যশোর প্রতিনিধি ::

ফসলের চাষাবাদে বেজায় খরচ বৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ রসুন চাষে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন যশোর অঞ্চলের কৃষক। এক বিঘা পেঁয়াজ বা রসুন চাষে কৃষককে মৌসুমে অন্তত: ৪০ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। পেয়াজ রসুন বিক্রির ব্যাপারটা আরো পরের খবর। 

কৃষক তরুণ যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার রসুলপুর মান্দারতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বলেছেন, তার পেঁয়াজ মাঠ পড়েছে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায়। মান্দারতলা গ্রামটি দুই জেলার দুই উপজেলায় ভাগাভাগি হয়েছে। একারনে তার মাঠ পড়েছে মহেশপুর উপজেলার মধ্যে। এখানে উত্তর মাঠে তরুণের চারবিঘা পেঁয়াজ ও রসুন রয়েছে।

কৃষক তরুণ বলেন, পেঁয়াজ রোপণের জন্য জমি প্রস্তত থেকে, রোপণ এবং ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতি পদে খরচ হয়। এর মধ্যে ৩/৪টি নিড়ানী দিতে হয়। প্রতি নিড়ানীর ক্ষেত্রে খরচ ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। মাথাপিছু মজুরি ৩৫০ টাকা। এর পর পাতা পচা বা আগা পচা রোধে ব্যবহার যে কীটনাশক বা অষুধ ব্যবহার হয় তার দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

যেমন কীটনাশক বা অষুধ লুনা কদিন আগে সীজনের পূর্বে মূল্য ছিল ৬৮০ টাকা এখন ৯২০ টাকা। নাটিভো আগে ছিল ৫৫০ টাকা, এখন ৮৫০ টাকা। রুবলাল (১০০০ গ্রাম) দাম ছিল ২৫০ টাাকা এখন তার মূল্য ৪৮০ টাকা। স্কোর আগে ১৯০ টাকায় পাওয়া যেত এখন তার মূল্য ৩০০ টাকা। ফলিকুর আগে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ২২৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। টিল আগে ছিল ১৮০ টাকা, এখন তা কিনতে হচ্ছে ৩৩০ টাকায়।

একই ভাবে সকল সারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ বস্তা টিএসপি সার কিনতে হচ্ছে ১৬০০ টাকা দরে। প্রতি বস্তা পটাশের মূল্য ১২০০ টাকা। প্রতি কেজি জিপসামের মূল্য ১৫০ টাকা। দুই কেজি বোনা অষুধের মূল্য প্রতি কেজি ৩০০ টাকা হিসাবে ৬০০ টাকা। বোরন (২০০/৩০০ গ্রাম) ৬০০ টাকা। দস্তা প্রয়োজন হয় ৪ কেজি। এর মধ্যে গ্রেজিং দস্তা প্রতি কেজি ৩০০ টাকা ও টোপাচ প্রতি কেজি ২২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

পেঁয়াজ বা রসুন চাষ করতে হয় এই নিয়মে যে, প্রতিবার নিড়ানীর পর সেচ দিতে হয়। এরপর সার প্রয়োগ করতে হয়।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here