সংকট কাটাতে এবার পুতিনের দ্বারস্থ শ্রীলঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্টঃঃ  নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট পার করছে শ্রীলঙ্কা। নগদ অর্থ সংকটে থাকা এই দেশটিতে একইসঙ্গে চলছে জ্বালানির প্রকট অভাব। এই পরিস্থিতিতে সংকট থেকে বের হতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দ্বারস্থ হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি।

মূলত জ্বালানি আমদানিতে সহায়তা করতে রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, নগদ অর্থ সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কাকে জ্বালানি আমদানিতে সহায়তা করতে ভ্লাদিমির পুতিনকে অনুরোধ করেছেন তিনি। গোটাবায়া রাজাপাকসে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তার ‘খুব ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে।

গত সপ্তাহান্তে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী সতর্ক করেছিলেন যে, দেশে মজুদ থাকা পেট্রোল শিগগিরেই শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর বুধবার শত শত মানুষ রাজধানী কলম্বোর রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। আর এরপরই জ্বালানি সংকট কাটাতে শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্টের রাশিয়ার দ্বারস্থ হওয়ার তথ্য সামনে এলো।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নিজের আলোচনার বিষয়ে বুধবার টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে বলেন, ‘জ্বালানি আমদানির জন্য ক্রেডিট সহায়তা দিতে অনুরোধ করেছি আমি।’

রাজাপাকসে আরও বলেন, রাশিয়ান পতাকাবাহী অ্যারোফ্লট গত মাসে নিজেদের পরিষেবা স্থগিত করার পরে তিনি মস্কো এবং কলম্বোর মধ্যে ফ্লাইট পুনরায় চালু করার জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিনকে তিনি ‘বিনীতভাবে অনুরোধ করেছেন’।

টুইটে তিনি দাবি করেন, ‘পর্যটন, বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির মতো সেক্টরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে আমরা সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছি। কারণ এগুলোই আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করার জন্য সর্বোত্তম।’

এর আগে গত রোববার শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রী কাঞ্চনা উইজেসেকেরা বলেন, নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া শ্রীলঙ্কার হাতে আর মাত্র একদিনেরও কম সময়ের জ্বালানির মজুদ আছে। তার ভাষায়, দেশে প্রায় ৪ হাজার টন পেট্রল মজুদ আছে। যা দেশের একদিনের চাহিদারও কম।

অর্থাৎ দেশটির কাছে যে জ্বালানির মজুদ আছে, তা দিয়ে একদিনও চলা যাবে না। দেশটির অর্থনৈতিক সংকট গুরুতর আকার ধারণ করায় গণপরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানী কলম্বোতে পেট্রোল এবং ডিজেলের দীর্ঘ সারি সাপের মতো এঁকে বেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত চলে গেছে। যদিও দেশটির বেশিরভাগ পাম্প স্টেশন দিনের পর দিন জ্বালানিবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে জরুরি পরিষেবা খাতের পরিবহন ছাড়া অন্যান্য যানবাহনের পেট্রোল এবং ডিজেলের বিক্রিতে দুই সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে শ্রীলঙ্কা।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এবারই সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। করোনা মহামারি, জাতীয় অর্থনীতি পরিচালনায় সরকারের অদক্ষতা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ তলানিতে নেমে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কায় বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি, খাবার এবং ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর আমদানি মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না শ্রীলঙ্কা। ডিজেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো। ফলে গত কয়েক মাস ধরে সেখানে দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here