বর্ধিত সময়েও দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কা

আসাদুজ্জামান সাজু,

ইউনাইটেডনিউজটোয়েন্টিোফোর.কম

লালমনিরহাট: তিস্তা নদীর ওপর নির্মাণ চলছে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণকাজ। দ্বিতীয় দফায় সময় বৃদ্ধির পরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবস্থাপনায় জটিলতা ও অর্থাভাবে গতিহীন হয়ে পড়েছে সেতুটির নির্মাণকাজ।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিস্তা নদীর ওপর রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া-লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ সড়ক সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুরে গ্রামীণ যোগাযোগ ও অন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে এটিকে অনুমোদন দেয়া হয়। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২১ কোটি টাকা। এটি নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ডাবিউ এমসিজি-নাভানা গ্রুপ। এ ছাড়া কালীগঞ্জের কাকিনা হতে গঙ্গাচড়ার মহিপুর ঘাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সংযোগ সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি টাকা এবং ওই সংযোগ সড়কে তিনটি কালভার্ট ও দুটি ছোট সেতুর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। মূল সেতু ও পুরো সড়কজুড়ে থাকছে আলোর ব্যবস্থা।

সূত্র জানায়, উত্তর জনপদের অবহেলিত রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার উন্নয়ন এবং লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে তিস্তা নদীর ওপর (কালীগঞ্জ-গঙ্গাচড়া) সেতু দাবি করে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। সেতু নির্মাণে ২২ মাস সময় ধরা হলেও হঠাৎ করে কাজের গতি কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ে সেতুর দুই পাড়ের মানুষ। চলতি বছরের ৩০ জুন নির্ধারিত ২২ মাস শেষ হলে পুনরায় ১ বছর সময় বৃদ্ধি করা হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লালমনিরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে সেতুর ২২৪ টি পাইল নির্মাণ শেষ হয়েছে। বর্তমান লোডটেস্ট ও বেজ কাস্টিংয়ের প্রস্তুতি চলছে। অপরদিকে লালমনিরহাট-বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সেতুর সংযোগের জন্য পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক। কিন্তু বিরামহীনভাবে চলতে থাকা সেতুর কাজ হঠাৎ করে থমকে যাওয়ায় জনমনে হতাশা দেখা দেয়।

সেতু সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন বলেন, বর্ষা শেষ হলেও সেতুর নির্মাণকাজের গতি একেবারেই কম। বর্ধিত মেয়াদ শেষ হলেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে কিনা, তা নিয়ে হতাশায় ভুগছি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার মকবুল হোসেন মিয়া জানান, এ পর্যন্ত সেতুর কাজ ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে। ফান্ড সমস্যা ও বর্ষার কারণে কাজ কিছুটা কম হয়েছে। এখন পুরোদমে কাজ চলবে। আশা করছি পুনরায় নির্ধারিত সময় ২০১৫ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী খলিলুল রহমান জানান, ফান্ডে কিছু সমস্যা থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হয়নি। এ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালামাল সঠিক সময়ে আনতে না পারায় কাজের গতি কিছুটা কম ছিল। ফান্ডের জন্য চাহিদা দেয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশাবাদী।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মূনীরুজ্জামান আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার :: দৈনিক সংবাদ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মূনীরুজ্জামান আর নেই। ...