ব্রেকিং নিউজ

বসন্তের ছোঁয়া লাগেনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে

রাজশাহী : ঋতুরাজ বসন্তের শুরু আজ থেকেই। এ মাসে প্রকৃতিতে নতুনের ছোঁয়া লাগে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে চারিপাশ। গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোকিলের কুহু তান আবেগী মনকে করে তোলে উদাস।

তবে প্রতিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাল্‌গুন মাসের প্রথম দিনটিকে বরণ করতে বিভিন্ন উৎসব পালন করা হলেও ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এবার তা হচ্ছে না। মতিহারের সবুজ চত্বরটি আরও সবুজ হয়ে উঠলেও শিক্ষার্থী না থাকায় এর পরিবেশ যেন হাহাকার করছে।

ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় নগরীরি ফুলের দোকানগুলোতেও লক্ষ্য করা যায়নি পূবের্র মতো ভীর। পহেলা ফাল্‌গুনকে ঘীরে প্রতি বছর নগরীর শপিংমলগুলোতে ছেলে-মেয়েদের উপছেপরা ভীর থাকলেও এবার তা লক্ষ্য করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে পড়াশুনা করতে আসা ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর অনেকেই এখন বাড়িতে অবস্থান করছেন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে পরে শিক্ষার্থী শূণ্য। প্রতিবছর ১৩ ফেব্রুয়ারি ফাল্‌গুন মাসের প্রথম দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনগুলো নানা ভাবে উদ্যাপন করলেও এবার তা আর হচ্ছে না। প্রতি বছর এই দিনটিতে মতিহারের সবুজ চত্বরে বাসন্তি রং শাড়ি পরে মেয়েদের দেখা গেলেও এবার হয়তো আর তাদের দেখা মিলবে না। শহীদ মিনারের ফুটন্ত গোলাপ ও গাঁদা ফুলগুলোর সাথে মজার আড্ডায় এবার আর মেতে উঠবে না শিক্ষার্থীরা। ছেলেরা প্রিয়জনের হাত ধরে পরন্ত বিকেলে গুটি গুটি পায়ে এবার হয়তো এগিয়ে আসবে না শাবাশ বাংলায়। গাইবে না ফুুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত।

জানা যায়, প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ গান, কবিতা, নৃত্য ও ছড়া আবৃতির মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করলেও এবার তা হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার কমতি না থাকলেও আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়েই তাদের থাকতে হচ্ছে নিজ বাড়িতে। প্রতিবছর আজকের দিনটিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের চারুকলার মুক্তমঞ্চ, বাংলা বিভাগের আমতলাসহ টুকিটাকি চত্বর, শহীদ মিনার, শাবাশ বাংলাদেশ চত্বর, ইবলিশ মাঠ, পশ্চিম পাড়া ও বধ্যভূমিতে ছেলে-মেয়েদের বাহারি রংয়ের শাড়ি ও পাঞ্জাবী পরে চুটিয়ে আড্ডা মারতো। মনের সুখে প্রিয়জনের হাতে হাত, চোখে চোখ রেখে গাইতো বাসন্তের গান। শিশু, কিশোর ছেলে বুড়ো সকলেই চলে আসতো ক্যাম্পাসে। কিন্তু ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় চত্বরগুলোতে মানুষের সেই উপছে পরা ভীর দেখা যায়নি ।  শোনা যায়নি মিষ্টি সুরে গান।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী মিতু, রাণী, শিল্পী ও ফাল্‌গুনীসহ অনেকেই বলেন, ক্যাম্পাসে আসার পর থেকেই আমরা এখানেই বসন্ত বরন করতাম। হাসি আনন্দে সারা দিন গোটা ক্যাম্পাস মাতিয়ে তুলতাম। তবে এবার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সেই আনন্দের দিনটিকে খুব মিস করছি। মনে পরছে ক্যাম্পাসকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর বসন্ত বরণ উপলক্ষে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজারে অবস্থিত ফুলের দোকানগুলোতে ফুল কেনার হিরিক থাকলেও এবার কিছুটা ভিন্ন রূপ দেখা গেছে। তবে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দিবসটি পালনের জন্য ঠিকই তৈরী হয়েছে। অনেকেই এরাই মধ্যে কিনেছে নতুন শাড়ি ও পাঞ্জাবী। দিনটিকে কেন্দ্র করে শহর জুড়ে বিভিন্ন হোটেল রেস্তরা থাকে তরুণ-তরুণীতে ভর্তি। রাজশাহী বিস্তীর্ণ পদ্মার পাড়, কেন্দ্রীয় উদ্যান চিরিয়াখানা, শিশুপার্ক, ভদ্রা পার্ক, ক্যাম্পাসের রেললাইন, চারুকলাসহ প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্র থাকে উৎসব মুখর। নগরীর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে থাকে তরুণ-তরুণীদের মিলনমেলা। আর এসব মিলন মেলায় প্রাণকেন্দ্রে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

প্রেমিক জুটি ছাড়া ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের দলবদ্ধ আড্ডায় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো নগরী। তারুণ্য নিভর্র যেকোন উৎসবের যাত্রা প্রতিবার এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হলেও এবার তা হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিরিন আফরোজ’র কবিতা ‘শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু’

শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু –শিরিন আফরোজ ধন্য এ দেশের মাটি তুমি এসেছিলে তাই, চলে ...