স্টাফ রিপোর্টার :: বাঁচানো গেলো না দুর্বৃত্তদের আগুনে ঝলসে যাওয়া ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে।

বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে সে। তার মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নুসরাতকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি নুসরাতকে আমরা বাঁচাতে পারলাম না। আগুনে তার শরীর পুড়ে কালো হয়ে যায়। প্রথম থেকেই তার বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীন ছিলো। বুধবারও সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিলো। রাতে তার মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে।  সকালে মরদেহের ময়নাতদন্ত করে পুলিশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করবে।

আধঘণ্টা আগেই ৯টার দিকে নুসরাতের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান প্রফেসর ডা. আবুল কালাম জানিয়েছিলেন, এই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার ‘মারাত্মক অবনতি’ ঘটেছে। ঢামেক হাসপাতালে আনার পরই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, নুসরাতের অবস্থা গুরুতর। তার শরীরে প্রায় ৮০ শতাংশই পুড়ে গেছে।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা।

এই ছাত্রীর পরিবারের ভাষ্যে, ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তারই জেরে মামলা করায় নুসরাতকে আগুনে পোড়ানো হয়। ওই মামলার পর সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সবার প্রার্থনা-চেষ্টাকে বিফল করে চলেই গেলো ‘প্রতিবাদী’ নুসরাত।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here