হাসিন জাহান

মাহমুদা হক মনিরা :: ‘পরিচ্ছন্নতা হওয়া উচিত আমাদের প্রতিদিনের চর্চা’ ‘এসডিজি-৬ কে সফল করতে প্রয়োজন জনসাধারনের অংশগ্রহন এবং জনসাধারনকে সম্পৃক্ত করার জন্য এনজিও-রা বরাবরই সরকারের সাথে এগিয়ে এসেছে। আর তাই আমদের দরকার এনজিও, সরকার এবং সবাই মিলে আমরা যেন এই এসডিজি-৬ কে সফল করতে পারি’ এমনটাই বলেছেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান।

মঙ্গলবার বিকালে বনানীতে তার কার্যালয়ে ইউনাইটেড নিউজের সাথে আলাপকালে হাসিনা জাহান আরও বলেন, ‘উন্নয়ন হোক মানুষ কেন্দ্রিক এই ক্যাম্পেইন এর সফলতা কামনা করছি। আসলে এই ক্যাম্পেইনটি শুধু মাত্র স্যানিটেশন মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। এখন এই ক্যাম্পেইনটা আমাদের প্রতিদিনের কার্যক্রমের অংশে নিয়ে আসতে হবে। কারন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা আমাদের প্রতিদিনের একটি সাধারণ কাজের অংশ হিসেবে আমাদেরকে নিয়ে আসতে হবে। প্রতিদিনের চর্চার ভিতরে নিয়ে আসতে হবে এবং তাহলেই আমরা কোভিট থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারবো। বাইরে ফিরে এসেই আমাদেরকে সাবান দিয়ে হাত ধোতে হবে, ঘন ঘন সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোতে হবে। আমরা যদি পরিষ্কার থাকতে পারি শুধু মাত্র সাবান দিয়ে হাত ধোয়েই না এবং আমাদেরকে স্যানিটেশন ব্যবস্থাতেও যেন আমরা পরিবর্তন আনতে পারি এবং পরিষ্কার থাকতে পারি সে বিষয়ে আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উচিত নিজেদের পরিচ্ছন্ন থাকা এবং অন্যকে পরিচ্ছন্ন রাখা, পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করা। এক্ষেত্রে এনজিও এবং সরকারকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে এবং জনসাধারণের সকলের অংশগ্রহন প্রয়োজন।। আমরা কতটুকু পিছিয়েছি বা কতটুকু ক্ষতি হয়েছে সেই হিসেবটা রাখা হয় না। সাইক্লোন, বন্যা বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে যেসব ক্ষতি হয় সেই হিসেবও রাখা হয় না। সুতরাং মাইনাসের হিসাবটা না করে আমরা সবসময় প্লাসের হিসাবটাই করে আসছি। এই মাইনাসের হিসাবটা যেহেতু আমরা যোগ করি না তাই আমরা পিছিয়েছি কতটুকু সেই হিসাব কখনো রাখি না। সে জন্যই আমাদের হিসাবে শুধু যোগটাই আসে বিয়োগফলটা আসে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ আমাদের তথ্যে একটা বড় গোলমাল আছে। আমরা সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করি না। বন্যা, সাইক্লোনের ক্ষতি হয় সেগুলো আমাদের ক্ষতিয়ানের মধ্যে আনা দরকার এবং যেগুলো নতুন হচ্ছে সেগুলো যোগ করা দরকার। এই ডেটাকে ক্রমগত আমাদের আপডেট করা এবং প্লানিং প্রোসেস এর অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। কাজের অগ্রগতিতে সমন্বয় দরকার। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে ম্যানুয়ালি অনেক ডেটা কালেক্ট হয় যেটার কোনো ব্যবহার হয় না। প্রত্যেকবার বন্যা হলেই কতটা ক্ষতি হয়েছে তার ডেটা লিপিবদ্ধ করা হয়। সেখান থেকে ডেটা নিয়ে যদি সমন্বিত করা হয়, তবে আমরা একটা কাঠামো পেতে পারি। অতএব, সামগ্রিকভাবে একটা সিস্টেম ডেভলাপ করতে হবে এবং একটি জায়গা থেকে তা পরিচালনা করতে হবে। ডাটা নির্ভর সিদ্ধান্ত তৈরি হলে তা অনেকটা বাস্তবসম্মত হতো।’

হাসিন জাহান জানান, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ করছে। আমরা এগুলোর সুফল দেখতে পাবো আশা করছি। ওয়াটারএইডের উদ্দ্যোগে বর্তমানে ন্যাশনাল ওয়াস একাউন্ডস নামে আমরা একটা স্টাডি করছি এবং ডাব্লিওএইচও, ইউনিসেফ সহ অনেকে জড়িত আছে, যেখান থেকে আমরা এই সেক্টরের সাধারণ মানুষের ব্যয় সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছি। পানি ও স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা অনেক।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টরগুলোকে যুক্ত না করে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে না। সেক্ষেত্রে, জনসাধারণ এবং প্রাইভেট সেক্টরকে যুক্ত করতে সঠিক এবং সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।’

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here