বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুনের পর জানলা দিয়ে এই ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন স্থানীয়রা । কিন্তু স্ত্রী-সন্তান পুড়ে গেছে জানিয়ে বের হতে চাননি তিনি ।
ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক :: ট্রেনের ভেতরে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। মাথা কাত করে জানালার বাইরে দুই হাত বের করে আগুনের মধ্যেই শুয়ে আছেন এক ক্লান্ত মানুষ। ঘাড়ের ওপর পড়ে আছে ট্রেনের জানালা। তাকে বাঁচানোর  চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। নাশকতার আগুনে শত শত মানুষের চোখের সামনেই পুড়তে পুড়তে না ফেরার দেশে চলে যান বেনাপোল এক্সপ্রেসের এক যাত্রী।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায়। এভাবে সবার সামনে জীবন্ত পুড়ে মৃত্যুর দৃশ্যটি ছুঁয়ে গেছে মানুষকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনরা নানাভাবে ক্ষোভ ঝাড়েন। এমন ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সবাই।

শুক্রবার রাতে যশোরের বেনাপোল থেকে ঢাকায় আসছিল বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি। গন্তব্যস্থল কমলাপুর পৌঁছার কিলোমিটার দুয়েক আগেই আগুন লাগার খবর পেয়ে ট্রেনটি থামিয়ে দেন চালক।

দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে হুড়োহুড়ি করে চলন্ত ট্রেন থেকেই নেমে যান। বেশিরভাগ যাত্রী নামতে পারলেও চারজন আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি। বগির ভেতরেই পুড়ে জীবনপ্রদীপ নিভে যায় তাদের।

ট্রেনটিতে আগুন লাগার পরই জানালায় আটকে থাকা এক যাত্রীর পুড়ে মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত তা ভাইরাল হয়। শরীরের একাংশ বাইরে থাকা অবস্থায় ওই ব্যক্তির পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য কাঁদায় দেশের মানুষকে।

স্থানীয়দের কথা কথা বলে জানা যায়, স্থানীয়দের অনেকে ঝুঁকি নিয়ে তাদের বের করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী ও সন্তান পুড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘বের হয়ে কী হবে?’

অগ্নিকাণ্ডে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর এমন দৃশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। স্ট্যাটাসে তারা বর্বরোচিত ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তৌহিদ হোসেন নামে একজন ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘যেই শয়তান ট্রেনে আগুন লাগাইছে যদি সে এই ছবিটা দেখে থাকে, তাহলে যতদিন বেঁচে থাকবে শান্তি পাবে না সে এবং তার দোসররা। নরকেও জায়গা হবে না তাদের।’

এইচ এম মাহমুদ হাসান জামিল নামে একজন লিখেছেন, ‘পুরুষের ভালোবাসা কত ভয়ংকর হতে পারে এই দৃশ্যটির পেছনের কাহিনী শুনলে বুঝতে পারবেন। গতকাল রাত রাজধানীর গোলাপবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সে ট্রেনের মধ্যে জানালার সঙ্গে ঝুলে থাকা লোকটির স্ত্রী-সন্তান পুড়ে মারা গেছে। তার অর্ধেক পুড়ে গেছে। তাকে উদ্ধারকারীরা বের করতে গেলে সে বলে আমি বের হব না আমার স্ত্রী-সন্তান পুড়ে গেছে। আহ স্ত্রী সন্তান ছাড়া একজন পুরুষের জিন্দেগি জিন্দেগি না। পুরুষের জিন্দেগি পরিপূর্ণ হয় স্ত্রী-সন্তান দিয়ে। যেসব দুর্বৃত্তরা এই কাজটি যারা করেছে আল্লাহ যেন এর চেয়ে ভয়ংকর মৃত্যু দেন। অপশক্তি নিপাত যাক। আল্লাহ তাদের বিচার করুক।’

আল মামুন আব্দুল্লাহ নামে একজন লিখেছেন, ‘পুরুষের দায়িত্ব, ভালোবাসা, কর্তব্য ও ত্যাগ কিংবা বিসর্জন খুবই ভয়ংকর রকমের। পরিবারকে সর্বোচ্চ প্রায়োরোটি দিয়ে নিজের অস্তিত্ব, স্বপ্ন, স্বাদ, সখ, ইচ্ছে, ভোগ ও পছন্দ সবকিছু নীরবে বিলিন করে দেওয়ার নামই হচ্ছে পুরুষ, ছেলে, বাবা, স্বামী। আমি তার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আল্লাহ যেন ওই পরিবারকে শোক সইবার তৌফিক দান করেন।’

বিশিষ্ট ইসলামিক ব্যক্তিত্ব শায়েখ আহমাদুল্লাহও ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘হে আরশের মালিক, আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো পশুদের তুমি এর চেয়ে ভয়ঙ্কর শাস্তি দিও। তাদের মুখোশগুলো মানুষের সামনে উন্মোচন করে দিও।’

ইশতিয়াক আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, ‘এই যে একটা ট্রেনে আগুন লাগানো হয়েছে। জীবিত একজনকে পুড়তে দেখা যাচ্ছে। তাকে বাঁচানোর জন্য কী ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ছুটোছুটি করছে। আগুনের বগিতে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আগুনের লেলিহান শিখাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লোকটা ধরার চেষ্টা করছে। কোনোভাবে যদি তাকে টেনে বের করা যায়। বাঁচানো যায়। সেই একই দেশে এভাবে পুড়িয়ে মারার মতো হিংস্র মন নিয়ে কোন মায়ের সন্তানেরা জন্মায়?
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here