ব্রেকিং নিউজ

প্রস্তাবিত বাজেটে হাইজিন ক্ষাত প্রাধিকার পায়নি

স্টাফ রিপোর্টার :: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি আচরণের উন্নয়ন বা হাইজিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ২০২০-২১ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এ ক্ষাত যথেষ্ট প্রাধিকার পায়নি। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় এবং টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি) অর্জনের পথ সুগম করতে ২০২০-২১ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যবিধি আচরণের উন্নয়ন বা হাইজিন খাতের উপ-খাতগুলোর বরাদ্দ অপর্যাপ্ত বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা আরও বলেন, এ খাতে যথাযথ অর্থ বরাদ্দ করা না হলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

আজ রবিবার (২৮ জুন) বিকালে ওয়াটারএইড, ইউনিসেফ, পিপিআরসি, ফানসা-বিডি, ডব্লিউএসএসসিসি-বি, এফএসএম নেটওয়ার্ক, স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল এবং ওয়াশ অ্যালায়েন্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে আলোচকগণ এ কথা জানান।

এসময় আলোচকগণ আরও বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার বর্তমান পেক্ষাপটে স্বাস্থ্য এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষ করে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতের চ্যালেঞ্জ অনেকগুনে বেড়ে গেছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এবং মৃত্যু দু’টিই উর্ধ্বোমুখী হওয়ায় স্বাস্থ্য এবং ওয়াশ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দের বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমান অবস্থায় দেশের পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন পরিস্থিতির উন্নয়নের বিষয়টিও আরো জরুরিভাবে সামনে এসেছে। তবে, প্রস্তাবিত বাজেটে এ চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়গুলো বিবেচিত হয়নি।

বৈশ্বিক মহামারির এ সময়ে বাজেটে মহামারি নিয়ে যথাযথ আর্থিক বরাদ্দসহ বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন জরুরি হলেও ভাইরাস প্রতিরোধের পাশাপাশি জীবন ও জীবিকার ক্ষতির বিষয়ে সরকারের কৌশলগত বিষয়গুলো সেভাবে উঠে আসেনি। ২০২০-২১ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রেও অপ্রতুল। পিপিআরসি পরিচালিত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ওয়াশ খাতের বরাদ্দের বিশ্লেষণে বিষয়গুলি উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিপিআরসি পরিচালিত গবেষণায় ওয়াশ বাজেট বরাদ্দের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রতিফলিত হলেও স্বাস্থ্যবিধি আচরণের উন্নয়ন বা হাইজিন খাত গুরুত্ব পায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশ খাতে বরাদ্দ গত বছর ১০৭.৯৬ বিলিয়ন টাকা থেকে বেড়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১২২.২৭ বিলিয়ন টাকায় উন্নিত হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তবে, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে হাইজিন খাতে কম প্রাধিকার দেয়ার বিষয়টিও লক্ষণীয়। প্রস্তাবিত ওয়াশ বাজেটে হাইজিন খাতের উপ-খাতে ৫ শতাংশেরও কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে; এবারও এ খাতে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে শহরকেন্দ্রিকতার বিষয়টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, নগর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যকার বরাদ্দের ক্ষেত্রে অসমতা বিরাজমান আছে। চারটি ওয়াসা এবং ১১টি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন শহর ও এলাকাগুলো ধারাবাহিকভাবে এ খাতের জন্য অধিকাংশ বরাদ্দ পাচ্ছে; যদিও গ্রামীণ এলাকা, চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে এর প্রয়োজনীয়তা অধিক। বিশ্লেষণে বিগত বছরগুলোতে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় এ খাতের বরাদ্দ সংক্রান্ত তফাতের বিষয়টিও উঠে এসেছে। গত পাঁচ বছরের সময়কালে এ খাতে শহর (৮০ শতাংশ-৮৩ শতাংশ) ও গ্রামীণ (২০ শতাংশ-১৭ শতাংশ) এলাকার বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়নি।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তার সুপারিশে বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুতে এ নেটওয়ার্ক থেকে সুপারিশকৃত বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নেয়া জরুরি এবং এর পাশাপাশি হাইজিনকে জনস্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক মহামারি প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন এবং দেশজুড়ে হাইজিন ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে আরও বেশি পরিমাণে বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং জনপরিসরে হাত ধোয়ার স্থাপনা বসানোও জরুরি, যেখানে সাবান ও পানির ব্যবস্থা থাকবে।’

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ‘বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে রাখা ১০ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা শহর ও বস্তি এলাকাগুলোতে হাত ধোয়ার স্থাপনা তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা কোভিড-১৯ প্রতিরোধে দরিদ্র জনগণকে হাইজিন সুবিধা প্রদান করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইউনিসেফের ওয়াশ স্পেশালিস্ট মনিরুল আলম, ডব্লিউএসএসসিসি-বি’র শাহ আনোয়ার কামাল।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল (এসডব্লিউএ) দক্ষিণ এশিয় প্রতিনিধি ও ডরপ এর গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান।

 

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কোরবানির পশু পরিবহন করবে ট্রেন

স্টাফ রিপোর্টার :: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় ট্রেনে কোরবানির পশু পরিবহনের পরিকল্পনা ...