বাবার আসনে জিতলেন সাদ এরশাদ

স্টাফ রিপোর্টার :: জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আসন রংপুর-৩ (সদর) উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তার ছেলে রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ। ৫৮ হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৪৭ ভোট। নির্বাচনে মাত্র ২১ দশমিক ৩১ ভাগ ভোট পড়েছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাদ এরশাদ যুগান্তরকে বলেন, আমি এ বিজয় আমার বাবা ও রংপুরবাসীকে উৎসর্গ করলাম। অন্যদিকে ভোট টেম্পারিং এবং নির্বাচনের মাঠ সবার জন্য সমান ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থী রিটা।

বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমানের অভিযোগ অস্বীকার করে রিটার্নিং কর্মকর্তা সাহাতাব উদ্দিন বলেন, বিএনপি প্রার্থীসহ যারাই যে বিষয়ে অভিযোগ করেছেন সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে ভোট টেম্পারিং ও প্রভাব বিস্তারের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট।

এদিকে নির্বাচনে এরশাদের ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (মোটরগাড়ি) পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৮৪ ভোট। গণফ্রন্টের প্রার্থী কাজী মো. শহীদুল্লাহ বায়েজিদ (মাছ) ১৬৬২, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল (দেয়াল ঘড়ি) ৯২৪ এবং এনপিপির শফিউল আলম (আম) পেয়েছেন ৬১১ ভোট। নির্বাচনে বাতিল হয়েছে ১৫টি ভোট। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৯ থেকে ৩৩নং ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসন। এখানে ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ২২৪। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২০ হাজার ৮২৩ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৪০১।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৭৫টি কেন্দ্রের ১ হাজার ২৩টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ নিরুত্তাপ ও শান্তিপূর্ণ হলেও ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। অন্তত অর্ধশত কেন্দ্র ঘুরে সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়নি।

দুপুর ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১১১ জন ভোট প্রদান করেন। এ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৫১ জন। দুপুর ১টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত পালিচড়া কেশবপুর প্রথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৩টি ভোট পড়ে। এ কেন্দ্রে ভোটার ১ হাজার ৫০৯ জন। দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে অযোধ্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট পড়ে ২৫৭টি। এখানে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৭৩২ জন। বিকাল ৪টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত নগরীর সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রে ২০৪টি ভোট পড়ে। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৭১ জন। কিছু কিছু কেন্দ্রে অল্পসংখ্যক পুরুষ ভোটার দেখা গেলেও নারী ভোটার একেবারেই ছিলেন না।

ভোটের মাঠ সবার জন্য সমান ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান। সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাতে সদর আসনের বিভিন্ন যায়গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে প্রশাসন। ভোটের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নিয়ে গেছে। ভোরে আবার আমরা সেগুলো পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে রাতে মোবাইলে ও সকালে লিখিতভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা বারবার অনুরোধ করেছিলাম যে ভোটের মাঠ সুষ্ঠু রাখেন, নিরপেক্ষ আচরণ করেন। কিন্তু তারা পক্ষপাতিত্ব করেছেন। ভোটের মাঠ সবার জন্য সমান করতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ। ভোটার উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন ও ইভিএম নিয়ে মানুষ আশাহত তাই এ নির্বাচনে জনসম্পৃক্ততা নেই। মানুষ ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু না হওয়ায় ভোট দিতে আসছেন না।

দুপুর ২টার দিকে চন্দনপাঠ ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে এরশাদপুত্র রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে। ভোটার উপস্থিতি কম হলেও নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাবার মতো আমার সঙ্গেও রংপুরের সাধারণ জনগণ আছে সেহেতু আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

মেশিনে ভোট দেয়া খুব সহজ : আকিদা বেগম। বয়স প্রায় ৭০-এর কাছাকাছি। রংপুর নগরীর পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। সকাল ৯টার দিকে রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। বুথ থেকে বের হয়েই যুগান্তর প্রতিবেদকের কাছে ইভিএমে ভোট দেয়ার অনুভূতি জানান তিনি। আকিদা বেগম বলেন, মেশিনে (ইভিএম) ভোট দেয়া খুবই সহজ। আমি কাকে ভোট দিচ্ছি সেটা দেখা যায়, এতে বাতিল হওয়ার কোনো আশঙ্কা নাই।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পদ্মা সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮৪ শতাংশ: সেতুমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :: পদ্মা সেতুর বাস্তব কাজের ৮৪ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে ...