ব্রেকিং নিউজ

পুরুষদের জন্য সান্ধ্য আইন জারি করা হোক

লেখক, আফরোজা সোমা

আফরোজা সোমা :: সব মশা ক্ষতিকারক নয়। এডিস মশা ক্ষতির কারণ। কিন্তু কোনটা এডিস আর কোনটা স্বাভাবিক সেটা তো বোঝা মুস্কিল। তাই, ওষুধ ছিটানোর সময় সব মশাকেই নিধন করা হয়।

নিরপরাধ সাধারণ মানুষেরা ঘরে-বাইরে থাকে। আইন ভঙ্গ না করে সামাজিক চুক্তি মোতাবেক স্বাধীনভাবে জীবন কাটায়। কিন্তু অপরাধীরা থাকে জেলে। বন্দী। মানে সাধারণের সমাজ থেকে দূরে।

যেহেতু পুরুষেরাই ধর্ষক। যেহেতু তাদের মধ্যেই আছে এডিস এবং নিরিহী, ভদ্র ও গোবেচারা মশক কিন্তু যেহেতু নিরীহ ও ক্ষতিকারকদেদর আলাদা করা দুরুহ, ফলে সকল পুরুষের জন্য সান্ধ্য আইন জারী করা হোক। কোনো পুরুষ সন্ধ্যে ৬টার পর বাইরে ঘোরা-ফেরা করতে পারবে না। বাজার-ঘাট করা, সিনেমা-নাটক দেখা, কোনো নারীর উপস্থিতি ব্যতিরেকে একা কোথাও যাবার অনুমতি পাবে না।

যদি ১৬ বছর বয়সের উর্ধে কোনো ছেলে, যুবা ও প্রৌঢ়কে একা জনপরিসরে দেখা যায় তাহলে তাকে পুলিশ এবং/অথবা যে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক নারী সেই পুরুষের বাইরে থাকার কারণ জানতে চাইতে পারবে এবং সেই পুরুষ যদি তার বর্ণিত কারণের পক্ষে যথার্থ যুক্তি ও উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে না পারে তাহলে তাকে হয় পুলিশ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেবে অথবা প্রয়োজন হলে নিজেদের জিম্মায় নেবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যারা কাজ করবে শুধু সেখানে লৈঙ্গিক বিভাজন করা হবে না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তারা হবেন আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য। তাই, সান্ধ্য আইন তাদের জন্য কার্যকর হবে না।

এছাড়া জাতী-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে বাংলাদেশে ১৬ বছর থেকে তদোর্ধ সকল পুরুষের জন্য সান্ধ্য আইন জারী করা হোক। তাহলেই নারীরা নিরাপদ।

নারীরা ভূতের চেয়ে পুরুষকে বেশি ভয় পায়। কারণ ভূত রেপ করতে পারে না। নারীরা আজরাইলের চেয়ে পুরুষকে বেশি ভয় পায়। কারণ আজরাইল রেপ করতে পারে না। নারীরা ড্রাগ্রনের চেয়ে পুরুষকে বেশি ভয় পায়। কারণ ড্রাগন রেপ করতে পারে না।

নারীরা পাগলা কুকুরের চেয়ে মস্তিষ্কে নুনু নিয়ে ঘোরা পুরুষদের বেশি ভয় পায়। কারণ পাগলা কুকুর তাড়া করে বড় জোর কামড়ে মাংস তুলে নেয় কিন্তু রেপ করতে পারে না।

নারীর জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র গড়তে হলে নারীর চলাচল সবর্ত্র নির্বিঘ্ন ও নির্ভয় করতে হবে। আর পুরুষদেরকে প্রশিক্ষণে দিয়ে-দিয়ে তাদের মাথা থেকে নুনানুভূতি না নামা পর্যন্ত সান্ধ্য আইন ও প্রশিক্ষনের ভেতর দিয়ে যেতে হবে।

কী? এইসব দাবী খুব আউলা-মাথার অযৌক্তিক প্রলাপ মনে হচ্ছে? কিন্তু এই আউলা মাথার অযৌক্তি বাস্তবতাই তো নারীর জন্য পরোক্ষে বিরাজ করছে সোনার দেশে। এই বাস্তবতাকে কি ‘ক্রেজি’ মনে হয় না?

 

 

 

 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, মিডিয়া এন্ড ম্যাস কমিউনিকেশান বিভাগ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিবাংলাদেশ

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সংযুক্তা সাহা’র কবিতা ‘আমার ভাষা’

আমার ভাষা -সংযুক্তা সাহা  নকশিকাঁথার সুতোয় আমার এই ভাষা সরিষা ক্ষতের আল ...