ব্রেকিং নিউজ

‘বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার’

বক্তব্য রাখছেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন।

মো. রওশন আলম পাপুল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেছেন, প্রতিবন্ধী স্কুল তৈরি করা একটি মহৎ কাজ। বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার। মানুষ পাপ করলে শিশু প্রতিবন্ধী হয় এটা ভুল ধারনা। আসলে বিভিন্ন কারণে শিশুরা প্রতিবন্ধি হতে পারে। তাই কারণগুলো চিহ্নিত করে সঠিক নিয়মানুযায়ী চলতে হবে।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে (কোমরপুর বাজারে) সোমবার দুপুরে তমিজ উদ্দিন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।

মা সমাবেশে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সমাজসেবা থেকে প্রত্যেক প্রতিবন্ধীকে কার্ড করে নিতে হবে। প্রতিবন্ধীরা বিদ্যালয়ে গেলে প্রতিবন্ধী ভাতার পাশাপাশি শিক্ষা ভাতাও পাবে। আপনার প্রতিবন্ধী শিশুটি কি কাজ করতে চায় তাকে সেই কাজ করতে দিন। ২০৪১ সালে সবাইকে নিয়েই আমরা উন্নত বিশ্বের সারিতে পৌঁছাবো। এসব প্রতিবন্ধী স্কুল সরকারের ভাবনায় আছে। কিভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, তা ভাবা হচ্ছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন।

বিদ্যালয়টির সভাপতি সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মা সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাউল হোসেন, গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সাবেক সাংসদ মো. তোফাজ্জল হোসেন সরকার, পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন প্রমুখ।

মা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার সাহা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রদীপ কুমার মহন্ত।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধীদের অবহেলার চোখে না দেখে ভালোভাবে দেখতে হবে। সবসময় তাদের ভালো রাখতে হবে। তাহলে তাদের মানসিক অবস্থাও ভালো থাকবে। কেননা মানসিকভাবে আমাদের প্রত্যেকের সুস’্য থাকা প্রয়োজন। তাহলেই সকলে ভালো কাজ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন একটি করে ভালো কাজ করুন। ভালো কাজ করলে মানুষ ভালোই বলবে। সারাদিন মন ভালো থাকবে। সমাজ ভালো থাকবে।

শেষে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন ও পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বিদ্যালয় চত্বরে আম ও পেয়ারা গাছের দুইটি চারা রোপণ করেন। এরপর তারা বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি রামপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় তমিজ উদ্দিন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়। এতে শিক্ষক ও কর্মচারি রয়েছেন ২৩ জন ও শিক্ষার্থী রয়েছে ২২৫ জন। বিদ্যালয়টিতে মা ও শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

 

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নাটোরে দুঃস্থ মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ

  মোঃ আব্দুল হাকিম, নাটোর প্রতিনিধি :: নাটোরে ৪২ জন দুঃস্থ মহিলাদের ...