বাইক না পেয়ে ছেলের আত্মহত্যা, নিজের গায়ে আগুন দিলেন মা

নিউজ ডেস্ক :: মা বাইক কিনে দেয়নি। রাগ করে আত্মহত্যা করল ছেলে। এই পরিণতি সহ্য করতে না পেরে ছেলের শেষকৃত্যের আগেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা। গত মঙ্গলবার মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরমের কিঝকোত্তাইয়ুর গ্রামে।

জানা গেছে, ছেলে গোবিন্দরাজনের বয়স ১৬ বছর। বাইকের স্বপ্ন দেখত সে। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই মা ইন্দ্রাণীর কাছে আবদার করেছিল ছেলেটি। পরিচারিকার কাজ করেন ইন্দ্রাণী। স্বামী বছরখানেক আগেই মারা গেছেন। দুই ছেলে। দু’জনেই পড়াশোনা করে। বড় ছেলে গোবিন্দরাজন।

মায়ের কাছে ছেলে আবদার করেছিল একটা বাইক কিনে দিতে হবে। কিন্তু ইন্দ্রাণী দিতে চাননি। শুধু বলেছিলেন, টানাটানির সংসার, বাইক কিনে দেওয়ার সামর্থ আমার নেই।

কিন্তু ছেলে নাছোড়। কিনে যে তাকে দিতেই হবে! গোবিন্দরাজন উপায়ও বাতলে দিয়েছিল মাকে। তাকে বলেছিল, তোমার যে সেভিংস-এর টাকাটা রয়েছে সেটা দিয়ে কিনে দাও।

বাইকের দাম দেড় লাখ টাকা। কিন্তু এত টাকা পাবেন কোথায়? ইন্দ্রাণী তাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু গোবিন্দরাজন গোঁ ধরে বসে থাকে। খাওয়া বন্ধ করে দেয়। মায়ের সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছিল।

প্রতিবেশীরা জানান, ইন্দ্রাণী তাদের কাছে প্রায়ই বলতেন ছেলেটাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু কিছুতেই বুঝতে চাইছে না। ভেবেছিলেন দু’দিনেই ছেলের রাগ পড়ে যাবে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ছেলে যে মনে মনে গুমরাচ্ছিল সেটা আঁচ করতে পারেননি ইন্দ্রাণী।

রবিবার বাড়ির কাছেই কাজে গিয়েছিলেন ইন্দ্রাণী। কাজ থেকে ফিরে দেখেন ছেলে ঘর বন্ধ করে বসে আছে। বার বার ডাকা সত্ত্বেও সাড়া পাননি। ঘরের এক ফাঁক দিয়ে ভেতরে উঁকি মারতেই তার মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ে। দেখতে পান, ছেলে ঘরের সিলিং থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে!

চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন ইন্দ্রাণী। পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়। দরজা ভেঙে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবারই গোবিন্দরাজনের দেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। প্রতিবেশীরা গোবিন্দরাজনের দেহ দাহ করতে নিয়ে গেলে ইন্দ্রাণী ঘরে ঢুকে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। মা-ছেলের মৃত্যুতে গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গুরুপ্রসাদ মহান্তি

গুরুপ্রসাদ মহান্তি-র বৈশাখি গদ্য ‘একলা এসো’

গুরুপ্রসাদ মহান্তি -একলা এসো   একলা এসো। একলাই। এমনটি বললে অনেকে অনেকরকম ...