ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ১৯ তম বর্ষপূর্তিতে স্পর্শকাতর বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা৷ বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি বিজয় দিবস পালনের ঘোষণা দিয়েছে৷

১৯৯২-এর ৬ই ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার অভিশপ্ত দিনটি চিহ্ণিত হয়ে রইলো এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে৷ অন্যান্য বছরের মত এবারেও অযোধ্যা ও ফৈজাবাদসহ দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা৷

তাসত্ত্বেও  বিজেপি শাসিত কর্নাটক রাজ্যে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে৷ বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করা হয়৷ বাসে ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়৷ বেশকিছু সরকারি ও বেসরকারি বাসে ভাংচুর করা হয়৷ রাজ্য জুড়ে হরতালের ডাক দেয়া হয়৷

নিখিল ভারত বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলেছে৷ কমিটির কনভেনর জাফরইয়ার গিলানি লক্ষ্ণৌ-এ এক বিবৃতিতে বলেছেন, জেলা শাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেয়া হবে সরকারকে৷ বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মামলার আপিলের শুনানি দ্রুত শেষ করার আবেদন জানিয়ে পৃথক স্মারকলিপি দেয়া হবে প্রধানমন্ত্রীকে৷ অপরদিকে মৌলবাদী হিন্দু সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও আরএসএস এই দিনটি বিজয় দিবস রূপে পালনের কথা বলেছে৷

বাবরি মসজিদ ভাঙার ইস্যুর প্রাসঙ্গিকতা আজ আছে কিনা সে বিষয়ে বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী ড. পূজন সেন ডয়চে ভেলেকে বললেন, এটাকে আমি দুভাবে দেখতে চাই৷ এক,বাবরি মসজিদের ঘটনা একশোবার অন্যায়৷ সব রাজনৈতিক দল ভোটের রাজনীতি করছে৷ বাবরি মসজিদের মধ্যে আরো অনেক ঘটনা ঘটেছে সেগুলো নিয়ে কেউ কথা বলেনা৷ তার কারণ একটাই সেগুলোতে নির্বাচনী অঙ্ক কাজ করছেনা৷ বাবরি মসজিদ ভাঙার পক্ষে ও বিপক্ষে যাদের নাম জড়িয়ে আছে তাঁদের মধ্যে অতীতমুখি এক মানসিকতা লক্ষ করা যায় বলে তিনি মনে করেন৷ রাজনৈতিক দলগুলিও তার মধ্যে পড়ে৷

বিজেপি নেতা আডবানির সাম্প্রতিক রথযাত্রায় হিন্দুত্ববাদকে তুলে না ধরার কারণ, বিজেপি বুঝে গেছে ভারতে ক্ষমতা দখল করতে হলে কোয়ালিশন করতে হবে৷ সেটা করতে হলে এমন দলকে শরিক করতে হবে যে দলের পেছনে আছে একটা মুসলিম জনভিত্তি৷ কিন্ত বিজেপি যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তাহলে হিন্দুত্ববাদ আবার সামনে আসবে বলে তাঁর ধারণা৷

উল্লেখ্য, এলাহাবাদ হাইকোর্ট রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদের ২.৭৭ একর বিতর্কিত জমি তিন ভাগে ভাগ করে একভাগ হিন্দুদের একভাগ মুসলিমদের এবং একভাগ নির্মোহি আখড়াকে দেবার নির্দেশ দেন৷ মুসলিম ল-বোর্ড তার বিরুদ্ধে আপিল করে সুপ্রীম কোর্টে৷ হিন্দুদের বিশ্বাস মত নির্দিষ্ট স্থানকে রামজন্মভূমি বলে আদালতের স্বীকৃতি দানকে মুসলিম ল-বোর্ড মনে করে, ধর্মবিশ্বাসকে স্থান দেয়া হয়েছে আইনের ওপরে৷ ফলে মুসলিমদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে৷

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/ডেস্ক নিউজ

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here