ডেস্ক রিপোর্ট : : স্বাভাবিকভাবে চলার শক্তি হারানোর সঙ্গেই হারিয়ে যেতে পারত জীবনের ধারাটিও। পেটের দায়ে হাত বাড়াতে লাগত অন্যের কাছে। কিন্তু আত্মসম্মান আর দৃঢ় মনোবল তাকে সে পথে নিতে পারেনি। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও কৃষিকাজ করে জীবিকা উপার্জন করছেন চাঁদপুরের এক বৃদ্ধ। নাম তার বিল্লাল হোসেন। ফরিদগঞ্জের এ জীবনযোদ্ধার জন্য সহায়তার আশ্বাস মিলেছে গণমাধ্যমের কল্যাণে।

দু’পায়ের পূর্ণশক্তি হারিয়েছেন ১২ বছর আগে। কুষ্ঠরোগের হানায় সাজানো জীবনে বেশ বড়সড় পরিবর্তন হয়ে গেছে। শারীরিক সমস্যার সঙ্গে দুশ্চিন্তা বাড়ে মনেও। পরিবারের ভরণপোষণ কী করে চলবে। বসতবাড়িতে এক চিলতে জমি ছাড়া আর কোন সম্পদ নেই তার। কৃষিকাজ করেই দিন চলত, পঙ্গু জীবনে কি আর মাঠে যাওয়া সম্ভব হবে ?

সাহস সঞ্চয় করে ঘুরে দাঁড়ানোর শপথ নেন বিল্লাল। যে মাঠে শৈশব থেকেই সবুজ-সোনালি বাহারি নানা ফসলের সঙ্গে মিতালি ছিল তার, সেখানেই জীবনযুদ্ধে নামেন আরেকবার। হাতে কাস্তে, কোদাল, নিড়ানি। কৃত্রিম পা নিয়ে মাটি ভেদ করে ওঠা প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর কাছে ফিরে আসেন তিনি। আবারো শুরু করেন কৃষিকাজ।

বাধাকে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলার এ উদাহরণ এলাকাবাসীর কাছেও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তবে বয়স বাড়ছে বিল্লাল হোসেনের, তাই দুশ্চিন্তা বাড়ছে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও। সহায়সম্বলহীন পরিবারের ভবিষ্যৎ সহায় কী হবে?

কৃষক বিল্লাল হোসেনর স্ত্রী জানান, আমার অসুস্থ স্বামী খুবই কষ্ট করছে। ১০ বছর ধরে তিনি পুঙ্গু। তাকে একটু সাহায্য করলে ভালো হয়।

গণমাধ্যম কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণে অবশেষে জনপ্রতিনিধি, সরকারি দফতরও সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।

রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক রজত শুভ্র সরকার জানান, সমাজসেবা অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধীদের ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ক্ষুদ্রলোনের কর্মসূচির আওতায় তাকে নিয়ে আসা হবে।

বিল্লাল হোসেন ও পরিবারের সদস্যদের চাওয়া, বিলম্বিত আশ্বাস নয়, শিগগিরই পুনর্বাসন সহায়তা পেলে স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে তাদের জীবন। অনাগত ভবিষ্যৎ হতে পারে ডাল-ভাতের নিশ্চয়তাপূর্ণ।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here