প্রিয় চিকিৎসক রোগীদের কাছে ফিরে যান

মীর আব্দুল আলীম :: কসাই আর ডাক্তার দ’ুটোই যেন আজ একজাতীয় প্রফেসন। করোনা ভাইরাস আতংকের এমন দু:সময়ে এদেশে নচিকেতার সেই গানের চিকিৎসকদের দেখাই যেন মিলছে। বিখ্যাত এ গায়ক তার গানে কসাইয়ের সঙ্গে ডাক্তারদের গুলিয়ে ফেললেন কেন তা এখনহাড়ে হাড়ে টেরপাচ্ছে দেশের মানুষ। প্লিজ চিকিৎসক সমাজ নচিকেতার সেই চিকিৎসক আপনারা হবে না। আপনারা আরও মানবিক হউন। রোগীদেও জন্য সদয় হউন। প্লিজ আপনারা স্বরূপে ফিরে যান; রোগীদের প্রতি মানবিক আচরন করুন। চেম্বারে ফিওে যান। রোগীদের চিকিৎসা দিন।

চিকিৎসাসেবার সঙ্গে মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টি জড়িত। জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনোই অধিকার নেই কারও। চিকিৎসকদের মাঝে নীতিনিষ্ঠা, মানবিকতা, সদাচার, কর্তব্যপারায়ণতা- এসব গুণের বেশি পুঁজারি হওয়ার কথা। এদেশের অনেক চিকিৎসক এমনটাই। এই আপনারাইতো ডেঙ্গু সমস্যায় গতবছর (২০১৯) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন কাজ করে শতশত মানুষের জীবন রক্ষা করে কতনা বাহবা পেয়েছিলেন। এমন কাজের জন্য মানুষের হৃদয়ে স্থান হয়েছিলো আপনাদের। এজন্য অবশ্য আপনাদের ক’জন ডাক্তারকে জীবনও দিতে হয়েছে। যা ব্যথিত না হয়ে পারা যায় না। চিকিৎসা পেশাটাতো এমনই। রোগ, মহামারীর জীবন যুদ্ধের মাঠে আপনাদেরই থাকতে হয়। লাখো মানুষের জন্য দু’একজনকেতো জীবন উৎসর্গ করতেই হবে। আর আপনাদের মানোষিকতা এমন হওয়াই উচিৎ।

অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে বলতে হয়, করোনার এপর্বে এসে চিকিৎসকগণ (সবাই নন) কসাইয়ের (নিষ্ঠুর) ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। জীবনের ভয়ে রোগী দেখলে পালিয়ে থাকছেন; রোগী দেখা ছেড়ে দিয়েছেন। এটা আপনাদের প্রফেসনের ধর্ম নয়। প্রশ্ন আসে স্বাভাবিকভাবেই, মানুষের জীবন নিয়ে এমন আচর হয় কি করে? এটি কিছুতেই আইনসিদ্ধও নয়। এটা আপনারা করতেও পারেন না। এটা মোটেও মানবিক নয়।

আপনারা ভেবে দেখুন করোনা আতংকে দেশে কতটাচিকিৎসা সংকট চলছে। রোগী আছে ডাক্তার নেই। ডাক্তার থাকলেও চিকিৎসা নেই। চেম্বার গুলো ফাঁকা।রোগীরা অসহায়; হতাশ। করোনা আক্রান্ত হয়ে নয়; সাধারন রোগের জন্যও মানুষ চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছেন না। পেলেও চিকিৎসা মিলছে না। ডাক্তারদেও ভয় পেয়ে বসেছে। ভয়ে রোগী দেখা প্রায় বন্ধ। এটা কিছুতেই মানবসেবার ধর্ম হতে পারেনা?

সেবার শপথ নিয়েই চিকিৎসকদের চিকিৎসা পেশায় প্রবেশ করতে হয়। এ পেশাটি রাষ্ট্রের অন্যান্য পেশার তুলনায় অনেক বেশি সম্মানের। এটা পেশা হলেও, চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেন বলে এটি মানব সেবার একটি অংশও বটে। কিন্তু আজকাল এ পেশার মানুষ কেমন যেন আচরণ করতে শুরু করেছেন। কখনো রাজনৈতিক, কখনোবা অমানবিক আচরনও পরিলক্ষিত হয়। আমরা দেখেছি, রোগীকে জিম্মি করে হরহামেশাই কাজে যান না; ধর্মঘটেও যান চিকিৎসকরা। এজন্য অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাবার ঘটনাও ঘটেছে এ দেশে। বোধ করি বাংলাদেশে ছাড়া এমন নজির আর কোথাও নেই। করোনা ভাইরাস এমন সংকটের মধ্যেও হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসকরা যাচ্ছেন না, চেম্বার করছেন না এমন অভিযোগ ডাক্তাদের বিরুদ্ধে। যা অমানুবিক বটে! জীবনের নিরাপত্তাসহ পিপিই না পাওয়ার কারন দেখিয়ে চিকিৎসকরা সাধারন রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা কোন চিকিৎসক আচরন হতে পারে না। হাসপাতাল গুলোতে অসংখ্য রোগী আসছেন, ডাক্তার না পেয়ে চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।বড় অসহায় রোগী এবং রোগীর পরিবার।

রোগীদের অসহায় করে চিকিৎসকরা কিছুতেই ঘরে বসে থাকতে পারেন না। এর আগে বহুবার চিকিৎসকরা রোগীদের জিম্মি করে দাবিও আদায় করেছেন। স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে ডাক্তারদের যে কোনো পরিস্থিতিতে যে কোন জায়গায় কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। এটাও সত্য ডাক্তারদেরকের কর্তব্য পালনকালীন সময়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।এটা সরকারের দ্বায়িত্ব বটে!এ দ্বায়িত্ব পালনে কিছুটা অবহেলা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তাই করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকরা কিছুটা বিব্রত হয়েছেন। তাঁদের কাছে যথাসময়ে পর্যাপ্ত পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পৌঁছেনি। ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের চিকিৎসা দিতে হয়েছে এমনকি এখনও হচ্ছে। যা কিনা নিজেদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আতংক তৈরি করেছে। অনেক চিকিৎসক আক্রান্তু হয়েছেন। এ কারনে হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসক সংকট চলছে। সাধারন রোগেরও চিকিৎসা পাচ্ছেনা মানুষ। এটা ভয়ংকর কথা। প্রটেকশন তৈরি হচ্ছে এখনও কেন ডাক্তারগন বসে থাকবেন তা বোধগম্য নয়। চিকিৎসকরাও কিন্তু মানুষ। চিকিৎসকদেও আয়রোজগার কম নয়। দেশের মানুষ যেখানে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে মাঠে নেমেছে সেখানে ডাক্তারদেরওতো কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। অসহায় রোগীদেও জন্য হাজার টাকা খরচ করে পার্সোনাল প্রটেকশন তৈরি করতে পারতেন। মানুষ দানখয়রাতওতো করে। ডাক্তাররা তা করতে পারতেন। তা না কওে পার্সোনাল প্রটেকশনের অজুহাতে তাঁরা রোগী দেখা বন্ধ কওে দিয়েছেন। এটা কিভাবে সম্ভব।

জর ,কাশি, ঠান্ডার রোগীদের সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো যায় কিন্তু বাকিদের চিকিৎসাতো তাঁরা করবেন? তাও করছেন না অনেক চিকিৎসক। হাত-পা গুঁটিয়ে বাড়িতে অলস সময় কাঁটাচ্ছেন অনেকে। হাসপাতালে এলেও অনেকে আবার গাঁছাড়া ভাব দেখাচ্ছেন। চিকিৎসকরা কি এটা করতে পারেন? অন্তসত্বা, গাইনী, শিশুসহ সাধারন রোগের চিকিৎসা করতে তাদেও দোস কোথায়। প্রটেকশন নিয়ে সব দেশের চিকিৎসকরাই রোগীদেও সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশই তাঁর ব্যতিক্রম।

গত বছর ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব দেখাদিলে ডাক্তারগণ জীবনের ঝুকি নিয়ে রোগীর সেবায় নিবেদিত হন। এজন্য অনেকের প্রাণও গেছে। তাতেও ডাক্তাররা সেবাদিতে চিছপা হননি। তাঁদেও আন্তরিকতা এবং সেবায় অনেকে মৃত্যুও হাত থেকে বেঁচে গেছেন। এ বিষয়টিতে আমাদেও দেশের ডাক্তারগন তখন যথেষ্ট বাহবা পেিেছলেন। সত্যিই আমাদেও ডাক্তারগণ যে মানবিক মানুষ তা তারা সে সময় প্রমাণ দিয়েছেন। এবারের করোনা ক্রাইসিসে ডাক্তারদের অমানবিক আচরন তাদেও সকল সুনাম ধুলায় ভুলন্ঠিত করছে বৈকি।

চিকিৎসকদের একটু দরদি স্পর্শ, একটু সহানুভূতি, একটু হাঁসিমাখা মুখের কথায় জটিল ও কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকেও আশাবাদী করে তোলে, রোগযন্ত্রণা ভুলিয়ে দেয়। আর তার উল্টেটা হয় চিকিৎসা বঞ্চিত হলে। রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে চিকিৎসক আর কাঙ্খিত চিকিৎসা না পেলে রোগী এবং তার পরিবারের জন্য যে তা কতটা যন্ত্রনার তা কি আমাদেও চিকিৎসকরা ভাবেন? চিকিতৎসকদের বিশ্বস্থ্য বন্ধুর মতো রোগীর পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু চিকিৎসা প্রদান নয়, মুখের একটু কথাতেও অনেক সময় রোগী সুস্থবোধ করেন। রোগীরাতো এখন করোনা ক্রাইসিসের সময় ডাক্তারের দেখাই পাচ্ছেন না। আর তা রোগী, রোগীর পরিবার তথা দেশবাসীকে কতটা অসহায় করছে তা বলা বাহুল্য। আমাদের ডাক্তারগণ দেশের মানুষের অসহায়ত্বের কথা উপলব্ধি করছেন কি?

করোনাভাইরাস মহামারী রূপ নিয়েছে। এ রোগ দুনীয়া জুড়ে। রোগের জন্য; রুগীর জন্য চাই ডাক্তার। ডাক্তার না থাকলে রোগীরাতো বড় অসহায়। ডাক্তার না থাকলে কারা চিকিৎসা দিবেন রোগীদের? ডাক্তার সংকট কেন হলো? করোনা আতংকের মধ্যে শুরুতেই ডাক্তারদের সুরক্ষা সরঞ্জাম দেয়া হয়নি। এটা কিন্তু বড় সত্য। রোগীর অনুপাতে ডাক্তারদের মধ্যে আক্রান্তের পরিমান বেশি হওয়ায় চিকিৎসকদের মধ্যে আতংক তৈরি হয়েছে এটাও সত্য। হওয়ারই কথা। রোগ সারাতে গিয়ে ডাক্তার যদি রোগী হয়ে যান তাহরে কি চলবে? ডাক্তারগণ দলেদলে অসুস্থ্য রোগীরা সেবা কার কাছ থেকে নেবেন? এ জন্য ডাক্তারদের ঝুঁকি কমিয়ে এনে তাঁদেও কাজে নামানো দরকার ছিলো।

এটাও সত্য যে, ডাক্তারদের স্বাস্থ্য ঝুকি থাকবে। পরিমানে তা বেশি হলে আতংকেরই কথা। প্রশাসনের হাতে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুয়িপমেন্ট (পিপিই) চলে এসেছে আগে। এমন অভিযোগ শুরু থেকে চিকিৎসকগণ করে আসছেন। এটা নিয়ে যথেষ্ট ভুলঝাবুঝিও হয়েছে। অবশ্য প্রশাসন ক্যাডার আর ডাক্তারদেও মধ্যে অঘোষিত দ্বন্দ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে সইতে না পারার বিষয়টি আমরা বহু দিন ধরেই দেখছি। ডাক্তারগণ যখন পার্সূনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পাননি তখন প্রশাসন, ব্যাংকার, ব্যবসায়ীরা পিপিই পড়ে ফটো সেশন করেছেন। ফেসবুকে তা সবাই দেখেছে। এটা নিয়েই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এক কথা সত্য যে চলতি করোনা সংকটে দেশে প্রসাশনের লোকদেও ভুমিকা অত্যন্ত খুশী হওয়ার মতো। প্রসাশনের লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদেরন পিপিইও দরকার ছিলো। তবে যে ডাক্তারগণ রোগীদের চিকিৎসা দেবেন তাঁরা তখন পিপি পাননি এটা হতে পাওে না। যারা রোগীদেও চিকিৎসা দেবেন তাঁরা অনিরাপদ থাকবেন, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকবেন তা কি করে হয়? ভুল বোঝাবুঝিতো হবেই তাতে। যে ডাক্তার রোগির চিকিৎসা দিবেন তাঁদেরই পিপিইর অভাব। কষ্টেরই কথা। এ অবস্থায় ক’জন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আতংক তৈরি হয়েছে ডাক্তার সমাজে। এটা অনেক বড় ক্ষতির কারন হলো আমাদের জন্য। জীবনের ঝুকি নিয়ে যে ডাক্তারগণ কাজ করবেন তাঁরা সরঞ্জামের অভাবে আক্রান্ত হলে প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক। কথা আরও আছে। ডাক্তাররা কত্যব্য পালন করতে যাওয়ার পথে রাস্তায়া পুলিশের হাতে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে দু/একটি। ডাক্তারগণ কর্মস্থলে যেতে আসতে বাঁধার সম্মুক্ষীন হলে, অসম্মানীত হলে তারা সাচ্ছন্দে কাজ করবেন কি করে?

কথা কিন্তু আরও আছে। এসব বিচ্ছিন কিছু ঘটনা। ডাক্তারগণও কিন্ত এ সমাজেরই মানুষ। ভুলের কারনে তাঁরা হাত পা গুটিয়ে ঘওে বসে থাকবেন আর রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে কাৎড়াবে এটা হয়না। এটা ডাক্তার পেশার সাথে যায়না। এটা অমানবিক। গড় হিসাবে একজন ডাক্তারের রোজগার কম নয়। এ রোজগার কিন্তু রোগী থেকেই আসে। তাঁরা জীবনটা বদলে যে সুন্দর জীবন পেলেন তা রোগীদেও বধৌলতেই। কি কওে তারা রোগীদেও সমস্যার কথা ভুলে গেলেন? এানুষ এখন যুদ্ধেও মান। রাজনৈতিক, ছাত্র শিক্ষক, শিল্পপতি, সাংবাদিক সবাই কাজ করছেন যে যার যায়গা থেকে। অসহায় মানুষের জন্য সবাই ঝাঁপিয়ে পরেছেন। ক্ষুধার্থদের মুখে খাবার দিতে অনেক মানবিক মানুষ মাঠে রয়েছেন। ডাক্তারি পেশাএক মানবিক পেশা হিসেবেইতো আমরা জানি। কিছু প্রটেকশন ডাক্তারগণ নিজে থেকেই নিতে পারতেন। সে সঙ্গতী বোধ করি অনেক ডাক্তারেরই আছে।

কিন্তু উদরপিন্ডিবোধর ঘাড়ে চাপিয়ে ঘরেবসে আছেন যারা তাঁরা কতটা মানবিক সেটা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। বুঝি আমরা, অনেকে জীবনের ভয় অনেক বেশি করছেন। অনেক পেশা আছে জীবনে ভয় কম করতে হয়। এরমধ্যে আছে মহান পেশা চিকিৎসা আর সাংবাদিকতা। দু;সময়ে চিকিৎসকরা ঘওে বসে থাকলে কি কওে চলবে। মহামারীতো তাঁদেরই যুদ্ধ। যুদ্ধে নেমে মহামারীকে জয় করতে হবে তাঁদেরকেই। মানুষকে আতংকিত করা, মানুষের জীবন বিপন্ন করা কতটা সঠিক হচ্ছে প্লিজ আমাদেও প্রিয় ডাক্তারগণ জবাব দেবেন। আমার ছেলে এবং মেও ডাক্তারা । আমার পরিবাওে অনেক ডাক্তার আছেন। তবুও লিখতে বাধ্য হচ্ছি এসব। এটা লিখার দায় তৈরি হয়েছে। এই মাত্র যখন লিখছি ডাক্তার ছেলে এবং মেয়ে বিদায় নিতে আসলো। তাঁরা করোনা বিষয়ে ডঐঙ’এর ট্রেনিংয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তাঁরা সরকারের ৩৩৩ তে রোগীদের দিনরাত চিকিৎসা দিচ্ছেন। এমনকি তাঁদের পরিচালনাধীন হাসপাতালটি খোলা রেখে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে করি এমন দু:সময়ে সকল ডাক্তারদের মানবিক হওয়া উচিৎ।

মনে রাখবেন চিকিৎসকদের প্রতি মানুষ অনেক দুর্বল। অসহায় মূহুর্তেই আপনাদের কাছে মানুষ ছুঁটে যায়।আপনাদেও কাছ থেকে কোনো অশোভন বা সেবাবহির্ভূত আচরণ জনগণ প্রত্যাশা করে না। সমাজে চিকিৎসকরা একটি শিক্ষিত ও সম্মানিত পেশাজীবী মহল। তাদের অমানবিকতা অথবা উদাসীনতার কারণে হারিয়ে যেতে পারে অনেক প্রাণ। চিকিৎসা পেশা একটি মহৎ পেশা, চিকিৎ্সকদের এটা বিবেচনায় রাখতে হবে। তাঁদেরপ্রথম কাজই হচ্ছে রোগীর সেবা দেয়া। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসকদের এক মিনিটের কর্মবিরতিতেকারো জীবনহানি ঘটতে পারে। এ ধরনের আচরন আমারা আপনাদেও কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না।

বর্তমানে করোনা সংকটে ডাক্তার এবং রোগীদের সম্পর্কে দুরত্ব তৈরি হয়েছে। ডাক্তার এবং রোগীর মধ্যে দুরত্ব কমিয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান রাখা দরকার। চিকিৎসকগণই তা করবেন। রোগী-ডাক্তার সম্পর্ক অটুট থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

 

লেখক : সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও গবেষক।  E-mail- [email protected]

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নোবেলের বিরুদ্ধে ভারতে মামলা দায়ের

ডেস্ক নিউজ :: ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলার রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’তে অংশ ...