গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন,হিলি (দিনাজপুর)প্রতিনিধি :: আর ক’দিন বাদেই মর্ত্যে আসছেন দেবী দুর্গা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা। আর তাইতো প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার প্রতিমা শিল্পীরা। প্রায় ২৭ দিন পরে পূজা শুরু হঠাৎ করেই কাজের চাপ বেড়েছে কারিগরদের। তাই রাত-দিন পরিশ্রম করে আপন মনে, নিপুণ হাতে তৈরী করছেন মা দেবী দুর্গাকে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যেন স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত না হয় সে ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরাও।
কনক চন্দ্র মহন্ত। গত ১৫ বছরের উপর তিনি প্রতিমা তৈরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে আসছেন। মা দূর্গাকে মন থেকে ভালবাসে অনেক যত্ন সহকারে তৈরি করে এই প্রতিমা। ছোট বেলা থেকে কারিগরদের সাথে কাজ করতে করতে আজ সে নিজেই প্রতিমা তৈরীর কারিগর হয়েছে। তিনি এবার ৭টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ হাতে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে চারটিতে মাটি লাগানোর কাজ শেষ করেছে। পূজা শুরুর ১৩/১৪ দিন পূর্বে রং এর কাজ শুরু করবে। তখন রংতুলির আচরে প্রতিমা গুলোকে জীবন্ত রুপে ফুটিয়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।  এক একটি মন্দিরে কাজ করে ৩০  হাজার টাকা নিচ্ছেন কনক। গতবারের তুলনায় তার দলে লোকসংখ্যা বাড়াতে হয়েছে। বাজারে সব জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি তার উপর লকডাউন। তারপরও সব কিছু কাটিয়ে সেরা কাজ উপহার দিতে পারবেন বলে আশা করেন কনক।
সুজন কুমার পাল। ছোটবেলা থেকেই দাদা-বাবাদের সাথে কাজের হাতেখড়ি। এবার হাতে নিয়েছেন ৬টি কাজ। খুবই ব্যস্ত সময় পার করছে তার দলের লোকজন। রাত দিন পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন তিনি। দলে লোকসংখ্যা বাড়ালেও কাজের ব্যস্তত্তা শেষ হচ্ছে না তার। এবারে তিনি ৫ টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ হাতে নিয়েছেন। প্রতিটি মন্দিরে প্রতিমা তৈরীতে ৪০ হাজার টাকা নিচ্ছেন সুজন।বাজারে সব জিনিষের দাম উর্দ্ধগতি হলেও বরাবরের মতো এবারেও সেরা কাজ দিতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।
সরেজমিনে হাকিমপুর(হিলি) পৌর শহরের চন্ডিপুর মন্দির, পালপাড়া মন্দির, গোহাড়া মন্দির, উপজেলার সাদুড়িয়া গ্রামের রাজ নারায়নশাহ সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, দক্ষিণ সাহাজাদপুর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, জাংগই সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, ঘুরে দেখা যায়, শিল্পীর নিপুণ হাতে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। নিখুঁতভাবে মনের মাধুরী মিশিয়ে কারিগররা ফুটিয়ে তুলছেন দূর্গা দেবীকে। পাশাপাশি চলছে লক্ষী, স্বরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক, অসুর, সিংহ, মহাদেবসহ ১২ টি প্রতিমা তৈরীর কাজ। কোন মন্ডপে চলছে কাঠামো তৈরী আবার কোথায় করা হচ্ছে মাটির কাজ। সনাতন ধর্ম্বাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব ঘনিয়ে আসায় হাকিমপুরে যেন দম ফেলার ফুরসরত নেই প্রতিমা তৈরীর কারিগরদের। লকডাউন শিথিল হওয়ায় এবার কাজের চাপ বেশি। তাইতো ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে তাদের। তবুও খুশি তারা। নতুনত্ব কিছু দিতে না পারলেও সাধ্যমত চেষ্টা করছেন দেবী দুর্গাকে সাজাতে এমনটিই জানালেন কারিগররা। আর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাকালে বেড়েছে সবপ্রকার উপকরণের দাম। তাইতো এবার খরচ একটু বেশি।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য মতে এ বছর দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলায় ১২৮৬ টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপুজা। আগামী ১১ অক্টোর ষষ্টীপুজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
হাকিমপুর(হিলি)উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর শাহা (রিপন) বলেন, এবারে আমাদের উপজেলায় ২১টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। মন্দিরে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য বিধি মেনে দুর্গোৎসব পালনের জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী(পুলিশ) প্রস্তুত। শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দূর্গা পূজা উদযাপনের জন্য পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here