যবিয়ে রোধে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে।সরকারি এবং সামাজিকভাবে আরও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে দ্রুত মুক্তি না মিললে শত উন্নয়নেও সুফল আসবে না। দেশের জনসংখ্যার ২১ দশমিক ৪ শতাংশ কিশোর-কিশোরী। সংখ্যায় এরা ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার। এর অধের্ক কিশোরী। অল্প বয়সে বিয়ে, গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের কারণে কিশোরীদের একটা অংশ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকছে।

এদিকে ইউএনএফপিএর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই পুরো দেশকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী দেখতে হলে বাল্যবিয়ে কমাতে হবে। শুধু তাই নয় ইতিমধ্যে বিয়ে হওয়া কিশোরীরা যেন তাড়াতাড়ি বাচ্চা না নেয়। বিলম্বে গর্ভধারণ করে, সেই উদ্যোগও নিতে হবে।

 

 

 

লেখকের ইমেইল: haso_bd@yahoo.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ছালেহা বেগম’র কবিতা “জীবনের কবিতা”

“জীবনের কবিতা” -ছালেহা বেগম   তুমি আমায় বললে, তুমি কবিতা লিখতে জান? ...