ব্রেকিং নিউজ

প্রধানমন্ত্রীকে ২১ বিশিষ্টজনের অভিনন্দন

ডেস্ক নিউজ :: ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ২১ বিশিষ্ট নাগরিক। বিবৃতিতে তারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন বিশ্নেষণ করে নির্যাতিত ও ধর্ষিত নারীর অনুকূলে সংশোধনী আনারও দাবি জানিয়েছেন।

রোববার গণমাধ্যমে তাদের বিবৃতিটি পাঠানো হয়। বিবৃতিদাতারা হলেন- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, শামসুজ্জামান খান, হাসান আজিজুল হক, অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, সারোয়ার আলী, ফেরদৌসী মজুমদার, আবদুস সেলিম, মামুনুর রশীদ, নির্মলেন্দু গুণ, মফিদুল হক, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মোহাম্মদ নূরুল হুদা, শফি আহমেদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, লাকী ইনাম, সারা যাকের, শিমূল ইউসুফ, গোলাম কুদ্দুছ, মান্নান হীরা ও হাসান আরিফ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যকর পদক্ষেপের কারণে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান দ্রুত কার্যকর হয়েছে। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। তবে আইনের সঠিক ও সময়োপযোগী প্রয়োগের ওপর নির্ভর করছে এর কার্যকারিতা। বাংলাদেশে অনেক আইন রয়েছে কিন্তু এর সঠিক প্রয়োগ নেই। ফলে আইন তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রয়োগকারীর ওপর জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এ অবস্থায় আমরা দ্রুততম তদন্ত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার তাগিদ জানাই। বিদ্যমান আইনের অনুপুঙ্খ বিশ্নেষণ করে আইনটিকে নির্যাতিত ও ধর্ষিত নারীর অনুকূলে সংশোধনী আনার জোর দাবি জানাই।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা এ কথাও জোর দিয়ে বলতে চাই, শুধুমাত্র আইন সংস্কার ও শাস্তি প্রদান করে এই জঘন্য অপরাধ থামানো যাবে না। এজন্য প্রয়োজন দেশে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিশুদ্ধতা। এ জন্য প্রথম যে কাজগুলো করা জরুরি সেগুলো হলো- ধর্ষক ও সন্ত্রাসী যেন কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এ ঘৃণ্য অমানবিক কাজ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শতভাগ সততা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, বিভিন্ন ধর্মসভায় মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা দিয়ে নিরন্তর নারী-অবমাননাকর বক্তব্য থেকে মৌলবাদীদের নিবৃত করতে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে ও নির্যাতিত নারীর সামাজিক লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক শক্তির কর্মসূচিকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানে তৎপর হওয়া; প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যসূচির আধুনিকায়ন, মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রমকে সরকার নিয়ন্ত্রিত করা এবং নারীর প্রতি সম্মানের মানসিকতা গড়ে তুলতে সকল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমে, নারী-পুরুষের সমঅধিকারের বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা, একমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা, পেশিশক্তির বিপরীতে জ্ঞান ও যুক্তিনির্ভর সমাজ গড়ে তুলতে ব্যাপক সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলা।’

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ডিআরইউর সভাপতি মুরসালিন নোমানী, সাধারণসম্পাদক মসিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান সোহেল

স্টাফ রিপোর্টার :: ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ২০২১ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির নতুন ...