পর্যটন শিল্পের জন্য প্রণোদনা দাবি (ভিডিওসহ)

 

স্টাফ রিপোর্টার :: বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাব বাংলাদেশের সকল মানুষ, সকল পেশার উপর যেমন মারাত্নক ক্ষতি সাধন করে চলেছে ঠিক তেমনি এ ক্ষতির প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পের উপর। এ ক্ষাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ উপায়ে প্রণোদনা তহবিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন।

রবিবার (৫ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোখলেছুর রহমান এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাগর সরকারের কাছে এ দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন তা বিশেষভাবে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ঘোষণা থেকে এ কথা পরিস্কার হয়েছে যে, তিনি বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্য-অর্থনীতি নিয়ে বিশেষ উদ্বিগ্ন এবং তা থেকে উদ্ধার করার জন্য সদাসচেষ্ট। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।

তারা আরো উল্লেখ করেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পও অত্যন্ত নাজুক অবস্থার শিকার হয়েছে। একে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে জুন ২০২১ পর্যন্ত যে কোন উপায়ে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কেননা, এই শিল্প প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ কর্মীর কর্মপ্রচেষ্টায় আমাদের জিডিপিতে ২০১৯ সালে ৭৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অবদান রেখেছে এবং পর্যটন রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে হোটেল ও বিমান মিলে ১০% ব্যবসায়ী কর্পোরেট শ্রেণির, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৮০% এবং ১০% প্রান্তিক শ্রেণির অন্তর্ভূক্ত। ফলে পর্যটনের সাথে মূলত ৯০% পেশাজীবি ও কর্মী অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পতিত হয়েছে।

পর্যটন শিল্পকে বাঁচিয়ে  রাখতে আগামী জুন ২০২১ পর্যন্ত পাঁচ উপায়ে প্রণোদনা ঘোষণার জোর দাবি জানানো হয় সংগঠন দুইটির পক্ষ থেকে। দাবিগুলো হচ্ছে-

১. বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটনের অবদানের অন্যুন ২৫% অর্থাৎ ১৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করতে হবে। এই প্রণোদনার টাকা সম্মত নীতিমালার আওতায় এককালীন অনুদান, রিফান্যান্সিং ঋণ ও রেয়াতি সুদহারে ঋণ প্রদান করতে হবে।

২. অনুদান ও ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রান্তিক শ্রেণির ব্যবসায়ী, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট ব্যবসায়ী এই ধারাক্রম মেনে চলতে হবে।

৩. ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরকে রক্ষার জন্য এপ্রিল ২০২০ মাসের মধ্যে অনুদানের অর্থ পর্যটন ব্যবসায়ীদের হাতে জরুরিভিত্তিতে পৌঁছাতে হবে।

৪. বিতরণকৃত সকল ঋণ সরলসুদে প্রদান ও দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধ কিস্তি নির্ধারণ করতে হবে।

৫. ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ করবর্ষে পর্যটনের সকল উপখাতে ১০% হারে ট্যাক্স হ্রাস করতে হবে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নিজ দল থেকে বহিষ্কার হলেন মাহাথির মোহাম্মদ

ডেস্ক নিউজ :: নিজের হাতে গড়া রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন মালয়েশিয়ার ...