পর্যটন স্থানগুলোর পাশাপাশি ঐতিহ্য বিদেশে তুলে ধরুন: রাষ্ট্রপতি

বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের মেলা ইতিবাচক অবদান রাখবে। এছাড়া উন্নত হবে বন্ধুরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক, বিকশিত হবে পর্যটন শিল্প এবং সমৃদ্ধ হবে জাতীয় অর্থনীতি।

স্টাফ রিপোর্টার :: বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের জন্য দেশের পর্যটন স্থানগুলোর পাশাপাশি ঐতিহ্যগুলো তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যসহ পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানগুলোকে বিদেশে চমৎকারভাবে তুলে ধরতে হবে। পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ দূতাবাসগুলোকে এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত নবম বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের লীলাভূমি আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এসব নিদর্শন আমাদের গৌরবময় অতীতকে ধারণ করে আছে শতাব্দী থেকে শতাব্দী কাল ধরে। বাংলার এসব ঐতিহ্য ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য, আচার-অনুষ্ঠান, বৈচিত্র্যময় জীবনাচার পর্যটকদের গভীরভাবে আকর্ষণ করে।’

বিদেশি পর্যটকদের দেশের অতিথি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যাতে নির্বিঘ্নে এবং আনন্দঘন পরিবেশে বাংলাদেশ ভ্রমণ করতে পারে, বাঙালির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয় তাও নিশ্চিত করতে হবে।

‘বিদেশি পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন এরাইভাল ভিসা প্রাপ্য দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজতরসহ বাংলাদেশ মিশনগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ই-ভিসা প্রদান করছে,’ যোগ করেন রাষ্ট্রপতি হামিদ।

তিনি উল্লেখ করেন, তিনি জেনে খুশি হয়েছেন যে দশম ইসলামিক কনফারেন্স অব ট্যুরিজম মিনিস্টারসে বাংলাদেশকে ২০১৮-১৯ সালের জন্য নতুন চেয়ারপার্সন হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। ঢাকা শহরকে ২০১৯ সালের জন্য ঢাকা দ্য ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

টোয়াব আয়োজিত মেলা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের মেলা ইতিবাচক অবদান রাখবে। এছাড়া উন্নত হবে বন্ধুরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক, বিকশিত হবে পর্যটন শিল্প এবং সমৃদ্ধ হবে জাতীয় অর্থনীতি।

পর্যটনের অপার সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই রাষ্ট্রীয়ভাবে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে গঠন করা হয় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, যা আজ বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের অগ্রপথিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মতোই পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেন, জানান তিনি।

টোয়াব সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন্স, হোটেল ও রিসোর্টের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন ও মালদ্বীপসহ ১০টি দেশ মেলায় অংশ নিয়েছে।

মেলায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। তিন দিনব্যাপী এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

লক্ষ্মীপুর-রায়পুর-চাঁদপুর ব্যস্ততম আঞ্চলিক মহাসড়কে

সড়ক নয় যেন ক্ষেত!

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: লক্ষ্মীপুর-রায়পুর-চাঁদপুর ব্যস্ততম আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কার কাজটি ...