প্রতিটি পাঠাগারে একটি স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু কর্ণার করতে চাই: ইঞ্জি. আরিফ চৌধুরী শুভ

প্রতিটি পাঠাগারে একটি স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু কর্ণার করতে চাই: ইঞ্জি. আরিফ চৌধুরী শুভ

স্টাফ রিপোর্টার :: জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন-জাপাআ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইঞ্জি. আরিফ চৌধুরী শুভ বলেছেন, প্রতিটি পাঠাগারে আমরা একটি স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু কর্ণার করতে চাই। এই কর্ণারে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা বৃত্তান্ত থাকবে। পাঠক যেন খুব সহজে তার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙ্গালী জাতির পিতাকে প্রতিটি পাঠক যেন নিজ গ্রাম থেকে জানতে পারে সে ব্যবস্থা করতে চাই আমরা। বঙ্গবন্ধুর বৈষম্যহীন অহিংস সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পাঠাগার আন্দোলনের বিকল্প নাই।

২৩ এপ্রিল বিশ্ব গ্রন্থ ও গ্রন্থস্বত্ব দিবস বা পাঠাগার দিবসে রাজধানীর কাটাবনে দীপনপুর গ্যালারিতে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন-জাপাআ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, মেঠোপথ থেকে দীর্ঘ ১৬ মাইল দূরে জেলা শহর থেকে বই এনে পড়া একটি ছোট্ট স্কুল পড়ুয়া বালকের জন্য সহজ কিছু ছিল না। দুইচাকার সাইকেলই ছিল আমার একমাত্র বাহন। টিফিনের দুই টাকাও জমিয়ে বই কিনেছি। অভাবের সংসারে বইকে বিলাসিতা ভাববে তাই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়েছি। এভাবেই আমার স্কুল জীবনে বইপড়ার অভ্যাস আমাকে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন সৃষ্টির জন্য তগিদ দিলো।

আরিফ চৌধুরী শুভ আরো বলেন, আশে পাশে ১০ গ্রামেও কোন পাঠাগার ছিল না। শিক্ষার্থীরা জানতো না পাঠাগার মানে কি? অনেক শিক্ষকও পাঠাগারের সাথে পরিচিত ছিলেন না। স্বাধীনতার পরে নিজ গ্রামে আমি যখন আলোকিত পাঠাগার ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আলোকিত স্কুল গড়ি তখন আমার পরিবার ছাড়া আমি কাউকে পাশে পাইনি। নিজগ্রামে পাঠাগার ও স্কুল গড়েও অনেক বিপদে পড়েছি। অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছি।  আমি উপলব্ধি করি, মনের বিরুদ্ধে যে পথ সেটি ঘোর অন্ধকার। একমাত্র আলোটাই সত্য। তাই সত্যকে আকড়ে ধরে পথ চলতে হবে। আনপাদের আত্মার ক্রন্দনকে আজ জিজ্ঞেস করেন, সে কোন পথের অনুসারি? সে পথেই চলতে হবে আমাদের। তবেই সত্যের দেখা পাবে।

তিনি বলেন, সত্য কঠিন কিন্তু বইয়ের মতো শক্তিশালী। বিশ্ব সাহিত্যের দুই মহান ব্যক্তি ইউলিয়াম শেক্সপিয়র’ও মিগুয়েল ডি  সারভান্তেস’তাঁদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সত্যকে বইয়ের ভাষায় লিখে গেছেন। সমাজে পাঠাগারের নেই আক্ষেপ করে তিনি আরো বলেন, অত্যন্ত দু:খের সাথে বলতে হচ্ছে আজ,  একটি সমাজে সবই আছে কিন্তু শুধু একটি পাঠাগার নাই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ার এডুকেশন এক্সিলেন্স এওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষাবীদ ও গবেষক প্রফেসর ড. এম ফিরোজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সারাদেশ ১০টি নতুন পাঠাগার উদ্বোধন ও প্রতিনিধিদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রগতিশীল চিন্তাবীদ ও অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হোসেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৈশর তারুণ্যের বইয়ের সভাপতি তুষার আবদুল্লাহ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ট্রাভেলার ও লেখক এলিজা বিনতে এলাহী।

চ্যানেল ২৪ এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আরিফুল সাজ্জাত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লাবণ্য রেজা ও মহিমা বাধন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাজেটে মাতৃত্বকালীন ভাতা

বাজেটে মাতৃত্বকালীন ভাতা

মুশফিকুল হক মুকিত :: দৈনিক যুগান্তরের কার্যালয়ে কনফারেন্স কক্ষে শুক্রবার ‘সুরঞ্জনা’ বিভাগ ...