আবু হোসাইন সুমন, মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ::
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ষাটোর্ধ দিনমজুর খান জাহান আলী ভূমি ও গৃহহীন হয়ে ভাসমানভাবে যেখানে সেখানে জীবনযাপন করে আসছিলেন। আজ এখানে কাল ওখানে এভাবে চলছিলো তার দিন-রাত। নদীর চরে ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রী সন্তানসহ বসবাস করে আসছিলেন তিনি। মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হবার থেকে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন খান জাহান আলী। এরপর হতাশার চরম পর্যায়ে পৌঁছে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলে মন স্থির করেন। কিন্তু মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বরুপ জমিসহ নতুন আধাপাকা ঘর পেয়ে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। ঘর পাওয়ার পর মাত্র এক বছরের মধ্যে তার বাড়ীর আঙ্গিনায় নানা প্রকার ফল ওসবজীর আবাদ করে এখন নির্ভর জীবনযাপন করছেন খান জাহান আলী। হতাশা কাটিয়ে নতুনভাবে জীবনযাপন করতে পেরে তিনি অন্তর থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি।
দারিদ্র্যতা ও হতাশার চরম পর্যায়ে পৌঁছে সেখান থেকে ফিরে আসার এমন গল্প শুধু খান জাহান আলীর একার নয়। এমন গল্প ৪ সন্তান নিয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা হনুফা বেগম ও মহাসড়কের পাশে দীর্ঘকাল রাত কাটানো নিরোদ বাবু এবং মাত্র ১২ বছর বয়সে দস্যুতার তালিকায় নাম লেখানো হান্নানেরও। তাদের এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি রূপকথাকেও হার মানাবে। তাদের হতাশা পিছনে ফেলে এই সাফল্যের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে আবেগ আপ্লূত হয়ে খান জাহান আলী বলেন, দিনমজুরের কাজ করতে মাঠে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হয়ে কর্ম অক্ষম হয়ে পড়েছি। কিভাবে কাজ করবো, সংসার চালাবো তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে সিদ্ধান্ত নিই আত্মহত্যা করার। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজনের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন স্যারের কাছে যাই একটি ঘরের জন্য। এরপর প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জমি ও ঘর পাই। ঘর পেয়ে আমি খুব খুশি, কোনদিন জমি কেনা ও ঘর করে থাকার মত সামর্থ্য কোনদিন হতো না। তাই এই ঘর পেয়ে নতুনভাবে সুখে শান্তিতে বসবসা করছি। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন স্যারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমার মত লোককে ঘর দিয়ে আমার জীবন বদলে দিয়েছেন। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।
আত্মসমর্পণ করা সাবেক বনদস্যু মোঃ হান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথা বলে শেষ করতে পারবোনা। আমার নতুন দুইটি জীবন দিয়েছেন তিনি। প্রথম হলো শেখ হাসিনা সরকারের সাধারণ ক্ষমায় দস্যুতা ছেড়ে  আত্মসমর্পণ করে পেয়েছি নতুন জীবন। আর দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে পেয়েছি আরেক নতুন জীবনযাপন। আমার এ ঋণ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ-কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শোধ হবেনা।
স্বামী পরিত্যাক্তা হনুফা বেগম বলেন, স্বামী ফেলে রেখে অন্যত্র চলে যাওয়ার পর ৪ সন্তানকে নিয়ে পথে পথে ভেসে বেড়াতাম। কোথাও ছিলনা একটু মাথা গোজার ঠাই। এখন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে আজীবন থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারবো। পরের বিল্ডিং দেখতাম আর চোখের পানি মুচতাম। সেই চোখের পানি একবারেই মুছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারজন্য নামাজ পড়ে দোয়া করি।
হতাশাগ্রস্ত সহায়সম্বলহীন এমন সব পরিবার বৃহস্পতিবার বুঝে পান জমিসহ নতুন আধাপাকা ঘর। মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-০২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে রামপাল উপজেলার গৌরম্ভায় ২০টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পেয়েছেন শেখ হাসিনার উপহারের ঘর। এর আগে এ উপজেলার ৮৫টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। প্রত্যেক পরিবার পেয়েছেন দুই শতক জমির দলিলসহ নতুন আধাপাকা ঘর। এ উপজেলায় এমন আরো সহস্রাধিক ঘর নির্মাণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনু্যায়ী উপজেলা প্রশাসনের নিরলস পরিশ্রমে সুন্দর ঘর নির্মাণ করতে পেরেছি। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর তাই কোন রকম ত্রুটি বিচ্যুতি না হয় সেদিকে লক্ষ রেখেছি সার্বক্ষণিক। তাই ঘরগুলো হয়েছেও সেরা মানের। সৌন্দর্যবর্ধন ও সেরা মানের হওয়াতেই দেশের ৫ জেলার মধ্যে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভাতে ভার্চ্যুয়ালী যুক্ত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ভার্চ্যুয়ালী ঘর উদ্বোধন ও হস্তান্তর অনুষ্ঠানে গৌরম্ভা প্রান্তে ছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারসহ খুলনা বিভাগ ও বাগেরহাট জেলার উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরাও।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here