ডেস্ক রিপোর্ট ::করোনার কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক স্থবিরতা নতুন বছরে কাটিয়ে উঠতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই পুরোদমে শুরু হবে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম।

 

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বছরের বেশির ভাগ সময় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির ছিল। বিশেষত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দলের জাতীয় সম্মেলনের পর তৃণমূল পর্যায় থেকে উপজেলা-জেলা পর্যায় পর্যন্ত যেসব কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে সেসব কমিটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মুজিবর্ষ উদযাপনের মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে এই সব সম্মেলনের কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দলটি। এ জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে সাত বিভাগের জন্য ৭টি কমিটি করেও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মার্চে করোনার সংক্রমণ শুরু এবং দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এর ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এছাড়া রয়েছে সারাদেশে দলের সদস্য পদ নবায়ন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ। তৃণমূল থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সম্মেলনের পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজও শুরু করা হবে। একই সাথে দলের সদস্য পদের নবায়ন কাজও চলবে। এ বছরেই দলের স্থগিত হয়ে থাকা কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে চান আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। করোনা সংকট কাটিয়ে উঠে এ বছরটিকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হিসেবে দেখছেন তারা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণি পর্যায়ের নেতারা জানান, নতুন বছরে দলকে শক্তিশালী করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। এ বছর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। আগামী ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করার জন্য আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে দলের সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২১ সাল আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নেতারা জানান, সদ্য বিদায়ী ২০২০ সালে স্বাভাবিক কার্যক্রম কয়েক মাস স্থগিত থাকলেও দল নিষ্ক্রিয় থাকেনি। করোনায় বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে ত্রাণ, চিকিৎসা উপকরণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে আওয়ামী লীগ। করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও প্রস্তুত থাকতে ইতোমধ্যে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম তরঙ্গের মতো দিতীয় তরঙ্গ মোকাবিলায়ও আওয়ামী লীগ লীগ নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থাকবে। সেভাবেই দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের পর করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলা ও জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়েও সম্মেলনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও আওয়ামী লীগের নেতারা জানান।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা আরও জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে দলীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। করোনার কারণে ইতোমধ্যে মুজিববর্ষের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এই সময় দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে মুজিববর্ষ উদযাপনের কর্মসূচিও চালিয়ে যাওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here