ইউনাইটেড নিউজ ডেস্ক

আজ ২৯ জুলাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ৫০০তম দিন। করোনা মহামারির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ হয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ এ বন্ধে একেবারেই নাকাল শিক্ষা খাত। ওলটপালট হয়ে গেছে শিক্ষাপঞ্জি। আর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী।

সংক্রমণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কয়েক দফায় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেও পরীক্ষা নিতে পারেনি। ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই ছয় মাস শেষ হয়ে গেল। আবার ২০২০ সালে যারা এসএসসি পাস করল, তারা কলেজজীবনে পা রাখার আগেই শেষ হয়ে গেল কলেজে পড়ার সময়।  শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২০২২ সালের এপ্রিলে তাদের এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কেউ কলেজে যেতে পারেনি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একজন অন্যের কাছে অচেনাই থেকে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর মোটামুটিভাবে প্রায় সবকিছুই স্বাভাবিক হয়েছিল। শনাক্তের হার নেমে এসেছিল ৩ শতাংশের কাছাকাছি। তবু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়নি। এখন প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন মারা যাচ্ছেন। সংক্রমণ হার আগের চেয়েও কয়েক গুণ বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা বলা হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো টিকা নিতে পারেননি।

গত বছরের মতো এ বছরও হচ্ছে না পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) পরীক্ষা। তবে গত বছরের মতো অটো প্রমোশন না দিয়ে ‘বাড়ির কাজের’ মাধ্যমে মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে প্রমোশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এবারের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষাও হবে না। একই রকম সিদ্ধান্ত হতে পারে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ব্যাপারেও।

তবে করোনার এ সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কয়েকটি প্রদেশ ইতিমধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির অন্ধ্র, বিহার, হরিয়ানা, গুজরাটসহ অন্তত নয়টি প্রদেশ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১২ জুলাই বিহার এবং ১৫ জুলাই গুজরাটে সশরীরে ক্লাসের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৬ জুলাই ওডিশা প্রদেশ দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। শ্রীলঙ্কায় আগস্ট মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক জি এল পেইরিস।

ক্যাম্পাস দ্রুত খুলে দেওয়ার পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. তানজিম উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ‘আমরা মুখে মুখে বলেছি অমুক-তমুক করব কিন্তু বাস্তবে কিছুই করা হয়নি। কবে হবে, সেটাও কেউ বলতে পারছে না।’

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here